ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

বাকস্বাধীনতা না থাকলে ভাষা থেকেও লাভ নেই : ড. আনোয়ারউল্লাহ

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৫ পিএম
বাকস্বাধীনতা না থাকলে ভাষা থেকেও লাভ নেই : ড. আনোয়ারউল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাকস্বাধীনতা না থাকলে ভাষা থেকেও লাভ হয় না। সরকারের নানা পদক্ষেপের ফলে দেশে এমন এক ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যেখানে অনেকেই মুক্তভাবে তাদের মনের কথা বলতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘সমাজ-রাষ্ট্রে মানুষের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা যদি রক্ষিত না হয় তাহলে অশুভ শক্তির বিকাশ দৃশ্য-অদৃশ্য সব স্তরে ঘটে। ফলে সহনশীল সংস্কৃতির পরিবর্তে, অসহনশীল দানবীয় সংস্কৃতি জায়গা করে নেয় যা রাষ্ট্র ও সমাজকে আক্রান্ত করে এবং সৃষ্টিশীলতার পথ স্বাভাবিকভাবেই রুদ্ধ হয়ে আত্মবিকাশের প্রশ্ন হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এজন্য আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের মূল শর্ত পক্ষ-বিপক্ষের চিন্তার অধিকার রক্ষা করা।’

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সম্ভাবনার বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভাষা দিবসের চেতনা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আনোয়ারউল্লাহ এসব কথা বলেন।

দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ড. আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। 

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রহুল আমিন গাজী, কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা সিটি কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নূর নবী মানিক।

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে যে সংগ্রাম, তা আমাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বাংলা ভাষা আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আজও লেখা হয়নি। পাল আমলে বাংলা ভাষা ও জ্ঞান চর্চা হয়েছে। সেন রাজারা বাংলার মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে এবং বাংলা ভাষা চর্চা ও কথা বলা নিষিদ্ধ করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষা আজও চালু হয়নি। আজ শাসকগোষ্ঠীর কারণে বাংলা ভাষা সর্বস্তরে চালু হয়নি। বাংলা ভাষা আজ অবহেলিত। দেশে আজ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। আমি নিজে একটি শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলাম কিন্তু আজও সেই কমিশনের একটি সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যে শিক্ষা দেওয়ার কথা সে শিক্ষা পাচ্ছে না আমাদের সন্তানরা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’  

প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার প্রকৃত শিক্ষা যদি আমরা গ্রহণ করতে পারতাম তবে আরও উন্নত হতাম। জাতিরাষ্ট্র নির্মাণে মুসলিম মূল্যবোধ গঠনের বিকল্প নেই। দেশের মুসলমানরা যে ভাষায় কথা বলে সেটাই বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের কালচার। দেশের তরুণরা যদি এগিয়ে না আসে তবে আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা কঠিন হবে।’ 

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘বাংলায় সেন আগ্রাসনের সময় বৌদ্ধদের ওপর গণহত্যা চালায়। সেন রাজারা জাতিগত বৈষম্যের বর্ণ প্রথা চালু করে এবং বাংলা ভাষা চর্চা ও কথা বলা নিষিদ্ধ করে। বাংলা ভাষায় কথা বললে জিহ্বা কেটে ফেলা হতো সেন শাসনকালে। রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার বৌদ্ধ ও মুসলমানদের এবং বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেন বখতিয়ার খিলজি।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানুষের ভোটের অধিকার নাই। সরকারি দল ও পুলিশি শাসনে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ জুলুমের শিকার। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। জুলুম-নির্যাতনমুক্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করতে হবে।’  

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেসব অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, চিন্তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, কথা বলার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং লেখার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আবার নতুন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইসলাম ও মুসলমান বলে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে তা পরিহার করতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষিত মূল চেতনা হলো সাম্য, মানবতা ও ইনসাফ বা সামাজিক ন্যায়বিচার। যারা স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে আধিপত্যবাদ, গণতন্ত্র হরণকারী কর্তৃত্ববাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।’ 

এনাম/সালমান/

পদ্মা সেতু দিয়ে স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৩ এএম
পদ্মা সেতু দিয়ে স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছেন। 

সোমবার (১৫ এপ্রিল) খুলেছে সরকারি অফিস আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে যোগ দিতে ভোর থেকেই পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন।

সকালে শরীয়তপুর জাজিরা পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের তেমন কোন চাপ দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে মোটরসাইকেলের চাপ ছিলো চোখে পড়ার মতো। 

যাত্রী ও চালকরা জানান, ভোগান্তি আর ঝামেলা ছাড়াই এবার ঈদ শেষ করে ঢাকায় ফিরতে পেরেছেন তারা। পদ্মা সেতু তাদের জীবনের যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। 

তবে, বাড়তি ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। ঈদ বকশিশের কথা বলে বাসগুলো বাড়তি টাকা আদায় করেছে বলে জানান তারা।

রাজবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে আসা রুবেল জানান, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় আসতে অনেকটা পথ বেশি হলেও ফেরিপথ থেকে সময় কম লাগে। সহজে আসা যায়। তাই ঝামেলা ছাড়াই তিনি এবার পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার স্বস্তির কথা জানান।

বরিশাল থেকে আসা জুয়েল হোসেন জানান, আগে লঞ্চ দিয়ে ঈদ করতে বাড়িতে যেতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা লঞ্চে বসে থাকতে হতো। এখন আর সেই ঝামেলা নেই। সহজেই অল্প সময় ঢাকা থেকে বাড়িতে ঈদ করতে আসতে পারছেন আবার চলেও যেতে পারছেন।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আগে যখন ঈদের ছুটিতে আসতাম, তখন এই ঘাটে ফেরির জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম। আর এখন পদ্মা সেতু খুব সহজেই বাড়িতে আসি, আবার ঢাকায় চলে যাই। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার ম্যানেজার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা। মোট গাড়ি পারাপার হয়েছে ৩৪ হাজার ৯২৬টি।

রাজিব হোসেন/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫১ এএম
চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়েছে, রংপুর ও নীলফামারী জেলাসহ রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এছাড়া আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অমিয়/

ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান
ফিটনেসবিহীন ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান শুরুর ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ৪৮৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ত্রুটিপূর্ণ ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৬ ঘন্টায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেলসহ ৪৮৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ ।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই অভিযান শুরু হয়। 

এই অভিযানের ফলে ফিটনেসবিহীন এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় চলাচল করা লক্ষণীয়ভাবে কমে যাবে বলে আশা করা যায়। 

চলমান এই অভিযানে বিভিন্ন ব্যানারে চলাচলরত বাসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইদা, শ্যামলী, রাজীব, শরীয়তপুর সুপার, বাহাদুর শাহ, পদ্মা, গাবতলী ৮নং, বলাকা, তুরাগ, হানিফ, আবাবিল, অনাবিল সুপার, বোরাক, বিহঙ্গ, পাহাড়িকা, মেঘনা ডিলাক্স, ট্রান্সসিলভা, বিকল্প, ইমরান, শিকড়, ইমাদ, গ্রিন এক্সসেস, হানিফ, জেদ্দা বাস, বিএমএফ বাস, রাজধানী, রমজান, আশিয়ান, মিয়ামি, সেবা, দিঘীরপাড়, সেবা সুপার, তিশা, অনন্যা সুপার, লাবিবা, শ্রাবণ, ইভান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবহন,  ইউরো পরিবহন, চৌধুরী পরিবহন, জয় পরিবহন, সুরমা সুপার, সাজ্জাদ বাস, সেভেন স্টার, আনন্দ, সাকুরা, সুন্দরবন ও চৌধুরী পরিবহন। 

তাছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি যাতে মহানগরীতে প্রবেশ করে যানজট সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এনাম আবেদিন/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ এএম
বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে
ছবি : সংগৃহীত

মায়ানমার চলমান সংঘাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ৫ সদস্য। এ নিয়ে এখন ১৪ জন বিজিপি সদস্য বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে এই ৫ বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এর আগে রবিবার ভোরে অস্ত্রসহ ৯ বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল ও রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী ও খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার ১৪ জন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে, গত ৩০ মার্চ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৭ জন বিজিপি সদস্য। এরপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ৩ জন সদস্য তুমব্রু সীমান্ত এলাকা কোনাপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির স্কুলে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ নিয়ে সর্বমোট ১৯৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে চলমান অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমার সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে ১৫ দিন পর কক্সবাজারের ইনানী নৌবাহিনীর জেটি দিয়ে সাগরপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শাহীন/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৫ পিএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় ড. হাছান বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না। ইরান ‘রিটালিয়েট’ করেছে-ইরানের বক্তব্য তাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।’

অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সহযাত্রী হয়েছে।’

সক্রিয় ভূমিকার জন্য জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরঅএম গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দক্ষিণ সীমান্তে মায়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে।’

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/