পাসপোর্ট আছে তো?
উমরায় যাওয়ার জন্য মেয়াদযুক্ত পাসপোর্ট দরকার। পাসপোর্ট থাকলে দেখে নিন—পর্যাপ্ত মেয়াদ আছে কিনা। মেয়াদ থাকলে কোনো সমস্যা নেই। মেয়াদ না থাকলে মেয়াদ ঠিক করে নিন। আর যদি পাসপোর্ট-ই না থাকে, তাহলে দ্রুত পাসপোর্ট করুন।
ই-পাসপোর্ট
বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এখন ঘরে বসে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। www.epassport.gov.bd ঠিকানা ভিজিট করে অনলাইনে আবেদন করুন। তবে খুব সতর্কভাবে এ আবেদন করতে হয়। কোনো ভুল হলে, তা সংশোধন করা অনেক ভোগান্তির ব্যাপার। আর একটি ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে একবারই আবেদন করা যায়। সুতরাং সতর্কভাবে অভিজ্ঞ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আবেদন করুন।
এজেন্সির সঙ্গে যাবেন নাকি একা?
বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ মানুষ এজেন্সির মাধ্যমে উমরায় যান। ভিসা, টিকিট, হোটেল বুকিং ও খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনার জন্য যাচাই করে বুঝেশুনে নির্ভরযোগ্য ও সেবাদানকারী মানসিকতাসম্পন্ন এজেন্সি নির্বাচন করুন। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও আস্থাভাজন মুয়াল্লিম ও পূর্বে উমরা পালনকারী ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করুন। এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি হলে তারাই উমরা সফরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা (ভিসা, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও খাবার) করে দেবেন।
এজেন্সি ছাড়া একা গেলে সমূহ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। যাদের আগে কোনো দেশে ভ্রমণ কিংবা উমরার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য একাকী সফর কষ্টসাধ্য। আর বিধিবিধান জানা না থাকলে উমরার কাজগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে সমস্যা হয়। তাই এজেন্সির মাধ্যমে দলবদ্ধভাবে অভিজ্ঞ আলেম বা মুয়াল্লিমের সঙ্গে উমরায় যাওয়া উত্তম। এক্ষেত্রে খরচও কম হয় এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়
ভিসা, টিকিট, হোটেল ও খাবার কনফার্ম
বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করে এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দিন এবং ভিসা ও বিমানের টিকিট কনফার্ম করুন। উমরায় যাওয়ার তারিখ, ফিরে আসার তারিখ কনফার্ম করাসহ কোন বিমানে যাচ্ছেন, ফ্লাইট কি সরাসরি নাকি ট্রানজিট, মক্কা-মদিনায় কোন হোটেলে থাকবেন, হোটেল কতটুকু দূরে অবস্থিত, কীভাবে থাকবেন, প্রতি রুমে কতজন থাকবেন, কত বেলা খাবার পরিবেশন করা হবে, কোন বেলায় কি খাবার দেওয়া হবে, মক্কা-মদিনার জিয়ারতে কোন কোন স্থান দেখানো হবে—সবকিছু ভালোভাবে জেনে নিন। পাশাপাশি এজেন্সিকে দেওয়া টাকার বা লেনদেনের মানি রসিদ গ্রহণ করুন।
যোগ্য মুয়াল্লিম ও উত্তম সফরসঙ্গী নির্বাচন
উমরা সফরে যোগ্য আলেম বা মুয়াল্লিম নির্বাচন করা জরুরি। একাধিকবার উমরার সফরকারী অভিজ্ঞ, ভালো ও আমলি, পরহেজগার আলেম হলে সবচেয়ে উত্তম। এ ছাড়া ভালো সফরসঙ্গী নির্বাচনও জরুরি। সফরসঙ্গী একাধিক হলে নিজেদের মধ্যে উপযুক্ত একজনকে অনুসরণ করার মানসিকতা নিয়ে আমির (জিম্মাদার) নির্বাচন করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি যখন কোথাও সফর করবে, তারা যেন নিজেদের মধ্যে একজনকে আমির নিযুক্ত করে নেয়।’ (আবু দাউদ, ২৬০৯)
প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন
উমরার বিধিবিধান ও নিয়মকানুন শুধু বই পড়ে বা শুনে আত্মস্থ হয় না। এজন্য সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা জরুরি। সফর শুরু করার আগে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুয়াল্লিমের তত্ত্বাবধানে অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনীয় পড়াশোনা
উমরার গুরুত্ব ও বিধি-নিষেধ এবং পালনের নিয়মকানুনসহ গোটা উমরা সফরটি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখতে হবে। তাই এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিষয়াদি পড়ুন এবং জানুন। প্রাসঙ্গিক বিষয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে ঠিকমতো প্রস্তুত করে নিন। নামাজের বিধান জানার পাশাপাশি কিছু ছোট সুরা শুদ্ধভাবে মুখস্থ করুন। দৈনন্দিন ফরজ ও পবিত্রতা সম্পর্কে জানুন। আরও জানুন বিমানবন্দর ও বিমান ও হোটেলের নিয়মকানুন।
স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রসঙ্গ
উমরায় যাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিন। সৌদি আরবে নিজস্ব ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ বিক্রি করা হয় না। সুতরাং সফরে যত দিন থাকবেন, তত দিনের চেয়ে অতিরিক্ত ওষুধ দেশ থেকেই নিয়ে নিন।
আগে মক্কা নাকি মদিনা?
ঢাকা থেকে আগে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাবেন নাকি আগে মদিনায় যাবেন—তা জেনে নিন। সফর যদি আগে মদিনায় হয়, তাহলে ঢাকা থেকে স্বাভাবিক পোশাকে সফর করুন। মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময় মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধুন। আর যদি সরাসরি জেদ্দা হয়ে মক্কা মুকাররমায় সফর হয়, তাহলে বাসা থেকে কিংবা বিমানবন্দরে বা ট্রানজিট দেশে অথবা মিকাতের আগে বিমানে ইহরাম বাঁধুন। তবে বাসা থেকে অথবা বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ইহরাম বাঁধা উত্তম। পরবর্তী স্থানগুলোতে এ ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। উমরার ক্ষেত্রে আগে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাওয়া উত্তম। কারণ উমরার সব কাজ মক্কাকেন্দ্রিক। মদিনাতে উমরার বিশেষ কোনো কাজ নেই। সুতরাং আগে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যান।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক