বলা হয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কারণে আমাদের মা, বোন, কন্যারা নানা দিকে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পাঁচবারে ২৫ বছর এ দেশে নারী সরকারপ্রধান ছিলেন ৫৪ বছরের মধ্যে। সমাজে কর্তৃত্ব নিতে সরকারের কোন শাখায় অধিষ্ঠিত হওয়া দরকার। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্ব হলো উচ্চতম স্থান। তাতেও বৈষম্য দূর হয়নি। বলা হয়- ’৭১-এ নারীরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন। কিন্তু ’৭৩-এ অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম সিভিল সার্ভিসে কোনো নারী পাস করেননি। ’৭৭ ব্যাচে একজন উত্তীর্ণ হন। ’৭৯-তেও একজন আসেন। ’৮১ ব্যাচে ১৩১ জনের মধ্যে চারজন নারী উত্তীর্ণ হন। দেশের প্রথম মহিলা জয়েন্ট সেক্রেটারি পাওয়া যায় ১৯৮৫ সালে। প্রথম সচিব হন ২০০১ সালে, যিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৮ সালের কেন্দ্রীয় সুপেরিয়র সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনি একা পাস করেন। ’৮২ থেকে নারীদের প্রবেশ বৃদ্ধি পেলেও ২০০৬-এর অগে আর কোনো মহিলা সচিব পদে পদোন্নতি পাননি। পুলিশে ২০১৬-তে প্রথম কোনো মহিলা অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতি পান। তেমনি বিচারপতি, সচিব, কর, কাস্টমস, অডিট কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত বা মন্ত্রী পদেও নারীদের পদায়ন সমগ্র পদসংখ্যার তুলনায় ৫ ভাগের ১ ভাগও হয়নি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ নারী থাকা সত্ত্বেও। এ সংখ্যাল্পতার কারণ পুরুষতান্তিক সমাজ বা নারীর প্রতি একপেশে দৃষ্টি বা বৈষম্য নয় বরং যোগ্যতার বিবেচনায় পুরুষের তুলনায় নারীদের পিছিয়ে থাকা, যা অনেক আগে থেকেই সমাজে চলে এসেছে। নারী শিক্ষায় লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ডের বিষয়টি রাষ্ট্রকে ঠিক করতে হবে। কোনো পদের যোগ্যতা প্রমাণ করার পরই সে পদে কাউকে নিয়োজিত করা যুক্তিযুক্ত। পড়াশোনা অনেক পড়ে শুরু করার কারণেই নারীরা নানা স্থানে প্রবেশ করতে পারছেন না। তাই জনসংখ্যার ৪৮.৯০ শতাংশ হয়েও এবং পদ খালি থাকা সত্ত্বেও কেবল সহানুভূতি দিয়ে তাদের দিয়ে পদপূরণ করা যাচ্ছে না। কর্তৃত্বে নারী না পুরুষ আছেন তা দিয়ে বিষয়টিকে মূলত নির্ধারণ করা যাবে না।
মাসুদ আহমেদ
কথাসাহিত্যিক ও প্রজাতন্ত্রের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল
[email protected]