ছোটবেলা থেকে অনেকেই মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আমেরিকান মহাকাশপ্রেমী এবং পিএইচডি স্কলার ২৩ বছর বয়সী অ্যালিসা কারসন যেন সেই স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
মাত্র ৩ বছর বয়সে অ্যালিসা তার বাবাকে বলেছিল, "বাবা, আমি একজন মহাকাশচারী হতে চাই এবং মঙ্গল গ্রহে যাওয়া মানুষদের একজন হতে চাই।" সেসময় হয়ত তার ধারণা ছিল না যে, তার সেই বক্তব্য একদিন জীবনের একটি অর্থপূর্ণ প্রচেষ্টার জন্ম দেবে।
সম্প্রতি, অ্যালিসা কারসন মঙ্গল গ্রহে পা রাখা প্রথম মানুষের একজন হওয়ার জন্য নাসা এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন।
এমনও গুজব রয়েছে যে, অ্যালিসা কারসন মঙ্গল গ্রহে পা রাখার পর সেখানেই বসতি স্থাপন করা প্রথম মানুষ হতে চলেছেন এবং তিনি আর ফিরে আসবেন না।
শৈশব থেকেই তিনি অ্যাডভান্সড PoSSUM স্পেস একাডেমি সহ বিভিন্ন মহাকাশ প্রোগ্রাম এবং সিমুলেশনের অংশ ছিলেন যা মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রতি তার গভীর প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।
তবে, তিনি আর "ফিরে আসছেন না" এই দাবিটি অনুমানমূলক। কেননা কারসন এখন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী মঙ্গল উপনিবেশ অভিযানের অংশ হতে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন - যেখানে পৃথিবীতে ফিরে আসা প্রাথমিকভাবে সম্ভব নাও হতে পারে।
কার্সনের জন্ম ২০০১ সালের ১০ মার্চ লুইসিয়ানার হ্যামন্ডে। বাবা বার্ট কারসনের একমাত্র কন্যা তিনি। ২০১৯ সালে ব্যাটন রুজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু এত অল্প বয়সেই তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য কৃতিত্ব আর সম্মাননার মালিকানা।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে, অ্যালিসার কৃতিত্বের তালিকায় রয়েছে তিনটি স্পেস শাটল উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করা, ৭ বার স্পেস ক্যাম্পে যোগদান করা, তিনবার স্পেস একাডেমি, একবার রোবোটিক্স একাডেমি, অ্যাডভান্সড স্পেস একাডেমি থেকে স্নাতক হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং একাধিক স্যালি রাইড ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করার মতো কৃতিত্ব।
২০১২ এবং ২০১৩ সালে, তিনি স্পেস ক্যাম্প তুরস্ক এবং স্পেস ক্যাম্প কানাডায় শিক্ষা গ্রহণ করেন, এবং বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নাসার তিনটি স্পেস ক্যাম্প যোগদান করেন।
কারসন নাসার পাসপোর্ট প্রোগ্রাম সম্পন্নকারী প্রথম ব্যক্তি, যিনি ৯ টি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত ১৪টি নাসার ভিজিটরস সেন্টার পরিদর্শন করেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে, নাসা তাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে MER 10 প্যানেলে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে তিনি NASA টিভিতে সরাসরি মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযান নিয়ে আলোচনা করবেন।
পরবর্তীতে তাকে মার্স ওনের প্রতিনিধিত্বকারী সাতজন রাষ্ট্রদূতের একজন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, যা ২০৩০ সালে মঙ্গলে মানব উপনিবেশ স্থাপনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি অভিযান।
২০১৬ সালের অক্টোবরে অ্যালিসা ছিলেন অ্যাডভান্সড পসাম একাডেমি থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি, যার ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে যাওয়ার জন্য সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত এবং একজন নভোচারী প্রশিক্ষণার্থী হন।
২০১৭ সালে, কারসনকে লুইসিয়ানা পাবলিক ব্রডকাস্টিং কর্তৃক ব্যতিক্রমী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদত্ত নয়জন লুইসিয়ানা ইয়ং হিরোসের একজন হিসেবে মনোনীত করা হয়।
২০১৯ সালে, কারসনকে LSU উইমেন্স সেন্টার এসপ্রিট ডি ফেমে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এবং তিনি এখন পর্যন্ত এই পুরষ্কারের সবচেয়ে কম বয়সী প্রাপক ছিলেন । এছাড়া, কারসনকে লুইসিয়ানা লাইফ ম্যাগাজিন বিজ্ঞান বিভাগে ২০২০ সালের লুইসিয়ানা অফ দ্য ইয়ার হিসেবে সম্মানিত করে ।
এদিকে, এই অভিযাত্রা সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে কারসন বলেন, "আমি মনে করি মঙ্গল গ্রহে অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মানুষকে অনুপ্রাণিত করা যে, আমরা বেঁচে থাকতে পারি এবং পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও যেতে পারি। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে মানুষকে অবশেষে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে - যেখানে আমরা অন্বেষণ করব এবং সম্ভবত পৃথিবী ছাড়াও অন্যান্য স্থানে বাস করব। আর মঙ্গল গ্রহে আমাদের এই শিক্ষা দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।"
তিনি টিমোথি ক্রালের অধীনে আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগে ডক্টর অফ ফিলোসফি স্কলার এবং একটি স্নাতক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পড়ান।
অন্যদিকে, স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও এলন মাস্ক বিশ্বাস করেন যে ২০৫৫ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বসতি স্থাপন করা সম্ভব হতে পারে।
সুলতানা দিনা/