ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

হুমকি না দিতে চীনের প্রতি তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্টের আহ্বান

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০৭ এএম
হুমকি না দিতে চীনের প্রতি তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্টের আহ্বান
তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই

তাইওয়ানকে হুমকি না দেওয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বশাসিত ভূখণ্ডটির নতুন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই। পাশাপাশি চীনকে তাইওয়ানের গণতন্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে বলেছেন তিনি।  

বেইজিংকে সংঘাতে বদলে সংলাপের রাস্তা বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন লাই। গতকাল সোমবার শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ বক্তব্য রাখেন তিনি। চীনের ভয়ভীতিতে তাইওয়ান কখনো পিছু হটবে না বলেও উল্লেখ করেন নতুন এই প্রেসিডেন্ট। 

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। লাইকে বেইজিং দেখে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে। তাইওয়ানের ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাপও বহু গুণে বাড়িয়েছে চীন।  

স্বশাসিত ভূখণ্ডটির জলসীমা ও আকাসীমা বিগত বছরগুলোতে চীনের সামরিক বাহিনীকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এতে সম্মুখ সংঘাতের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটাই। লাই গোটা বিষয়টিকে বর্ণনা করেছেন, ‘বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিরতার সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে। 

তবে ৬৪ বছর বয়সী লাই সরাসরি চীনের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়াবেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও তার পূর্বসূরী সাই ইঙ-ওয়েনের পথেই হাঁটবেন। বেইজিংয়ের ব্যাপারে তিনি সতর্ক থাকবেন, কিন্তু ধীরস্থিরভাবে গোটা বিষয়টিকে সামাল দেবেন। সূত্র: রয়টার্স

পশ্চিমবঙ্গে আটক বাংলাদেশের আনসার-আল-ইসলামের নেতা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে আটক বাংলাদেশের আনসার-আল-ইসলামের নেতা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া সূত্র ধরে এবং কিছু এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত গোপন মেসেজ ক্র্যাক করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে অপারেট করা এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কাঁকসা থেকে শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় মহম্মদ হাবিবুল্লা নামে এক যুবকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। 

বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের একটি মডিউল বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই সক্রিয় ছিল। শাহাদত নামে সেই মডিউলের প্রধান বা আমির হিসেবে কাজ করতেন হাবিবুল্লা। কাঁকসা থানায় গ্রেপ্তার হাবিবুল্লার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের সদস্য ছিলেন হাবিবুল্লা। সেই সংগঠনের অন্যতম সদস্য ‘ফিদায়েঁ’ ইসমাইল শাহাদত। মনে করা হচ্ছে তার নামেই তৈরি হয়েছে নতুন এই মডিউল। যার অর্থ, নিজে থেকে শহিদ হওয়া। অর্থাৎ আত্মঘাতী জঙ্গি বা ‘ফিদায়েঁ’। জিহাদের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও পিছপা হব না, এই সংকল্পের বীজই বুনে দেওয়া হতো সদস্যদের মধ্যে। সূত্রের দাবি, বিদেশে আত্মগোপন করে সালাউদ্দিন নাসের নামের একজন মডিউলটি অপারেট করেন।

মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় জাল বিছিয়ে তরুণ-তরুণীদের দলে টানতেন তারা। প্রথমে চলত স্ক্যানিং। দেখা হতো, কারা ইসলামিক মৌলবাদের প্রতি আগ্রহী। তারপর অডিও মেসেজ পাঠিয়ে চলত মগজ ধোলাই। ব্যবহার হতো বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ‘বিপ’। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ এক গ্রুপে চলত কথাবার্তা। সেই গ্রুপেই এখন কড়া নজর তদন্তকারীদের। সূত্রের দাবি, এইভাবে ‘রিক্রুট’ করা হয়েছিল হাবিবুল্লাকে। কম্পিউটার সায়েন্সের এই পড়ুয়া বেশির ভাগ সময়ই মোবাইল, ল্যাপটপে মুখ গুজে থাকতেন। এলাকায় কারও সঙ্গে বিশেষ মিশতেন না বলেই দাবি পড়শিদের। তবে আপাত শান্তশিষ্ট, মেধাবী হাবিবুল্লা যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তা মানতে পারছে না এলাকার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি ঢাকার শাহিনবাগ, গুলিস্তান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে নয়া ‍‍‍‘শাহাদত’ মডিউলের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সূত্রের দাবি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাংলার তিন চক্রীর হদিস মিলেছে। মূলত ঢাকা, সাতক্ষীরা, যশোর এলাকায় অপারেট করেন তারা। ধৃতদের রবিবার বর্ধমানের আদালতে পেশ করা হয়েছে। 

আটকদের মধ্যে তিনজন সরাসরি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ এসটিএফের। কয়েকজন ওই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এসটিএফের হাতে ধরা পড়েছেন। আটক হাবিবুল্লার ভাই স্কুলছাত্র। তাকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবিবুল্লা পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদ থানা এলাকার মানকর কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। খবর পেয়ে কাঁকসা থানায় পৌঁছান আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানে ছিলেন কাঁকসার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারও।

এই মডিউলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিশেষভাবে সুরক্ষিত বা এনক্রিপটেড মেসেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কথাবার্তা বলতেন। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগে থাকা আনসার-আল-ইসলামের মডিউল ভারত ও বাংলাদেশে নাশকতামূলক কাণ্ড ঘটাবে বলেই গোপনে কাজ করছিল মনে করছে এসটিএফ।

কাঁকসায় তার বাড়ি থেকেই হাবিবুল্লাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। হাবিবুল্লাহ ছাড়াও তার বাবা মহম্মদ ইসমাইল মুন্না ও পরিবারের কয়েকজনকে আটক করেছে এসটিএফ। তার বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনিয়মের অভিযোগে ভারতের পরীক্ষাপ্রধান বরখাস্ত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১৯ এএম
অনিয়মের অভিযোগে ভারতের পরীক্ষাপ্রধান বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে ভর্তি পরীক্ষাসমূহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) প্রধান সুবোধ কুমার সিংকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

শনিবার (২২ জুন) তাকে বরখাস্ত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একই দিন তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার প্রদীপ সিং খারোলা।

অনিয়মের ঘটনায় রবিবারের মেডিসিন স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে পিএইচডি ফেলোশিপের যোগ্যতা নির্ধারণ পরীক্ষাও। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এ ছাড়া দেশের সব বড় পর্যায়ের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এনটিএর যাবতীয় কার্যক্রম ও কাজের পদ্ধতি খতিয়ে দেখে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশেষ রিপোর্ট কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। এ ছাড়া নিট বা নেটসহ সব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনয়নে পরামর্শ দেবে এই কমিটি।

নিটের প্রশ্ন ফাঁস ও অনিময়ের অভিযোগে ইউজিসি নেট পরীক্ষা বাতিলকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিষয়টি ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে সরকারের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে একাধিক পরীক্ষা বাতিলসহ এনটিএ-প্রধানকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বাড়ছে।

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাকে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রেন্স টেস্ট (এনইইটি) বা নিট বলা হয়। এই পরীক্ষার আয়োজন করে এনটিএ। আর নেট হলো গবেষণা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রবেশিকা পরীক্ষা।

ইরানের র‌্যাপারের মৃত্যুদণ্ড বাতিল

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১৩ এএম
ইরানের র‌্যাপারের মৃত্যুদণ্ড বাতিল
ইরানি র‍্যাপার তোমাজ সালেহি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জনপ্রিয় র‍্যাপার তোমাজ সালেহির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। 

শনিবার (২২ জুন) সালেহির আইনজীবী আমির রাইসিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারের সমালোচনা করে গান গাওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছিল। খবর সংবাদমাধ্যম বিবিসির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আমির রাইসিয়ান বলেন, সালেহির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন ইরানের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ‘অপূরণীয় একটি বিচারিক ত্রুটি’ রুখে দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

গত এপ্রিলে সালেহিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল। তখন সালেহির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহে সহায়তা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, দাঙ্গার উসকানিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এর আগে ২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী ইরানি কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে এতে একাত্ম হন সালেহি। আন্দোলনের সময় ৩২ বছর বয়সী এই গায়ক ইরানের দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থা্র ত্রুটিসহ সরকারের নানা সমালোচনা করে গান করেন। এমন ঘটনায় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তারও হন। বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হলেও তিনি গান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন।

উ.কোরিয়া-রাশিয়ার নতুন চুক্তি: ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার বাজি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৮ এএম
উ.কোরিয়া-রাশিয়ার নতুন চুক্তি: ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার বাজি
ছবি: সংগৃহীত

গেল সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে তাকে বেলুন আর লাল-গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর পেছনের হাসিটি ছিল মূলত ইউক্রেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য প্যাঁচানো সংঘর্ষের শক্তিশালী এক প্রতিযোগিতার সংকেত। এর মাধ্যমে পশ্চিমা স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করতে ইচ্ছুক রাশিয়া যা এর আগে কখনো হয়নি।

রবিবার (২৩ জুন) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে পুতিন নতুন এক চুক্তি করেছেন। তাতে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে যদি কেউ আক্রমণ করে। পুতিনও প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া বিচ্ছিন্ন দেশটিকে অস্ত্র সরবরাহ করবে। এই পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপকে পুনঃসংস্কার ও অগ্রগতিতে সাহায্য করবে। তিনি ন্যাটো মিত্রদের রাশিয়া আক্রমণে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সম্ভাব্য অস্ত্রের চালানও বর্ণনা করেছেন। এ সময় তিনি মস্কোর হারানোর কিছু নেই বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন। ইউক্রেনে তার লক্ষ্য অর্জনে ‘শেষ পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত।

এপি জানায়, পুতিনের পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া জোটের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোকে অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করছে। যা কিমের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

নতুন চুক্তিটি স্নায়ুযুদ্ধ সমাপ্তির পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিম বলেছেন, ‘যখন পুতিন আরও সতর্ক ছিলেন চুক্তিটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি জোটের স্তরে উন্নীত করেছে। পারস্পরিক সামরিক সহায়তার এই অঙ্গীকার সোভিয়েত ইউনিয়ন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১৯৬১ সালের চুক্তিকে প্রতিফলিত করেছে। সোভিয়েত পতনের পর সেই চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০০০ সালে পুতিনের প্রথম পিয়ংইয়ং সফরের সময় একটি দুর্বল চুক্তিতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।’ সূত্র: এপি

রক্তাক্ত ফিলিস্তিনিকে জিপে বেঁধে অভিযান

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:০১ এএম
রক্তাক্ত ফিলিস্তিনিকে জিপে বেঁধে অভিযান
জেনিনে সাময়িক অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কাবাতিয়াতে অবস্থান নেয়। এ সময় আহত ফিলিস্তিনিকে জিপে বেঁধে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে অভিযান চালানোর সময় এক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে রক্তাক্ত অবস্থায় জিপের হুডের (ইঞ্জিনের ওপরের অংশ) সঙ্গে বেঁধে নিয়ে যায় ইসরায়েলি সেনারা।

শনিবার (২২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওটি নিয়ে মুখ খুলেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীও।

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তির নাম মুজাহেদ আজমি। ওই ফিলিস্তিনি বাসিন্দাকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি জিপের সামনে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান চলাকালে গুলি বিনিময়ের সময় ওই ফিলিস্তিনি আহত হন। তিনি সন্দেহভাজন ছিলেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, আহত ওই ফিলিস্তিনিকে এভাবে গাড়ির সামনে বেঁধে রেখে তাদের সেনারা প্রটোকল ভেঙেছে।  

আহত ওই ফিলিস্তিনির পরিবার বলেছে, তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন। ওই সময় সেনাবাহিনী তাকে ধরে জিপের হুডের ওপর বেঁধে রাখে। এরপর গাড়িটি চালিয়ে যায়। পরে আহত ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য রেড ক্রিসেন্টে পাঠানো হয়। এ ঘটনার তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে  আইডিএফ।

এদিকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ওই উপত্যকায় ২৪ ঘণ্টায় ১০১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬৯ ফিলিস্তিনি। এতে উপত্যকাটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৫৫১ জনে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় এ পর্যন্ত ৮৫ হাজার ৯১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় যেসকল স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে সেগুলোর নিচে এখনো অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছে। ইসরায়েলি অবরোধের ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না ইসরায়েল। যেখানে সর্বশেষ রায়ে তেল আবিবকে অবিলম্বে রাফাতে হামলা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রবিবার (২৩ জুন) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রধান ও মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। যেখানে গাজা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ ও লেবাননের সঙ্গে সীমান্তে শত্রুতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে লেবাননের অস্ত্র বিনিময় ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আট মাসের বেশি আগে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে অগ্নিসংযোগ করছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।

হিজবুল্লাহর নতুন ড্রোন ভিডিও প্রকাশ 
রবিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে হিজবুল্লাহ নতুন ড্রোন ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই ভিডিওতে হাইফা শহরের সামরিক অঞ্চলসহ ইসরায়েলের স্পর্শকাতর স্থানগুলো দেখানো হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে।

‘টু হুম ইট মে কনসার্ন’ শিরোনামে হিজবুল্লাহর প্রকাশিত ভিডিওটিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে। যেখানে হাকিরিয়া কমপ্লেক্সেরও স্পষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। মূলত এই কমপ্লেক্স থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও সামরিক কমান্ড পরিচালিত হয়।

হিজবুল্লাহর দাবি, ভিডিওটিতে এমন তথ্য রয়েছে যা কেউ আগে করতে সক্ষম হয়নি। যেখানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) ঘাঁটি ও তিনটি গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রের সামুদ্রিক স্থানাঙ্কের অবস্থান ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে হিজবুল্লাহ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের আকাশসীমা হাইফা বন্দরে অনুপ্রবেশের কয়েকদিন পর হিজবুল্লাহ আবারও ড্রোন ফুটেজ প্রকাশ করেছে। পুনরায় এমন পদক্ষেপের অর্থ হলো, এটি হিজবুল্লাহর তরফ থেকে ইসরায়েলের জন্য আরও একটি সতর্কবার্তা। এটা দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারাও ইসরায়েলের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করতে পারে। এমনকি সর্বাত্মক যুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করতেও সক্ষম তারা। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু নিউজ এজেন্সি, আল-জাজিরা