কফির জন্মভূমি ইথিওপিয়ায় ৪০ লাখের বেশি পরিবার এই ফসলকে তাদের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটি দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এনে দেয়। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ভবিষ্যৎ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
ওরোমিয়া কফিচাষি সমবায় ইউনিয়নের মহাব্যবস্থাপক দেজেনে দাদি বলেছেন, ‘ইথিওপিয়ার কফি চাষিরা ইতোমধ্যেই তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন।’
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু সংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কফি উৎপাদনকারী দেশগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠছে, যা কফি উৎপাদনের জন্য খুবই বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্লাইমেট সেন্ট্রালের মতে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ কফি সরবরাহকারী শীর্ষ পাঁচটি উৎপাদক দেশ প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৫৭ দিন ক্ষতিকর তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে।
কর্কটক্রান্তি এবং মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী তথাকথিত ‘কফি বলয়’-এ কফি চাষ করা হয় এবং এর জন্য স্থিতিশীল তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে মূল্যবান অ্যারাবিকা জাতটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি কাপ কফি পান করা হয়, কিন্তু এই শিল্পটি ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা কফির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে এল সালভাদরে বছরে কফির জন্য ক্ষতিকর অতিরিক্ত ৯৯ দিন তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়, যেখানে ব্রাজিলে এই সংখ্যা ৭০ এবং ইথিওপিয়ায় ৩৪ দিন।
দাদি বললেন, ‘ইথিওপিয়ান অ্যারাবিকা সরাসরি সূর্যালোকের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। পর্যাপ্ত ছায়া না থাকলে কফি গাছে কম বীজ উৎপন্ন হয় এবং গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।’
পরিবেশ ও জলবায়ু প্রচারকর্মীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য অর্থায়ন অপর্যাপ্ত।
তারা উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র কৃষকরা বিশ্বের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কফি উৎপাদন করলেও, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ০.৩৬ শতাংশ পান।
দাদি বলেন, ‘কফির সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে সরকারগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
কফির জন্য তাপমাত্রা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কফি গাছ অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে আমরা যে উন্নত মানের অ্যারাবিকা কফি পান করি, সেটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বাইরে টিকে থাকতে পারে না।
অ্যারাবিকা কফির জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হলো ১৮ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির উপরে চলে গেলে গাছের ফলন কমে যায় এবং কফির স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
এ দিক দিয়ে রোবাস্টা কফি কিছুটা বেশি তাপ সহ্য করতে পারে। এর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু অতিরিক্ত খরা বা চরম তাপমাত্রা এটিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা এখন তাপ-সহনশীল কফির জাত নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা কৃষকদের ছায়াযুক্ত স্থানে কফি চাষের পদ্ধতিতে উৎসাহিত করছেন, যাতে সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে গাছকে বাঁচানো যায়। এর মধ্যে তারা দুটি জাত লিবেরিকা ও এক্সেলসা নিয়ে গবেষণা করছেন। - আনাদুলো অ্যাজেন্সি
অমিয়/