চট্টগ্রামে শহরের প্রাণকেন্দ্র জিইসি ষোলোশহর এলাকাটি। এর মধ্যে অবস্থান নাসিরাবাদ সরকারি কলোনি (সিঅ্যান্ডবি) প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি অনেক পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১১০০ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। আশির দশকে তখনকার সরকার একটি আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণ করে। এ ভবনটি ২০২৩ সালে নিচতলায় কিছু পিলারের ফাটল দেখা দেয়। তাই তাৎক্ষণিক বিদ্যালয় থেকে পাঁচলাইশ থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়। এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভবনটি ব্যবহারে অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সবাই মিলে খোঁজাখুঁজির পর পাশে একটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একান্ত সময় কাটানোর ক্লাব ঘরটি ঠিকানা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয় কার্যক্রম চলছে। গরমের দিনে প্রচণ্ড গরম, ওপরে টিন নষ্ট হওয়ার ফলে বৃষ্টির পানিতে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়। একটি ভবনের জন্য সবকিছু নিমেষে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রায় তিন বছর হতে চলছে এখনো ভবন নির্মাণের কোনো বরাদ্দ হয়নি। এতগুলো ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন টালমাটাল। একটি ভবনই আমাদের আশা-ভরসার ঠিকানা। একটি ভবন দিন, আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠিকানা দিন। মৌলিক অধিকার দিন। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্ত করুন। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্তিশালী না হলে শিক্ষা এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই এ এলাকার শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ খুব প্রয়োজন।
সাদিয়া আক্তার সালমা
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নাসিরাবাদ সরকারি কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
এবং সদস্য, খবরের কাগজ-বন্ধুজন, চট্টগ্রাম