বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলোজির (বিইউবিটি) সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে আলাদা?
উত্তর: আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি পরিচয় আছে; এইচআর ফোকাস বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি। আমি মনে করি এটি একটি দারুণ কম্বিনেশন। এই প্রেক্ষাপটে আমি বলব আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে এভরিথিং বিজনেস, এভরিথিং আর্টস আবার এভরিথিং সায়েন্স। সেই প্রেক্ষাপটে বলছি, এই টেকনিক্যাল নলেজটা প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা যে ফিলোসফি নিয়ে এগোচ্ছি, সেটা হচ্ছে রিসার্চ অ্যান্ড টিচিং।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব কর্মমুখী প্রোগ্রাম চালু রয়েছে, সেসব সম্পর্কে বলুন?
উত্তর: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ থাকে, সারভাইভ করার। আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা যাতে চাকরি পায় সেটা আমরা করছি। কীভাবে একটা জব ইন্টারভিউতে নিজেকে উপস্থাপন করবে আর নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। একজন ভাইস চ্যান্সেলরকেও আমি নিয়ে এসেছি তাদের অভিজ্ঞতা এবং সাজেশন আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য। আমাদের শিক্ষার্থীরা এটা খুব ভালোভাবে নিচ্ছে।
প্রশ্ন: কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
উত্তর: আমরা প্রতিনিয়ত জব মার্কেটকে মনিটর করছি। সে অনুযায়ী আমরা ডিসিপ্লিনগুলোকে আপডেট করছি। মডার্ন, বিশেষ করে সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডেটা সায়েন্স, বিগ ডেটা, মেশিন লার্নিং, এআই শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। এই ডিসিপ্লিনটা চালু করার জন্য অলরেডি ইউজিসিতে প্রপোজাল সাবমিট করেছি। অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে আমাদের অবস্থান হয়তো এ ক্ষেত্রে হবে দ্বিতীয়। আমরাই প্রথম একটা ফ্যাকাল্টি এআই নামে শুরু করতে যাচ্ছি আগামী বছর।
প্রশ্ন: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ কী কী সুবিধা রয়েছে?
উত্তর: আমার মেজরিটি শিক্ষকতা জীবন কেটেছে বিদেশে। ট্রাস্টিরা আমার হাত চেপে ধরেছে, বেতন বাড়াতে দিচ্ছে না। তাদের একটাই কথা, আমরা ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করিনি। আমরা দুই ধরনের স্কলারশিপ এখানে দাঁড় করিয়েছি৷ ভাইস চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড, ডিনস অ্যাওয়ার্ড। যারা ‘এ’ লেভেলের জিপিএ স্কোর পাবে তাদের ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। আমরা যাদের প্রয়োজন তাদের বৃত্তি দিচ্ছি।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের চাকরি বা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম কি আছে?
উত্তর: অবশ্যই। আমাদের একটা ক্যারিয়ার ইউনিট আছে। এর দায়িত্ব দিয়েছি একজন অধ্যাপককে। উনি মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক এবং উনিও বাইরে থেকে পিএইচডি করে এসেছেন। উনি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ওপর কাজ করছেন। আমাদের ছাত্ররা কীভাবে জবের জন্য তৈরি হবে। কীভাবে ইন্টারভিউয়ের জন্য তৈরি হবে, কীভাবে সিভি লিখবে, এসব শেখান। বিনামূল্যে আমরা এই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ কেমন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
উত্তর: এটা আমার এবং বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদেরও প্রায়োরিটি। তাই ইউনিভার্সিটিজুড়েই গবেষণা হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্ররাও গবেষণা করবে। কয়েকজন ছেলেমেয়ে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে এসেছে, যা খুবই ইতিবাচক। আমাদের রিসার্চ গ্রুপ আছে, তারাও কাজ করছে রিসার্চে। আমরাই প্রথম বাংলাদেশে যারা একটি গ্র্যাজুয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। এই গ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধীনে রিসার্চ, ফান্ডিং সব হবে। আমরা আমাদের টোটাল ইনকামের একটি অংশ গবেষণায় প্রতিবছর ব্যয় করে থাকি।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন কী (বিতর্ক, রোবোটিকস প্রতিযোগিতা বা এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনে)?
উত্তর: আমাদের শিক্ষার্থীদের অর্জন অনেক। দু-একটা বলি। আমাদের ক্লাবগুলোর মধ্যে ডিবেট ক্লাবের অবস্থা খুবই ভালো। তারা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কয়েকবার। আমাদের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব আছে। ওরাও ভালো করছে। আমাদের আরও দুটি অর্গানাইজেশন আছে; একটা হচ্ছে বিএনসিসি স্কাউট। জাতীয়ভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা এতে অংশগ্রহণ করে।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার দিন আমাদের বিএনসিসি স্কাউটের ছেলেমেয়েরা বলছিল যে আমরা সেখানে সাহায্য করতে যেতে চাই। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ট্রান্সপোর্ট প্রোভাইড করেছি এবং তারা সেখানে গিয়েছে। এরপর আমাদের বেশ কিছু কম্পিটিশন হয়েছে, যেমন রোবোটিকস কম্পিটিশন, আইসিটি অলিম্পিয়াড হয়েছে। ন্যাশনাল বিভিন্ন ইভেন্টে আমাদের ছেলেমেয়েরা অবদান রাখছে। এমনকি কম্পিটিশনের জন্য অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যাচ্ছে। সম্প্রতি দুটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ হয়েছে ৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য। বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এই সুযোগ পেয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একটি। এসব জায়গায় আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ গুরুত্ব বহন করে।
প্রশ্ন: প্রতিবছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের জব ফেয়ারের আয়োজনটা কেমন?
উত্তর: আমরা প্রতিবছর বেশ ভালো অঙ্কের একটি বাজেট বরাদ্দ দিই এই জব ফেয়ার আয়োজনের জন্য। সম্প্রতি ২০২৫ সালের জব ফেয়ারটি হয়েছে। এখানে বেশ খ্যাতিমান পরিচিত কোম্পানিগুলো এসেছিল। আমরাও সুন্দরভাবে সব ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎসাহ ছিল। তারা নিজেদের জবের জন্য প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। এটা সামনেও অব্যাহত থাকবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আসলে কতটা বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: আমাদের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবধানটা ভুলে যাওয়া উচিত। বাংলাদেশের উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান অনেক। আন্তর্জাতিকভাবে যদি দেখা হয় তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটা ওরা সেইভাবে ব্যবহার করে না। আলাদা অর্থও করে না। এভাবে আমরা এনকারেজ করি। জাতীয় গ্র্যাজুয়েটে আমাদের অবদান কত এই পারসেন্টেজটা কম না। আর যদি একটা সার্ভে করা হয়, এরা কতটা ইফেক্টিভ তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এটা জুলাই-আগস্টের মাস। জাতির পরিবর্তনের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবদান সেটি অস্বীকার করার আসলে উপায় নেই। সেই প্রেক্ষাপটেই বলি, আমরা যে গ্র্যাজুয়েট প্রডিউস করছি, নলেজেবল একটা সমাজ গড়ার কাজে এদের কন্ট্রিবিউশন রিমার্কেবল। এদের আসলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব দক্ষতা সেই সঙ্গে আমরা যেটা দিচ্ছি, যেটা তারা গ্রহণ করছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি ওরা খুব মানসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠছে। ন্যাশনালি সেলেবল এবং ইন্টারন্যাশনাল সেলেবল হিসেবে ওরা বের হচ্ছে। আমাদের বিইউবিটির বেশ কয়েকজন গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট বিদেশে খুব ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি তারা বিদেশে পিএইচডি করতে স্কলারশিপ নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমার কাছে মনে হয়, আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা খুব কোয়ালিটি সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বেরোচ্ছে। আমরা ওদের জন্য গর্বিত। আমাদের শিক্ষাটা জাতির জন্য উপকারী হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে যারা পড়ছে তারাও জব মার্কেটে ঢুকে সুনাম করবে।