বউকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি অসুস্থ কাজিনকে দেখতে। গতকালই বেচারা অল্পবয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। আজ সকালে খবর পেলাম সে হাসপাতালে ভর্তি। ডায়রিয়া হয়েছে। বাসর রাতের পরেরদিন কারও ডায়রিয়া হতে পারে এটা আমার জানা ছিল না।
মেট্রোরেলে উঠেছি। বউ রাগ করে নারীদের পাশে একা বসেছে। আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পাশে এক মেয়ে বসে আছে, মেয়েটাকে চেনা চেনা লাগছে। নিশ্চয় কোথাও দেখেছি। চোখাচোখি হতেই আমি বললাম, হাই।
মেয়েটা চোখ সরিয়ে নিল। আবারও চোখাচোখি হতেই বললাম, হ্যালো।
আবারও চোখ সরিয়ে নিল। আমি ডাকলাম, ম্যাডাম শুনছেন?
মেয়েটা একবার তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিয়েছে। বুঝলাম খুব দেমাগ। মেজাজ গরম হয়ে গেল। পুরুষ হয়েছি বলে আমরা কী মানুষ না? একটু কথা বললে কী হয়?
মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চাপল। স্টেশনে নামার জন্য মেয়েটা রেডি হতেই আবার চোখাচোখি হয়ে গেল। বললাম, ম্যাডাম, আপনার জামাইকে বলবেন আমার বউকে যেন ডিস্টার্ব না করে।
মেয়েটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, কবে থেকে ডিস্টার্ব করে? মোবাইলে না রাস্তাঘাটে?
আমি জবাব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে নেমে গেলাম।
আমি আর বউ আগে আগে হাঁটছি, মেয়েটা পেছনে পেছনে দৌড়ে আসছে, এই যে ভাই, হ্যালো। একটু শুনবেন? হ্যালো ভাই, এই যে...
মেয়ের ডাক শুনে আমি রীতিমতো দৌড়াচ্ছি। এখন আর তাকে পাত্তা দেওয়ার মানে হয় না। বউ আমার সঙ্গে হাঁটায় পারছে না বলে পেছনে পড়ে গেল। মেয়েটা দৌড়ে এসে আমার বউকে ধরে ফেলল। দুজনে কথা বলতে লাগল। আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছি। ফাজলামো করতে গিয়ে ফেঁসে গেলাম না তো!
মেয়েটা চলে যেতেই বউ কাছে এসে চোখ গরম করে বলল, তুমি নাকি মেয়েটাকে বলেছ, সে আমার চেয়ে সুন্দরী?
- না, আমি কখনোই এমন কথা বলিনি। আজকালকার বিবাহিত মেয়েদের নিয়ে হয়েছে এক জ্বালা, এরা জামাইয়ের সঙ্গে মিথ্যা কথা তো বলবেই, বাইরের মানুষের সামনেও ফটাফট মিথ্যা কথা বলতে পিছপা হয় না।
- তুমি কী করে বুঝলে এই মেয়ে বিবাহিত?
- আরে ওকে দেখলেই তো বোঝা যায়।
বউ রাগী গলায় বলল, এই মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি। আর পুলিশে চাকরি করে। ডিউটি করে বাসায় ফিরছে।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। এই মেয়ে ধরতে পারলে চৌদ্দ শিক কনফার্ম ছিল।
হাসপাতালে গিয়ে দেখি কাজিন কোঁ কোঁ করে কোকাচ্ছে আর একটু পরপর বাথরুমে দৌড়াচ্ছে। নতুন বউ ঘোমটা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি বললাম, কী রে, কাহিনি কী? একেবারে দেখি চিমসা হয়ে গেছিস। কিছু খাসনি? হলো কীভাবে?
কাজিন দেখি আমার বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। তোর ভাবি না!
কাজিন চিঁহি চিঁহি সুরে বলল, ভাই রে, সবকিছু অটো হয়ে গেছে। পেটের ভেতর অলটাইম রিংটোন বাজছে। মিসকল দেওয়ারও টাইম দিচ্ছে না। আনলিমিটেড আউটগোয়িং হচ্ছে।
অল্পবয়সী নতুন বউ কাজিনের কথার আগামাথা কিছু না বুঝে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ওদিকে আমার বউ গোমড়া মুখে বসে আছে।
কাজিন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, এমন সময় ডাক্তার রিপোর্ট নিয়ে হাজির। আমি বললাম, ডাক্তার সাহেব এসব হলো কীভাবে?
ডাক্তার বললেন, ফুড পয়জনিং।
আমি চিন্তিত হয়ে বললাম, ওর গতকাল বাসর রাত ছিল। বাইরে তো কিছুই খায়নি।
ডাক্তার সাহেব রিপোর্ট দেখতে দেখতে বললেন, তার শরীরে পয়জন পাওয়া গেছে। এরকম পয়জন সাধারণ নিম্নমানের লিপস্টিকেই পাওয়া যায়।
কথা শুনে আমি আর বউ মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করলাম। বউ রাগ ভুলে ফিক করে হেসে ফেলল।