ফেসবুকের আগমন খুব বেশি দিন হয়নি। আর এর মধ্যেই এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনা আমরা ফেসবুকে আপডেট দিয়ে থাকি। কিন্তু যদি আর কয়েক শ বছর আগে ফেসবুকের আবির্ভাব হতো, তা হলে ব্যাপারটা কেমন হতো? আসুন কল্পনা করি। লিখেছেন ফখরুল ইসলাম
আইজ্যাক নিউটন: ফেসবুকে ক্যান্ডি ক্রাশ তার অত্যন্ত প্রিয় একটা খেলা হতো। তিনি প্রায়ই আপেলগাছের নিচে বসে আইপ্যাডে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলতেন। কিন্তু মাঝে মধ্যেই গাছ থেকে আপেল পড়ে তার খেলার বারোটা বাজাত। তাই বাধ্য হয়েই তিনি আর কখনো আপেলগাছের নিচে বসতে যেতেন না। বরং বালিশে হেলান দিয়ে গেমটি খেলায় স্বাচ্ছন্দ্য পেতে শুরু করতেন। এতে করে তার মাথায় আর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের কথা ভুলেও আসত না।
সম্রাট শাহজাহান: সম্রাট শাহজাহান সুদর্শন হওয়ায় এবং বিপুল অর্থ-প্রতিপত্তির কর্ণধার হওয়ায় তার প্রোফাইলে নারী ফেসবুকাররা কিলবিল করত। ফেসবুক সম্রাট শাহজাহানকে অগণিত প্রণয় এবং ততোধিক বিবাহ সম্পাদন করার সুযোগ তৈরি করে দিত। সারা দিন ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকার ফলে বেগম মমতাজকে তিনি তেমন একটা সময় দিতে পারতেন না। এতে করে তার মনে কখনোই তাজমহল তৈরি করার কথা জন্মাত না।
নিল আর্মস্ট্রং: চাঁদে যাওয়ার পথে পুরোটা সময় লুনার মডিউল ঈগলে বসে গ্রুপ চ্যাট করে কাটাতেন চাঁদে অবতরণ করা প্রথম মানব নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখেই তিনি স্ট্যাটাস দিতেন, ‘দ্যাটস ওয়ান স্মল স্টেপ ফর ম্যান, ওয়ান জায়ান্ট ল্যাপ ফর ম্যানকাইন্ড।’ প্রোফাইল পিকচারটাও চেঞ্জ করে ফেলতেন সেখানে বসেই। এ সময় সে ছবিতে কোটি কোটি লাইক পড়ত।
সক্রেটিস: অন্যের মধ্যে স্বেচ্ছায় জ্ঞান বিতরণ করা ছিল সক্রেটিসের কাজ। নিজে কিছু শিখে তা অন্যকে না শেখানো পর্যন্ত তার ঘুম হতো না। ফেসবুকে তিনি যেদিন প্রথম আইডি ওপেন করতেন, সেদিন থেকেই তিনি অন্যকে ফেসবুক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা শুরু করতেন। আশপাশের সবাইকে তিনি ডেকে ডেকে ফেসবুকের নানা ফিচার ও অ্যাপস সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য জানাতে শুরু করতেন।
গোপাল ভাঁড়: নদিয়া অঞ্চলের প্রখ্যাত রম্য গল্পকার গোপাল ভাঁড় ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেই তার দৈনন্দিন মজার কর্মকাণ্ডগুলো ওয়ালে শেয়ার করতেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে ফেসবুকিং করাতেই তিনি মজা পেতেন বেশি। ফলে রাজা তার ওপর বিরক্ত হতেন। রাজ্যসভায় ভাঁড় না থাকায় দরবারের পরিবেশ সব সময় গরম থাকত বলে রাজ্যজুড়ে দুঃশাসন শুরু হতো।
সিরাজউদদৌলা: বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলা তার কুচক্রী মহল, বিশেষ করে মীর জাফর, ঘসেটি বেগম ও মিরনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তাদের গ্রুপ চ্যাটে করা চক্রান্তগুলো ফাঁস করতেন। এর পর এদের বন্দি করে সব বিদ্রোহীর নাম সংগ্রহ করে তাদের আটক করতেন। সব শেষে বিশ্বস্ত সেনাপতিদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন পলাশীর যুদ্ধে। বিদ্রোহী সেনা থাকত না বলে অল্প সময়েই বীর সেনাপতিদের কারণে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করতেন। ফলে বাংলা কখনোই ইংরেজদের কাছে পরাধীন থাকত না।