ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আসছে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪৯ এএম
ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আসছে
ইসরায়েলের জুলিস সামরিক ঘাঁটিতে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ চালানোর কারণে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলকে সংঘাত আরও বড় করা থেকে ফিরিয়ে রাখতে চাইছে তারা। 

গত শনিবার ইরানের চালানো হামলায় ইসরায়েলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে সামান্য। তবে এ থেকে ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরানের তিন শরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সামরিক প্রধান হার্জি হালেভি। দেশের ভেতরও চাপের মুখে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

ইসরায়েলকে বড় মাপের এই জবাব দেওয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি আশা করছে, তার মিত্ররাও একই পথ অনুসরণ করে তেহরানকে নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে ফেলবে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন জানান, তিনি মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবেন। ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান বন্ধ করতে ওয়াশিংটন সব বিকল্প খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি। শিগগিরই যে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে যাচ্ছে, সেটিরও ইঙ্গিত দেন ইয়েলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-প্রধান জোসেফ বরেল ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি ভিডিও কনফারেন্স শেষে জানান, কিছু সদস্যদেশ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিসর বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। জোটের কূটনৈতিক সেবাকে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছে ওই সদস্য দেশগুলো। 

গত মঙ্গলবারই ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, তিনি কূটনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। ৩২টি দেশকে তিনি চিঠি লিখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ও দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিতে বলেছেন। 

সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি দূতাবাসে ইসরায়েলের হামলার জবাব দিতে পাল্টা আক্রমণ করেছিল তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তারা এখন এ বিষয়টি মিটে গেছে বলেই মনে করছে। তবে ইসরায়েল যদি আবারও হামলা চালায়, তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।

জো বাইডেন ইরানের হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন যে তারা পাল্টা আক্রমণে কোনো সহায়তা করবেন না। গত মঙ্গলবার ফোনালাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক নেতানিয়াহুকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া কারও স্বার্থের জন্য মঙ্গলজনক নয় এবং এটি শুধু ওই অঞ্চলে অনিরাপত্তাকেই আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি ‘মাথা ঠাণ্ডা’ রাখার পরামর্শও দেন। 

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োকো কামিকাওয়া ইসরায়েলকে সংযত আচরণ করার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সঙ্গে মঙ্গলবার আলাপ করেন তিনি।

অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ হতে দেখা গেছে। ওই দলগুলো সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। 

মঙ্গলবার দিনগত রাতে লেবাননের ভেতর আহত হয়েছে চার ইসরায়েলি সেনা। গাজা যুদ্ধের পর এবারই প্রথম স্থলভাগে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে প্রবেশ করেছে বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। গাজায় হতাহত থেমে নেই। সেখানেও নিজেদের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ইসরায়েলি আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণ করে হামাস। সে হামলায় মারা যায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি, হামাস সঙ্গে করে ২৫৩ জন জিম্মি গাজায়ও নিয়ে আসে। পরে হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে সে অভিযানে তাদের নির্বিচার হামলায় বেসামরিক মানুষই প্রাণ হারিয়েছে বেশি। গাজার জনগোষ্ঠী গিয়ে পৌঁছেছে মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। সূত্র: রয়টার্স

রাফা থেকে বাস্তুচ্যুত ৯ লাখেরও বেশি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৫০ এএম
রাফা থেকে বাস্তুচ্যুত ৯ লাখেরও বেশি
ছবি: সংগৃহীত

রাফায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে আবারও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৯ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি। তারা ভুগছেন খাবার, পানি ও ওষুধের সংকটে। 

গাজার আল আকসা হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, জেনারেটর চালু করার মতো কোনো জ্বালানি নেই এবং তারা এখন বিদ্যুৎ ছাড়াই রয়েছেন। সেখানকার সব রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দেইর এল-বালাহতে অবস্থিত ওই হাসপাতালটি এখন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে তাদের ভিন্ন প্রক্রিয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির মুখপাত্র খলিল আল-দেকরান। তিনি বলেন, ‘এ থেকে অনেক অসুস্থ ও আহত মানুষের মৃত্যু হবে।’

আল-জাজিরার খবর বলছে, রাফার দক্ষিণপূর্বে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনা অগ্রসর হতে দেখা গেছে। সেখানকার পশ্চিমের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার দিকে যাচ্ছে তারা। উত্তর গাজায় আর দুটি মাত্র হাসপাতাল কার্যকর রয়েছে। জাবালিয়া অঞ্চলের ওই হাসপাতাল দুটি গত কয়েক দিন ধরেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অবরোধের মধ্যে রয়েছে। ওই অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীকে গোলাবর্ষণও করতে দেখা গেছে। 

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৫ হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৮০ হাজার ১১ জন। হামাসের হাতে এখনো ১৩০ জনের মতো জিম্মি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আরও তিন ইসরায়েলি জিম্মির লাশ উদ্ধার করেছে।    

আইডিএফ জানিয়েছে, ওই তিন জিম্মি হলেন হানান ইয়াব্লোনকা, মিশেল নিসেনবাউম ও অরিয়ন হার্নান্ডেজ। ইসরায়েলের দেশীয় গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে উত্তরের জাবালিয়া থেকে লাশগুলো উদ্ধার হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে গাজা থেকে আরও তিন জিম্মির লাশ উদ্ধার করেছিল আইডিএফ।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেন, ‘সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা দেশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব- জীবিতদের এবং মৃতদেরকেও যাতে তাদের আমরা ইসরায়েলে সমাহিত করতে পারি।’

গত ডিসেম্বরে গাজায় ভুলবশত তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। জিম্মিরা সে সময় সাদা পতাকা ধরে রেখেছিল বলেও জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

নিরাপত্তা পরিষদে ভোট

মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভোটাভুটির জন্য এক প্রস্তাব উত্থাপন করার কথা রয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। 

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সব যোদ্ধাকে সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সংঘাতের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।

সুইজারল্যান্ড সমর্থিত ওই প্রস্তাবে জাতিসংঘ ও মানবিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা

ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের বালাতা শিবিরে অভিযান চালিয়েছে। সেখানে অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছে ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই অভিযানের কারণে বালাতা শিবিরজুড়ে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানিয়েছে ওয়াফা। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সূত্র: আল-জাজিরা   

স্বতন্ত্র লড়বেন লেবার নেতা করবিন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৪৫ এএম
স্বতন্ত্র লড়বেন লেবার নেতা করবিন
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন আগামী ৪ জুলাইয়ের জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবেন। বিষয়টি লেবার পার্টিকে কিছুটা চাপের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূলত উত্তর লন্ডনের আসন নিয়েই প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তর লন্ডনের ওই আসনে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার হঠাৎ তিনি জানান, এবার ওই আসন থেকে স্বতন্ত্র দাঁড়াবেন ‘সমতা, গণতন্ত্র ও শান্তির পক্ষে আওয়াজ তুলতে।’  

আল-জাজিরার খবর বলছে, লেবার পার্টির কর্মকর্তারা ওই আসনের প্রার্থীর তালিকায় ৭৪ বছর বয়সী করবিনের নাম রাখেনি। আর এ কারণেই একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 

করবিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি চাই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক হোক, কিন্তু প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইসলিংটন নর্থ লেবারের সদস্যদের অধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ কারণেই আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমাদের দাঁড়াতে হবে এবং বলতে হবে, এসব আমরা আর সহ্য করব না।’ সূত্র: আল-জাজিরা 

তাইওয়ান দখলের ‘সক্ষমতা পরীক্ষা’ চীনের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৪০ এএম
তাইওয়ান দখলের ‘সক্ষমতা পরীক্ষা’ চীনের
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের চারপাশে যে মহড়া চলছে তার মধ্য দিয়ে আদতে ‘ক্ষমতা দখলের’ সক্ষমতা পরীক্ষা করছে চীন। মহড়াটি সেভাবেই সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। গতকাল শুক্রবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) দ্বিতীয় দিনের মতো সামরিক মহড়া চালায় স্বশাসিত ভূখণ্ডটিকে ঘিরে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স চীনের টেলিভিশন সিসিটিভির বরাত দিয়ে জানায়, ওই স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মহড়াও করেছে চীন। দুই দিনের অনুশীলনের অংশ হিসেবে গতকাল লাইভ মিসাইল ও বোমারু বিমান বহনকারী ফাইটার জেটও পাঠায় তারা।

এর আগে বেইজিং বলেছিল, তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট লাই চিঙ-তেকে শাস্তি দিতেই তারা ওই মহড়া শুরু করেছে। লাই চিঙ-তে শপথ নেওয়ার পরপরই সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। এ ছাড়া নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লাইকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ও আখ্যা দেয় তারা।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে বেইজিং। তবে তাইওয়ান বরাবরই নিজেদের আলাদা বলে দাবি করে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর চীনের কড়া সমালোচনা করেছিলেন লাই। তিনি তাইওয়ানকে হুমকি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বেইজিংয়ের প্রতি। পাশাপাশি প্রণালির দুই দিক ‘একে অপরের অধীনস্থ নয়’ বলেও দাবি করেন।

তাইওয়ানের আশপাশে যে মহড়াটি হচ্ছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সেটির নাম দিয়েছে ‘জয়েন্ট সোর্ড-২০২৪ এ’। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই মহড়ার উদ্দেশ্য ‘সম্মিলিতভাবে ক্ষমতা দখল, যৌথ আক্রমণ চালানো এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের সক্ষমতা পরীক্ষা করা।’

তাইওয়ানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বাসি চ্যানেলের পূর্বপ্রান্তের কাছে বেশ কয়েকটি চীনা বোমারু বিমান পশ্চিমের দ্বীপাঞ্চলের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ কীভাবে নেওয়া যায়, সেটির মহড়া করেছে।

অন্যদিকে চীনের কোস্ট গার্ড বলেছে, তারা শুক্রবার তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় ‘আইন প্রয়োগসংক্রান্ত মহড়া’ করেছে। সে মহড়ায় যাচাইকরণ, শনাক্তকরণ, সতর্কতা ও প্রতিহত করার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স 

বসনিয়ার মুসলিম গণহত্যার দিনকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৩৭ এএম
বসনিয়ার মুসলিম গণহত্যার দিনকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় ১৯৯৫ সালে সংঘটিত হয় মুসলিম গণহত্যা। সে হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ১১ জুলাইকে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। গত বৃহস্পতিবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জার্মানি এবং রুয়ান্ডার পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। সার্বিয়া এর বিরোধিতা করে। তবে সদস্যদের ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়। 

এই প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিকরণ’ বলে আখ্যা দেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিক। তার দাবি, এর ফলে পুরো সার্বিয়া ও দেশটির জনসাধারণের গণহত্যাকারী হিসেবে পরিচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলো।

বিবিসির খবর বলছে, ‘১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস’ এর পক্ষে ভোট দেয় ৮৪টি সদস্য রাষ্ট্র। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯টি। আর ৬৮টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। 

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, নিহত আট হাজার পুরুষের স্বজনদের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার খবরটি সন্তোষজনক। ওই আট হাজার পুরুষ বসনিয়ান-সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। 

প্রসঙ্গত বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ স্থান’ শান্তিরক্ষীদের তত্ত্বাবধানে ছিল। কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় শান্তিরক্ষীরা বসনিয়ান-সার্ব বাহিনীকে ঠেকাতে পারেনি। সামরিক কর্মকর্তা রাতকো ম্লাদিচের নির্দেশে বাহিনীর সদস্যরা পরিবার থেকে পুরুষদের আলাদা করে দেয়। পরে আর তাদের দেখা মেলেনি। হত্যায়ই থেমে থাকেনি নৃশংসতা। পরবর্তী সময়টা জুড়ে বসনিয়ান-সার্ব বাহিনীর সদস্যরা নিহতদের গণকবরগুলো পুনরায় খোঁড়ে। গণহত্যাকে ধামাচাপা দিতে দেহাবশেষগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। সূত্র: বিবিসি 

পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধস, শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৫৭ এএম
পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধস, শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

পাপুয়া নিউগিনির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৫ মে) ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা ধারণা করছেন, শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। 

দেশটির উত্তরাঞ্চলের এনগা প্রদেশের পোরগেরা-পাইলা জেলার মুলিতাকার ছয়টি গ্রামে একই সময়ে ভূমিধস হয়। আশপাশের মানুষের ধারণা, এতে ৮০ থেকে ১০০ বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। 

এনগার প্রাদেশিক প্রশাসক স্যান্ডিস সাকা বলেন, ‘বিধ্বংসী এই ভূমিধসকে নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মনে করা হচ্ছে। এতে মানুষের জানমালের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এলাকাটিতে পাঠানো হয়েছে।’ 

ভূমিধসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে বলেও খবর এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। প্রশাসক স্যান্ডি সাকা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য জাতীয় সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এলিজাবেথ লারুমা অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, এটি যখন ঘটেছে তখন ছিল ভোর, সবাই ঘুমে ছিল। আর এর মধ্যেই পুরো গ্রাম চাপা পড়েছে। শতাধিক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে বলে অনুমান করেন তিনি। ভূমিধসের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের নিজস্ব জ্বালানি এবং পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লারুমা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান