আজ ১০ তারিখ। স্বপন গত মাসে আমার কাছ থেকে যে ২ হাজার টাকা ধার নিল, বলল এই মাসের ১০ তারিখে শোধ করে দেবে। আজ সেই বিশেষ দিন। কিন্তু স্বপনের ফোন নাম্বার নেই। কীভাবে যে যোগাযোগ করি। যদিও ফেসবুক আছে ওর। কিন্তু তেমন একটা ব্যবহার করে না।
স্বপন আমাদের পাশের গ্রামের ছেলে। ফেসবুকে পরিচয়। আগে চিনতাম। কিন্তু ফেসবুকের কারণে সম্পর্ক দৃঢ় হলো। হুটহাট কয়েকবার দেখা হলো চলতি পথে। প্রতিবার টং দোকানে নিয়ে চায়ের সাময়িক আড্ডা জমিয়েছে আমার সঙ্গে।
গত মাসে হঠাৎ ২ হাজার টাকা ধার চায়। আমি না করিনি। বলেছে ১০ তারিখে দেবে। এখন যে কোথায় ওর নাগাল পাই! ওই তো স্বপন আসছে...
— স্বপন ভাই, আপনাকে খুঁজছি।
— কেন?
— আজ ১০ তারিখ। আমার টাকাটা দেওয়ার কথা।
— আরে টাকা তো ১০ দিন আগেই রেডি করে রেখেছি।
— দেন তাহলে।
— বাট টাকাটা বউয়ের কাছে।
— আপনাদের বাড়িতে যাই চলেন।
— আরে বোকা। বউ টাকা সিন্দুকে ভরে চাবি নিয়ে চলে গেছে হাসপাতাল।
— হাসপাতালে কেন?
স্বপন কোনো কথা বলছে না। মুখটা মলিন দেখে বুঝলাম হয়তো বউয়ের কোনো অসুখ। আমিও আর জোর করে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। বললাম—আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে পরে দিয়েন টাকা। তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক। আর বলবেন শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে।
স্বপন বলল— আচ্ছা।
পরের মাসে আবার স্বপনের সঙ্গে দেখা পথে। টাকা চাইতে বলল, টাকা তো বউয়ের কাছে। বউ সেটা সিন্দুকে ভরে চাবি নিয়ে হাসপাতালে গেছে।
আমি আর আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করি না। বেচারি হয়তো কঠিন কোনো রোগে ভুগছেন। এজন্য বারবার হাসপাতালের দ্বারস্থ হন। স্বপন চলে গেল।
পরের মাসে আবার দেখা হতেই একই ঘটনা। তার বউ নাকি সিন্দুকে টাকা ভরে চাবি নিয়ে হাসপাতালে চলে গেছে! তবে কি বউয়ের জটিল কোনো রোগ? ক্যানসার? টিউমার?
— ভাবি এত হাসপাতালে যায় কেন?
— ইয়ে মানে..
— আমার মনে হয় আপনাদের বাচ্চা হবে। এজন্য ঘন ঘন হাসপাতালে যেতে হয়।
স্বপন কোনো কথা বলে না। নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আজ তিনি চলে যাওয়ার পর আবার কেমন জানি খটকা লাগল। সত্যি কি ওনার বউ টাকাগুলো সিন্দুকে ভরে তালা মেরে চাবি নিয়ে হাসপাতালে চলে যান! নাকি আমাকে টাকা না দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে একটা নাটক সাজান। আমার মনে হয় এমনটিই হবে। তা না হলে প্রতিবার যখন দেখা হয়, কেবল ওই দিনই বুঝি তার বউ হাসপাতালে যান! নাহ্, কথাগুলো আমার কাছে মিথ্যা মনে হচ্ছে। এর একটা তদন্ত করা দরকার।
একদিন বাজারের একটি টং দোকানে দেখি স্বপন আর একটা ছেলে চা খাচ্ছে আর হাসাহাসি করছে। আমি দূর থেকে তাদের কার্যকলাপ দেখলাম। চা খাওয়া শেষে স্বপন চলে গেলে আমি ছেলেটির কাছে আসি।
— স্বপন ভাই আপনার কী হন?
— আমার দুলাভাই।
— আপন?
— জি। কেন? কোনো সমস্যা?
— আচ্ছা আপনার বোন কি অসুস্থ?
— আমার তো বোন অনেক। সুমি, সুবর্ণা, সুস্মিতা, সুষমা। আপনি কোনটার কথা জিজ্ঞেস করতেছেন?
— স্বপন ভাইয়ের বউয়ের কথা।
— না। তিনি সুমি আপা। সুমি আপা অসুস্থ হবেন কেন?
— না মানে। তিনি আসলে ঘন ঘন হাসপাতালে যান তো!
— হাসপাতালে যাবে না? সুমি আপা তো হাসপাতালের নার্স।