সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আরও দুটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন। শুনানির সময় সাবেক প্রধানবিচারপতি কাঠগড়ায় নিশ্চুপভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফ্যাস্টিস বানানোর মূল কারিগর তিনি। প্রধান বিচারপতি হয়ে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে সব বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। যে কারণে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অসংখ্য মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। বিচারবিভাগে দলীয়করণের মাধ্যমে সহযোগিতা করায় ফ্যাস্টিস হাসিনা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা তাকে দিয়েছে। তিনি হত্যা মামলাগুলোর এজাহারনামীয় আসামি। তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে, খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন বলেন, সাবেক প্রধান এই বিচারপতি জুডিশিয়াল 'মব' সন্ত্রাসের শিকার। একই ঘটনায় তিনটি মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুদকের মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ৫ মার্চ জামিন পান। এর পরপরই এ দুইটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
৮১ বছরের বৃদ্ধ একজন ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হোক।
বিচারক এ সময় বলেন, এই আদালতে শুধু গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হবে। জামিনের বিষয়ে আবেদন নথিভুক্ত করা হলো। শুনানি শেষে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান গত ১০ মার্চ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
এছাড়া গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যার ঘটনায় আদাবর থানা মামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ টিপু সুলতান গত ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।
শুনানির জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কারাগার থেকে এনে সকাল সাড়ে ৯টায় সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় আদালতের এজলাসে নিয়ে আসা হয়।
আরিফ হত্যা মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আরিফের চোখে গুলি লাগে। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় ২৬ আগস্ট আরিফের বাবা মো. ইউসুফ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।
রুবেল হত্যা মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শেষদিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক'শ ছাত্র-জনতা সকাল ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিং রোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন।
ওই সময় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীরা ওই মিছিলে অতর্কিতে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে রুবেল ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় ২২ আগস্ট নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলাটি করেন
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জলিল উজ্জ্বল/নাঈম