নতুন বিয়ে করেছে হাসান। ১৫ দিন পর শ্বশুরবাড়িতে গেল সে। বউয়ের ভাষায় ‘অনেকদিন পর’। শুরু হলো ব্যাপক আদর আপ্যায়ন। তার জন্য শাশুড়ি হরেক রকম খাবারদাবারের আয়োজন করেছেন। গরুর গোশত, মুরগির গোশত, ছোট মাছ, বড় মাছসহ নানা আইটেমের খাবারদাবার। এত খাবার দেখে সে আনন্দে উদ্বেলিত। কোনটা রেখে কোনটা খাবে তা বাছাই করতে গিয়েই ক্লান্ত সে।
সন্ধ্যায় নাশতার জন্য ১০-১২ পদের সুস্বাদু পিঠার আয়োজন। যেন পিঠার উৎসব। খাবারদাবার, আন্তরিকতা ও অকৃত্রিম আপ্যায়নে সে আনন্দে আহ্লাদিত। আনন্দ প্রকাশের কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। আবেগের বশে বউকে বলে বসল, জানু, ১০ দিন শ্বশুরবাড়িতে কাটিয়ে দিলাম। আদর-যত্নের কোনো কমতি নেই। এমন সুযোগ তো যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারি।
স্ত্রী প্রশ্ন করল, কীভাবে কাজে লাগাতে চাও?
— মনে করো আমি আরও দুটি বিয়ে করলাম। মাসের প্রথম ১০ দিন তোমার বাবার বাড়িতে। দ্বিতীয় ১০ দিন দ্বিতীয় বউয়ের বাবার বাড়িতে, আর তৃতীয় ১০ দিন তৃতীয় বউয়ের বাবার বাড়িতে বেড়াব। তাহলে খাবারদাবার নিয়া আমাকে আর কোনো নিয়ে টেনশন করতে হবে না। অফিসে বসের প্যারা সহ্য করতে হবে না। আমি হয়ে যাব দেশের সবচেয়ে সুখী মানুষ। তুমি কী বলো জানু?
স্ত্রী নীরব।
হাসান বলল, তুমি সম্মতি না দিলেও সমস্যা নেই। হাইকোর্ট তো আমাদের সে সুযোগ দিয়েছে। কাজেই এ সুযোগ মিস করা যাবে না। জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করব। আর ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় বিয়ে। তাহলে আমাকে আর পেছনে ফিরতে হবে না।
প্রচণ্ড রেগে গেল বউ। হাতে রাখা মোবাইল দিয়ে হাসানের মাথায় দিল বাড়ি। একদিন পর ঢাকা মেডিকেলে জ্ঞান ফিরল তার। বউকে জিজ্ঞেস করল, জানু কোথায় এলাম?
— তোমার দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে।
— বিয়ে না করেই দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে! কীভাবে এলাম?
— তোমার দ্বিতীয় বউয়ের নিমন্ত্রণে।
— বিয়ে করলাম কবে? এখানে কোনো আদর যত্ন নাই কেন? পিঠাপুলি খাবারদাবার কোথায়?
— আরেকবার যদি বিয়ের কথা বলো তাহলে মাথায় দেব আরেকটা বাড়ি। সেই বাড়িতে একেবারে আইসিইউ, মানে তৃতীয় শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে।
শুনে হাসানের মাথার ব্যথাটা হঠাৎ বেড়ে গেল। তার বিয়ে করার স্বপ্নটা কি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? চোখ ফেটে এল জল।