বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার গল্প শুনেছি, কিন্তু বিড়ালের ঘাড়ে একটা রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেউ শুনেছেন! এমনই একটা দায়িত্ব পড়েছে জাপানের একটি বিড়ালের ঘাড়ে।
মাথায় টুপি, গলায় মেডেল পরে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলে থাকা ওয়াকায়ামা জেলার কিশিগাওয়া স্টেশনে মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছে ‘ইয়োনতামা’ নামে একটি বিড়াল।
সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিড়ালটিকে।
তার এই দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণ্যমান্যরাও।
এ সময় ইয়োনতামার গলায় মেডেল পরিয়ে দেন ওয়াকায়ামা ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিতসুনোবু কোজিমা।
ইয়োনতামা নামের বিড়ালটি কিশিগাওয়া লাইনের তৃতীয় বিড়াল স্টেশনমাস্টার।
ইয়োনতামার এই দায়িত্ব মজার এবং আনুষ্ঠানিক। তবে, জাপানের গ্রামীণ ওই রেলস্টেশনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একসময় আর্থিক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য নানা কারণে ধুঁকছিল কিশিগাওয়া লাইনের এই স্টেশনটি। তাই এই স্টেশনকে আকর্ষণীয় এবং সবার নজর কাড়ার জন্য বিড়ালকে স্টেশনমাস্টার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০০৭ সালে এই স্টেশনের প্রথম বিড়াল স্টেশনমাস্টার করা হয় ‘তামা’কে। তার মৃত্যুর পর, ২০১৫ সালে নিয়ে আসা হয় নিতামাকে। গত বছরের নভেম্বরে মৃত্যু হয় নিতামার। তার পরেই স্টেশনমাস্টার হিসেবে মনোনীত হয় ‘ইয়োনতামা’।
ওয়াকায়ামা ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিতসুনোবু কোজিমা জানান, বিড়ালকে স্টেশনমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে এলাকায় পর্যটনে গতি এসেছে। ধুঁকতে চলা ওই রেললাইনকে আর্থিক সঙ্কট থেকে মুক্তি দিয়েছে সে।
তবে শুধু ইয়োনতামা নয়, গত বুধবারের ওই অনুষ্ঠানে রোকুতামা নামে একটি বিড়ালকেও সবার সামনে আনা হয়। ওই বিড়ালটিকে শিক্ষানবিশ না বলে স্টেশনমাস্টার পদপ্রার্থী বলে উল্লেখ করা হয়। কোনো দিন ইয়োনতামা হাজির থাকতে না পারলে সেদিন রোকুতামা দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানানো হয়।
‘তামা’ এবং ‘নিতামা’ আগে ওই লাইনে আয় এবং যাত্রী বাড়িয়েছিল। ইয়োনতামা-ও সেই ধারা বজায় রাখবে বলেও মনে করেন এলাকার বাসিন্দা চিসাকো আসানো।
অমিয়/