ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব

হাসানের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
হাসানের পরিকল্পনা
ছবি এঁকেছেন মাসুম

নতুন বিয়ে করেছে হাসান। ১৫ দিন পর শ্বশুরবাড়িতে গেল সে। বউয়ের ভাষায় ‘অনেকদিন পর’। শুরু হলো ব্যাপক আদর আপ্যায়ন। তার জন্য শাশুড়ি হরেক রকম খাবারদাবারের আয়োজন করেছেন। গরুর গোশত, মুরগির গোশত, ছোট মাছ, বড় মাছসহ নানা আইটেমের খাবারদাবার। এত খাবার দেখে সে আনন্দে উদ্বেলিত। কোনটা রেখে কোনটা খাবে তা বাছাই করতে গিয়েই ক্লান্ত সে।
সন্ধ্যায় নাশতার জন্য ১০-১২ পদের সুস্বাদু পিঠার আয়োজন। যেন পিঠার উৎসব। খাবারদাবার, আন্তরিকতা ও অকৃত্রিম আপ্যায়নে সে আনন্দে আহ্লাদিত। আনন্দ প্রকাশের কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। আবেগের বশে বউকে বলে বসল, জানু, ১০ দিন শ্বশুরবাড়িতে কাটিয়ে দিলাম। আদর-যত্নের কোনো কমতি নেই। এমন সুযোগ তো যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারি।
স্ত্রী প্রশ্ন করল, কীভাবে কাজে লাগাতে চাও?
— মনে করো আমি আরও দুটি বিয়ে করলাম। মাসের প্রথম ১০ দিন তোমার বাবার বাড়িতে। দ্বিতীয় ১০ দিন দ্বিতীয় বউয়ের বাবার বাড়িতে, আর তৃতীয় ১০ দিন তৃতীয় বউয়ের বাবার বাড়িতে বেড়াব। তাহলে খাবারদাবার নিয়া আমাকে আর কোনো নিয়ে টেনশন করতে হবে না। অফিসে বসের প্যারা সহ্য করতে হবে না। আমি হয়ে যাব দেশের সবচেয়ে সুখী মানুষ। তুমি কী বলো জানু?
স্ত্রী নীরব।
হাসান বলল, তুমি সম্মতি না দিলেও সমস্যা নেই। হাইকোর্ট তো আমাদের সে সুযোগ দিয়েছে। কাজেই এ সুযোগ মিস করা যাবে না। জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করব। আর ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় বিয়ে। তাহলে আমাকে আর পেছনে ফিরতে হবে না।
প্রচণ্ড রেগে গেল বউ। হাতে রাখা মোবাইল দিয়ে হাসানের মাথায় দিল বাড়ি। একদিন পর ঢাকা মেডিকেলে জ্ঞান ফিরল তার। বউকে জিজ্ঞেস করল, জানু কোথায় এলাম?
— তোমার দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে।
— বিয়ে না করেই দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে! কীভাবে এলাম?
— তোমার দ্বিতীয় বউয়ের নিমন্ত্রণে। 
— বিয়ে করলাম কবে? এখানে কোনো আদর যত্ন নাই কেন? পিঠাপুলি খাবারদাবার কোথায়? 
— আরেকবার যদি বিয়ের কথা বলো তাহলে মাথায় দেব আরেকটা বাড়ি। সেই বাড়িতে একেবারে আইসিইউ, মানে তৃতীয় শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে। 
শুনে হাসানের মাথার ব্যথাটা হঠাৎ বেড়ে গেল। তার বিয়ে করার স্বপ্নটা কি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? চোখ ফেটে এল জল।

অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম
এঁকেছেন মাসুম

হাশেম কাকা সবকিছুতেই সমাধান খুঁজে পান। মরিচা ধরা তালা থেকে শুরু করে ভাঙা সম্পর্ক–সবকিছুর জন্য তার কাছে একটাই জবাব, ‘ভাই, আগে অ্যান্টি-করোসিভ লাগাও।’
কেউ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কাকা, মানুষের সম্পর্কেও আবার অ্যান্টি-করোসিভ লাগে নাকি?’
কাকা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে গম্ভীর মুখে বলেন, ‘লাগে তো! আজকাল মানুষের মনে লোহার থেকেও বেশি দ্রুত মরিচা ধরে।’
পাড়ার মিজান সাহেব তখন নিজের সংসারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন, ‘আমার বউ তো ছোট বিষয়েও রাগ করে। এর কোনো অ্যান্টি-করোসিভ আছে?’
হাশেম কাকা চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। তার পর বললেন, ‘আছে। প্রতিদিন একটু প্রশংসা, মাঝে মাঝে চা বানিয়ে দেওয়া, আর মাসে একদিন বাজারে গেলে নিজে থেকে দাম না জিজ্ঞেস করে সঙ্গে সঙ্গে থাকা।’
মিজান সাহেব হতাশ হয়ে বললেন, ‘এত দামি জিনিস? বাজারের অ্যান্টি-করোসিভই সস্তা!’
কাকা হেসে বললেন, ‘বাজারেরটা লোহার মরিচা ঠেকায়, আর এটা সংসারের মরিচা।’
সেদিন থেকে পাড়ায় নতুন তত্ত্ব চালু হলো–
লোহার জন্য রং, আর সম্পর্কের জন্য যত্নের ঢং।
কিন্তু বিপদ হলো রহিম মিয়া ব্যাপারটা একটু বেশি সিরিয়াসলি নিয়ে ফেললেন। তিনি বাড়ির দরজা, জানালা, সাইকেল–সবখানে অ্যান্টি-করোসিভ লাগালেন। এমনকি স্ত্রীর পুরোনো রাগের তালিকার খাতায় পাশে লিখে রাখলেন–‘এখানে প্রলেপ দিতে হবে।’
স্ত্রী খাতা দেখে বললেন, ‘এই যে, আমার রাগেরও আবার মরিচা ধরে?’
রহিম মিয়া বললেন, ‘ধরে তো! পুরোনো রাগগুলোই তো সবচেয়ে বেশি জমে থাকে।’
স্ত্রী মুচকি হেসে বললেন, ‘তা হলে আগে তোমার জিহ্বায় অ্যান্টি-করোসিভ লাগাও। বেশি কথা বলার কারণে ওখানেই ক্ষয় বেশি।’
তার পর থেকে রহিম মিয়া নাকি কম কথা বলেন। পাড়ার লোকজন বলে, ‘দেখেছ, অ্যান্টি-করোসিভের আসলে কাজ করা শুরু হয়েছে!’
হাশেম কাকার শেষ মন্তব্য, ‘জীবনে মরিচা পড়বেই। তবে সময়মতো একটু হাসি, একটু ভালোবাসা আর একটু ক্ষমার প্রলেপ দিলে মানুষও চকচকে থাকে।’
আমরা বুঝে গেলাম–অ্যান্টি-করোসিভ শুধু লোহার নয়, সম্পর্কেরও প্রয়োজন।

ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ
এঁকেছেন মাসুম

আমার বিয়ের কয়েক বছর পরের ঘটনা। তখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে। ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার ডাই হার্ড ফ্যান। আটঘাট বেঁধে আর্জেন্টিনা আর ক্যামেরুনের খেলা দেখতে বসেছি। প্রথম রাউন্ডের প্রথম খেলায় আর্জেন্টিনা হেরে বসে আছে। আজকের খেলায় হারলে আর্জেন্টিনা প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ।
সবে মাত্র খেলা শুরু হবে, বউ এসে বলল, আজ যে তোমার একটা দাওয়াতে যাওয়ার কথা সেটা কি খেয়াল আছে?
মনে পড়ল, আজ আমার শালার জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা। আমি বললাম, বাদ।
বউ বলল, কী বাদ? খেলা দেখা? 
– না। মেয়ে দেখতে যাওয়া বাদ। দুনিয়া তছনছ হয়ে গেলেও আজ মেয়ে দেখতে যাওয়া সম্ভব না। আজ ক্যামেরুনকে যেকোনো উপায়ে হারাতেই হবে। ইজ্জত কা সওয়াল।
বউ অভিমান করে বলল, তুমি আমার কথা শুনবে না?
– তোমার কথা তো বহুদূর, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এসে অনুরোধ করলেও কাজ হবে না। আর্জেন্টিনার আজ বাঁচা মরার লড়াই।
– লক্ষ্মীটি! তুমি আমার কলিজার টুকরা...
– রাখো তোমার কলিজার টুকরা, অন্য সময় তো লোহার টুকরা, নিদেনপক্ষে একটা কাঠের টুকরা বলেও ডাক দেও না।
বউ এবার হুমকি দিল, আজ যদি আমার কথা না শোনো তবে আমার মরা মুখ দেখবা।
আমি হেসে ফেলে বললাম, আরে ধুর! তোমার জীবিত মুখই ঠিকমতো দেখতে চাই না, আবার মরা মুখ দেখব! ছ্যা ছ্যা!
বউ রাগ করে উঠে গেল। আমি খেলায় মেতে গেলাম। 
কিছুক্ষণ পর বউ ফিরে এসে বলল, আচ্ছা, এই ফুটবল খেলা দেখে কী মজা পাও? একটা বল নিয়ে শুধু দৌড়াদৌড়ি। কোনো সুস্থ মানুষ এসব করে? 
আমার বউ খেলাধুলার খ-ও বোঝে না, পৃথিবীতে শুধু দুজন খেলোয়াড়ের নাম জানে। মাশরাফি আর তামিম ইকবাল। তাও মানুষের মুখে শুনে শুনে। তামিমের ব্যাটিং একদিন তারে দেখাইছিলাম।
– তাহলে তুমি যাবে না? 
আমি বললাম, না। প্রয়োজনে শহিদ হয়ে যাব, এই ঘরে আজ রক্তারক্তি হয়ে যাবে, রাম দা নিয়ে কোপাকোপি হবে, তবু আমার কথা নড়নচড়ন হবে না। – এসব বলে লাভ হবে না। আমি তোমার কাপড় ইস্ত্রি করে আনছি, তুমি রেডি হও।
বউ চলে যেতেই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। যতই জারিজুরি করি, বউ রেগে গেলে খবর আছে।
খেলা শুরু হয়ে গেছে। খেলার ১০ মিনিটেই ক্যামেরুন এক গোল দিয়ে বসেছে। আমি ঘামতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর আরেকটা! আমি উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠলাম। 
চিৎকার শুনে বউ ইস্ত্রি করা ফেলে দৌড়ে এসে দেখে আমি সোফায় পড়ে আছি। বউ বলল, কী হয়েছে? 
আমি বললাম, তাড়াতাড়ি প্রেশারের ট্যাবলেট দাও, উত্তেজনায় প্রেশার বেড়ে গেছে।
বউ দৌড়ে গিয়ে অন্য রুম থেকে ট্যাবলেট নিয়ে এল। ওষুধ খেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছি, এমন সময় কাপড় পোড়া একটা গন্ধ নাকে এসে লাগল। বউকে বলতেই ভোঁ করে দিল একটা দৌড়! ওমা! বউ দৌড়ায় কেন?
কিছুক্ষণ পর হতাশ মুখে বউ সামনে এসে দাঁড়াল। হাতে এই ঈদে কেনা আমার শখের পাঞ্জাবি। সামনে এনে মেলতেই দেখা গেল মাঝখানে জানালার মতো হয়ে গেছে। সেখান থেকেই পোড়া গন্ধ আসছে। পাঞ্জাবিটা কিনে আমি শুধু ঈদের দিন একবার পরেছি।
ভেতরে ভেতরে আমি এত খুশি হলাম যা বলার না। যাক, বউকে ঘায়েল করার অস্ত্র পাওয়া গেছে। পোড়া পাঞ্জাবি হবে বউকে ঘায়েল করার মোক্ষম সুযোগ। 
গম্ভীর মুখ করে বসে রইলাম। ভীষণ রাগী রাগী চেহারা নিয়ে বউয়ের দিকে তাকালাম। বেচারা অপরাধী মুখ নিয়ে বসে আছে। আমি নিশ্চিত এখন আর দাওয়াতে যেতে বলবে না।
কোনো কথা না বলে চুপচাপ খেলা দেখতে লাগলাম। ক্যামেরুন গায়ের জোরে খেলছে, আর্জেন্টিনা ভালো খেলেও গোল পাচ্ছে না। আমি হা-হুতাশ করছি। একবার উঠছি আবার বসছি। 
দুই গোলে পিছিয়ে আছে শুনে বউ বলল, আর্জেন্টিনা একটা বিরাট ভুল করে ফেলেছে। 
আমি টিভি থেকে চোখ না সরিয়ে বললাম, কী ভুল?
ক্যামেরুন একটা শক্তিশালী দল। এই দলের বিপক্ষে তামিম আর মাশরাফিরে নামানো দরকার ছিল। এই দুজনকে হায়ার কইরা নিলে নিশ্চিত আজকে আর্জেন্টিনা জিততে পারত।
বউয়ের বিশেষজ্ঞ মতামত শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, মুখ থেকে নিজের অজান্তেই কোঁত করে একটা শব্দ বের হলো। 
বউ বলল, আবার কী হলো? 
আমি বললাম, যদি তোমার জামাইরে জীবিত দেখতে চাও, তবে দৌড়ে গিয়ে আরেকটা প্রেশারের ট্যাবলেট আনো। খেলা বিষয়ে তোমার মতামত শুনে আমার প্রেশার আরও বেড়ে গেছে। 
খেলা বিশেষজ্ঞ বউ আমার ট্যাবলেট আনতে দৌড় শুরু করল।

ডাক্তারের চেম্বারে একদিন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ডাক্তারের চেম্বারে একদিন
ছবি এআই

বিনা দাওয়াতে জ্বর আমার বাড়িতে আণ্ডাবাচ্চা নিয়ে হাজির হয়েছে। কীভাবে তাদের আপ্যায়ন করব বুঝতে পারছি না। আমি জ্বরে কুঁ কুঁ করছি। 
এ অবস্থায় বউ বলছে একজন প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে যেতে। বাঙালির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সবকিছুতেই প্রাইভেট খোঁজা, শুধু চাকরিটা হতে হবে সরকারি।  
বউয়ের কথা অমান্য করে কার সাধ্য?
আগে যতই ভুজুংভাজুং করুক, পুরুষ মানুষ সাধারণত রিং পরার পর থেকেই বউয়ের আনুগত্য মেনে চলতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া তার আর উপায়ও থাকে না। সরি, আমি বিয়ের রিঙের কথা বলি নাই, হার্টের রিঙের কথা বলছি। 
হার্টের রিং পরার পর থেকেই আমি সিংহ থেকে বিড়াল হয়ে গেছি। বউয়ের আঁচলে আশ্রয় নিয়েছি। আগে বউ আমাকে ভয় পেত, এখন আমি বউকে ভয় পাই। 
রেডি হতে গিয়ে দেখি–মানিব্যাগে হাজার দশেক টাকা ছিল, এখন  সাত হাজার। বাকি তিন হাজার গেল কই?
আমি বউকে ডেকে বললাম, তুমি আমার মানিব্যাগ থেকে হাজার তিনেক টাকা নিয়েছ?
বউ বলল, হ্যাঁ, জরুরি দরকার ছিল নিয়েছি। অনলাইনে একটা ড্রেসের অর্ডার করেছি। এতে সমস্যা কী? 
আমি মিনমিনে গলায় বললাম, নিয়ে ভালো করেছ। আমাকে জিগ্যেস করে নিলে ভালো হতো...।
বউ চোখ গরম করে বলল, সব সময় তোমার ওপর নির্ভর করে থাকতে  হবে কেন? তুমি কি আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে দেবে না? 
এরপর আর কথা চলে না। 
তুমি বাসার নিচে গিয়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়াও, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে রেডি হয়ে আসছি। জাস্ট শাড়ি পাল্টাব। 
আমি বাসার নিচে চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। ভাবলাম বড় করে এককাপ চা খাই, ভালো লাগবে। এই দোকানের চায়ের কাপ ছোট। দিন দিন চায়ের কাপ এতটাই ছোট হচ্ছে যে মনে হচ্ছে অচিরেই চায়ের দোকানে ড্রপার সিস্টেম চলে আসবে। তিন ড্রপ পাঁচ টাকা, সাত ড্রপ দশ টাকা।  
চা খেয়ে ঝিম মেরে বসে রইলাম। দোকানের সামনে একজন ভিক্ষুক বসা। তার সামনে ছোট একটা সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে লেখা– নগদ / বিকাশে ভিক্ষা নেওয়া হয়। বিশ টাকা ভিক্ষা দিলে পাঁচ টাকা ক্যাশব্যাক!
আধুনিক যুগে আধুনিক ভিক্ষুক! 
বউ আমাকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেছিল, বের হলো এক ঘণ্টা পর। নায়িকাদের মতো সাজগোছ করা। চোখে আবার লেন্স লাগিয়েছে। এখনকার মেয়েরা সৌন্দর্য বৃদ্ধি  করার জন্য চোখে লেন্স লাগায়। আমাদের বাপ-দাদার সময় একটাই লেন্স ছিল, চোখে ছানি পড়া।
আমি বিরক্ত গলায় বললাম, তুমি জামাইকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছ না ফ্যাশন শো করতে যাচ্ছ?
বউ আমার চেয়েও বিরক্ত গলায় বলল, তুমি কি চাও আমি ফকিরের বউয়ের মতো বের হই? এতে তোমার মান থাকবে? এই রাস্তার মাঝখানে আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাও?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, তিন ধরনের মানুষের সঙ্গে কখনোই ঝগড়া করি না আমি। এরা হচ্ছে নারী, মহিলা এবং বউ। এদেরকে ঝগড়ায় হারানো পুরুষের পক্ষে সম্ভব না। তোমার মতো মোটা মেয়ের সঙ্গে তো আরও না।
আমার ওজন মাত্র বায়ান্ন কেজি। আমি মোটা হলাম কীভাবে? 
আমি আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, আমি তোমার শরীর নিয়ে কথা বলি নাই, মাথার কথা বলছি।
ডাক্তারের ভিজিট দুই হাজার টাকা। 
ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকেছি। ডাক্তার সাহেব রোগের বর্ণনা শুনে বললেন, রাতে কী খেয়েছেন? 
বউ বলল, মাটন বিরিয়ানি, সালাদ, সঙ্গে বাদামের জুস।
ডাক্তার বললেন, এটা আপনার ফেসবুক না, ডাক্তারের চেম্বার। সত্যি করে বলেন আপনার হাজবেন্ড গতকাল রাতে কী খেয়েছেন। 
বউ মিনমিনে গলায় বলল, রুটি আর আলু ভাজি।
ডাক্তার সাহেব খসখস করে কতগুলো পরীক্ষা লিখে দিয়ে বললেন, এই টেস্টগুলো করে নিয়ে আসেন। তার পর ওষুধ দেব।
আমি কুঁ কুঁ করতে করতে বললাম, ডাক্তার সাহেব, এতগুলো টেস্ট যে দিলেন, এর বিল কে দেবে?
ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, কেন? আপনারা দেবেন।
আমরা দেব কেন? আমরা অগ্রিম ফি দিয়ে এসেছি, আপনি রোগ ধরতে না পেরে এতগুলো টেস্ট ধরিয়ে দিলেন। এটা তো আপনার ব্যর্থতা। আপনার ব্যর্থতার দায় আপনার। বিল আপনি দেবেন। 
ডাক্তার সাহেব কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ফিফার বাপ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ফিফার বাপ
এঁকেছেন মাসুম

নতুনপাড়া গ্রামের মানুষ ফুটবল নিয়ে এমন পাগল যে, বিশ্বকাপ এলেই গ্রামের গরু-ছাগল পর্যন্ত যেন দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। কেউ ব্রাজিলের সমর্থক, কেউ আর্জেন্টিনার। বাজার, মাঠ, এমনকি চায়ের দোকানেও আলোচনা চলতে থাকে!
এই গ্রামের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশেষজ্ঞ ছিলেন কুদ্দুস মিয়া। যদিও তিনি জীবনে কোনো ফুটবল ম্যাচ মাঠে খেলেননি, তবু তার দাবি–‘বিশ্বকাপ সম্পর্কে আমি যা জানি, ফিফার লোকজনও তা জানে না!’
গ্রামের লোকজন তাই তাকে ডাকত–‘ফিফার বাপ’।
একদিন বিকেলে মান্নানের চায়ের দোকানে বসে কুদ্দুস মিয়া ঘোষণা দিলেন–‘এইবার বিশ্বকাপ কে জিতবে, আমি এখনই বলে দিতে পারি।’
সবাই চুপ করে তার দিকে তাকাল।
নাসের মিয়া বললেন–‘তা হলে বলেন শুনি কোন দল জিতবে?’
কুদ্দুস মিয়া গম্ভীর মুখে চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন–‘যে দল সবচেয়ে বেশি গোল দেবে, সেই দলই জিতবে।’
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর পুরো দোকান হাসিতে ফেটে পড়ল।
রহিম বলল–‘এইটা তো আমরা সবাই জানি!’
কুদ্দুস মিয়া মাথা নেড়ে বললেন–‘জানো ঠিকই, কিন্তু আমার মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারো কি?’
এর পর থেকে গ্রামের সবাই তাকে আরও বেশি ‘ফিফার বাপ’ বলতে শুরু করল।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে কুদ্দুস মিয়া ঘোষণা দিলেন যে, তিনি নিজের বাড়ির ছাদে গ্রামের সবচেয়ে বড় পতাকা উড়াবেন। সকালে দেখা গেল সত্যিই বিশাল এক কাপড় উড়ছে। কিন্তু কাছে গিয়ে সবাই হতবাক। ওটা কোনো দেশের পতাকা নয়, স্থানীয় স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যানার!
নাসের মিয়া বললেন–‘চাচা, এইটা কোন দেশের পতাকা?’
কুদ্দুস মিয়া একবার তাকিয়ে বললেন–‘তোমরা বুঝবা না। এইবার নতুন একটা দল খেলতে নামছে।’
–দলের নাম কী?
–নতুনপাড়া ইউনাইটেড।
কেউ কেউ মজা বুঝলেও গ্রামের কয়েকজন বৃদ্ধ সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করে ফেললেন।
একজন তো বলেই বসলেন–‘মনে হয় ইউরোপের কোনো দেশ হবে!’
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন কুদ্দুস মিয়া গ্রামের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করলেন। সবাই রাতে মাঠে হাজির।
কুদ্দুস মিয়া গর্ব করে বললেন–‘আজ তোমরা আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচার দেখবা।’
কিন্তু খেলা চালু করার বদলে তিনি ভুল করে নিজের নাতির অনলাইন ক্লাস চালু করে দিলেন। পর্দায় শিক্ষক বলছেন–‘বাচ্চারা, আজ আমরা ভগ্নাংশের যোগ-বিয়োগ শিখব।’
কুদ্দুস মিয়া হাততালি দিয়ে বললেন–‘দেখছ? ম্যাচের আগে কোচ কৌশল শিখাচ্ছে!’
পনেরো মিনিট পরও যখন ভগ্নাংশই চলতে থাকল, তখন সবাই বুঝল ব্যাপারটা।
রাগে একজন চিৎকার করল–‘এইটা তো ক্লাস!’
কুদ্দুস মিয়া বললেন–‘বড় টুর্নামেন্টে সবই হয়। একটু ধৈর্য ধরো।’
এর পর কোনোভাবে আসল খেলা চালু হলো। কিন্তু বিপদ এখানেই শেষ নয়। বিদ্যুৎ চলে গেল। সবাই হতাশ!
কুদ্দুস মিয়া সঙ্গে সঙ্গে বললেন–‘চিন্তা নাই। আমার কাছে বিশেষ ব্যবস্থা আছে।’
তিনি ঘর থেকে একটা পুরোনো রেডিও নিয়ে এলেন।
রেডিও চালু হতেই শোনা গেল–‘আজকের আবহাওয়ার খবর!’
লোকজন আবার হাসতে শুরু করল।
এক সপ্তাহ পর কুদ্দুস মিয়া নিজেকে ফুটবল বিশ্লেষক ঘোষণা করলেন। তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন ভবিষ্যদ্বাণী করতেন।
একদিন বললেন–‘যে দল কাল জিতবে, তাদের জার্সির রং হবে লাল, নীল, হলুদ অথবা সাদা।’
রহিম বলল–‘চাচা, তা হলে তো প্রায় সব দলই এর মধ্যে পড়ে!’
কুদ্দুস মিয়া উত্তর দিলেন–‘এই জন্যই তো আমি বিশেষজ্ঞ!’
ফাইনালের দিন পুরো নতুনপাড়া উত্তেজনায় ফেটে পড়ল।
কুদ্দুস মিয়া সকাল থেকেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কারণ তিনি আগের দিন ঘোষণা দিয়েছেন–‘আমি নিশ্চিত, ফাইনালে যে দল জিতবে তারা হারবে না।’
এই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী শুনে সবাই বিভ্রান্ত। খেলা শেষে সত্যিই যে দল জিতল, তারা হারেনি। কুদ্দুস মিয়া আনন্দে লাফিয়ে উঠলেন।
–দেখলা? আমার ভবিষ্যদ্বাণী শতভাগ সঠিক!
নাসের মিয়া বললেন–‘এইটা তো স্বাভাবিক কথা!’
–‘স্বভাবিক হোক আর অসাধারণ হোক, ঠিক তো হয়েছে!’
পরদিন তিনি নিজের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করলেন।
বড় ব্যানার টাঙানো হলো–‘বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক ফিফার বাপ কুদ্দুস মিয়াকে গণসংবর্ধনা।’
কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাত্র চারজন। একজন এসেছেন খিচুড়ি খেতে, একজন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে। একজন ভুল করে ভেবেছেন এখানে নাকি সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। আরেকজন এসেছেন মাইকের শব্দ শুনে।
তবুও কুদ্দুস মিয়া মঞ্চে উঠে বললেন–‘আপনাদের ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত।’
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ছাগল মঞ্চে উঠে ব্যানার খেতে শুরু করল।
আশপাশের লোকজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
কুদ্দুস মিয়া বললেন–‘দেখছ? পশুরাও আমার অনুষ্ঠান মিস করতে চায় না!’

লাল বাহাদুর

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
লাল বাহাদুর
এঁকেছেন মাসুম

নিকুরদহ গ্রামে কোরবানির ঈদ মানেই এক আলাদা উৎসব। গ্রামের রাস্তায় তখন শুধু গরু আর মানুষের ভিড়। কেউ গরুর দাঁত দেখে, কেউ লেজ ধরে টানে। আবার কেউ শুধু দাম শুনেই বলে–‘এই গরু নিশ্চিত বিদেশি জাতের!’
এই গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ ছিলেন মোক্তার চাচা। প্রতিবছর তিনি এমনভাবে গরুর গল্প করতেন যেন পুরো জেলার সেরা গরু শুধু তিনিই চিনতে পারেন। তার স্ত্রী রহিমা খালা অবশ্য এসব শুনে হেসেই উড়িয়ে দিতেন। কারণ গত বছর মোক্তার চাচা যে ছাগল কিনেছিলেন, সেটা এক রাতে তিন বাড়ির শাকখেত খেয়ে শেষ করে দিয়েছিল।
এবার মোক্তার চাচা হাট থেকে বিশাল এক লাল গরু কিনে আনলেন। গরুর নাম দিলেন ‘বাহাদুর’।
গরু দেখে গ্রামের ছেলে টিপু, রিপন আর বাবলু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
টিপু বলল–চাচা, এই গরু কি খুব শান্ত?
মোক্তার চাচা গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, এই গরু এত ভদ্র যে পাশে বইসা গান গাইলেও কিছু বলবে না!
কিন্তু কথাটা বলার পরই বিপদ শুরু হলো। বাহাদুর হঠাৎ এমন এক হাম্বা ডাক দিল যে পাশের বাড়ির হাঁসগুলো ভয় পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিল। তার পর গরু দিল এক ঝটকায় দড়ি ছিঁড়ে বাজারের দিকে দৌড়!
মোক্তার চাচা চিৎকার করতে করতে পেছনে ছুটলেন, ধরো! কেউ আমার গরুরে ধরো!
তার পেছনে টিপু, রিপন, বাবলু–আর তাদের পেছনে পুরো নিকুরদহ গ্রাম।
গরু গিয়ে প্রথমে ঢুকল কুদ্দুস মাস্টারের সবজি খেতে। সেখানে গিয়ে বাঁধাকপি খেতে শুরু করল এমনভাবে, যেন বহুদিন কিছু খায়নি।
কুদ্দুস মাস্টার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, এইটা গরু না, কৃষি বিভাগের দুর্যোগ!
তার পর গরু স্কুলমাঠে ঢুকে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দিল। ছেলেরা বল ফেলে দৌড়ে পালাল। শুধু বাবলু কাদায় পিছলে পড়ে গেল। তাকে দেখে গরুও কিছুক্ষণ থেমে তাকিয়ে রইল।
অনেক কষ্টে গরুকে ধরে বাড়িতে আনা হলো। কিন্তু তখন দেখা গেল মোক্তার চাচার নতুন পাঞ্জাবির হাতা ছিঁড়ে গেছে, আর রিপনের এক পাটি স্যান্ডেল হারিয়ে গেছে।
সন্ধ্যায় রহিমা খালা বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমার গরুরে দেখলে আমারই ভয় লাগে!
মোক্তার চাচা গম্ভীর হয়ে বললেন, আমি ছোটবেলায় মহিষ সামলাইছি!
ঠিক তখনই গরু এমনভাবে মাথা ঝাঁকাল যে মোক্তার চাচা সোজা পানির ড্রামের মধ্যে পড়ে গেলেন।
পরদিন সকালে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা হলো–কোরবানির চামড়ায় সবাই লবণ লাগাইবেন।
এই কথা শুনে মোক্তার চাচা এত ব্যস্ত হয়ে গেলেন যে ভুল করে গরুর খাবারের বদলে সামনে লবণের বস্তা খুলে রাখলেন।
বাহাদুর এক চাটা দিয়েই এমন মুখ বানাল, যেন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হয়েছে।
এর পর থেকে বাহাদুর মোক্তার চাচাকে দেখলেই রাগী চোখে তাকায়।
ঈদের দিন সকালে পুরো গ্রাম প্রস্তুত। কিন্তু মোক্তার চাচার বাড়িতে তখনো কসাই নেই। কারণ মুসা কসাই নাকি একসঙ্গে চার বাড়িতে বুকিং খেয়েছে।
অনেক অপেক্ষার পর মুসা কসাই সাইকেলে করে এলেন। এসে প্রথমেই বললেন–আগে এক কাপ চা খামু।
এই কথা শুনে রিপন ফিসফিস করে বলল, চা খাইতে খাইতে গরু আবার পালাইলে?
কথা শেষ হতেই বাহাদুর আবার দড়ি ছিঁড়ে দৌড়!
এইবার গরু সোজা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চেয়ারম্যান সাহেব গম্ভীর মুখে বললেন, এই গরুরে ভোটে দাঁড় করাইলে মনে হয় জিতব!
সবাই হেসে গড়াগড়ি। অনেক দৌড়াদৌড়ি আর হাসাহাসির পর শেষ পর্যন্ত সব কাজ শেষ হলো। সন্ধ্যায় মোক্তার চাচা হাঁপাতে হাঁপাতে উঠানে বসে ছিলেন। টিপু জিজ্ঞেস করল–চাচা, আগামী বছর আবার গরু কিনবেন?
মোক্তার চাচা চোখ বন্ধ করে বললেন–না রে বাবা… আগামী বছর কবুতর পালমু!
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির একটা মোরগ এসে তার লুঙ্গিতে ঠোকর দিল।
পুরো উঠান আবার হাসিতে ফেটে পড়ল!