ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৯ এএম
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদানকারী এই সংস্থাটি বলেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। সরকার চলতি অর্থবছরে সংশোধিত জিডিপির যে লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করেছে, তার চেয়ে আরও কম হবে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে সরকার সংশোধিত জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।

এবার প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার পেছনে তিনটি কারণকে শণাক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

কিছু নীতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেমন: জ্বালানি খাতে সংস্কার। রপ্তানিতে ভতুর্কি কমানো এবং মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বেগবান করার কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার শিথিল করা, মুদ্রা এবং রাজস্ব নীতি আরও কার্যকর করা। 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের পর টানা দুই অর্থবছর দেশের প্রবৃদ্ধির হার কমে ৬ শতাংশের নিচে নামতে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশে ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা দরকার। সম্পদের মান ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যাংক একীভূত করা উচিত বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির রাশ আরও টেনে ধরা দরকার বলেও তারা অভিমত দেয়।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগে মন্দাবস্থা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হারসহ দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে এই খাত চাপের মুখে আছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি, লেনদেন ভারসাম্যে ধারাবাহিক ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এই ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আর্থিক সংস্কার ও মুদ্রার একক বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি। মুদ্রার বিনিময় হারে অধিকতর নমনীয়তা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অর্থনীতির বৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, সেই সঙ্গে তারল্যের রাশ টেনে ধরা, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, আমদানি বিধিনিষেধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, পরের অর্থবছরে তা অনেকটা কমে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে তারা মনে করছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থা নিয়ে হতাশ জাতিসংঘ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৭ পিএম
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থা নিয়ে হতাশ জাতিসংঘ
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি নিয়ম মেনেই মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের আশায় গিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। এখন তারা চরম দুরবস্থায় রয়েছেন। কয়েক মাস ধরেই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীরা অসম্মানজনক অবস্থায় বসবাস করছেন। 

বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর যেন শোষণ-নির্যাতনসহ অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন না করা হয়, সে জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। 

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেশির ভাগ অভিবাসী মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেখেন যে তাদের প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান নেই। এমন অবস্থায় প্রায়ই মালিকপক্ষ কর্মীদের ভিসা আটকে রাখে। ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য করে। ফলে এই অভিবাসীরা গ্রেপ্তার, আটক, দুর্ব্যবহার এবং নির্বাসনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, প্রতারণার মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যে নেটওয়ার্ক অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দুই দেশকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। এতে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

রিয়াজ/এমএ/

মায়ানমারের আরও ১৩ বিজিপি সদস্যের বাংলাদেশে আশ্রয়

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম
মায়ানমারের আরও ১৩ বিজিপি সদস্যের বাংলাদেশে আশ্রয়
ছবি : সংগৃহীত

জীবন বাঁচাতে মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ১৩ সদস্য। তারা নাফনদী পেরিয়ে টেকনাফ কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। 

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল টেকনাফের নাফ নদীতে নতুন করে আরও ১৩ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, টেকনাফ স্টেশনের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড উক্ত বিজিপি সদস্যদেরকে বিজিবি'র নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর নিকট হস্তান্তর করে। এ নিয়ে ২৭৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে অবস্থান গ্রহণ করছে। তাদের ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।

এদিকে ঈদের দিন থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মায়ানমারের রাখাইন রাজ‌্যে জান্তা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষে একের পর এক মর্টার শেল-গোলার বিকট শব্দে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। 

নতুন করে কিছু মিয়ানমারের বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্তে যাতে কোন অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আমরা সর্তক অবস্থানে রয়েছি। 

টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দা মো. আলম বলেন, গতকাল রাতেও সীমান্তে মিয়ানমারের থেকে বিকট গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। ওপারে যুদ্ধের কারণে টিকতে না পেরে দেশটির বিজিপির সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার খবর পাচ্ছি।  এছাড়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জেনেছি। 

নতুন করে সীমান্ত দিয়ে কিছু মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, বিজিপি সদস্যদের নিরস্ত্র করে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। পাশাপাশি সীমান্তে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি সর্তক অবস্থানে আছেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম
ঢাকা শিশু হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা শিশু হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউ ইউনিটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫টি ইউনিটের চেষ্টায় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ২টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পেয়ে প্রথমে দুই ইউনিট ও পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ এসেছে।’

তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণে ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি তিনি। 

এর আগে দুপুর পৌনে ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

সালমান/ 

ঢাকা শিশু হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৬ পিএম
ঢাকা শিশু হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা শিশু হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউ ইউনিটে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫টি ইউনিট কাজ করছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পেয়ে প্রথমে দুই ইউনিট ও পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সালমান/

জাতীয় পতাকার নকশাকার শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১১ পিএম
জাতীয় পতাকার নকশাকার শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন
শিব নারায়ণ দাস। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রথম পতাকার অন্যতম নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

শিব নারায়ণ দাসের ছেলে অর্ণব আদিত্য দাস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

শিব নারায়ণ দাস উচ্চতর শিক্ষার জন্য নিজের মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছেন। 

কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা শিব নারায়ণ দাসের বাবা সতীশচন্দ্র দাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। শিব নারায়ণ দাসের স্ত্রী গীতশ্রী চৌধুরী এবং তাদের এক ছেলে অর্ণব আদিত্য দাস।

শিব নারায়ণ দাস প্রথম ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন অংশ নিয়ে কারাবরণ করেন তিনি।

১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এই লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি জয়বাংলা বাহিনী, মতান্তরে ‘ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী’ গঠন করা হয়। ছাত্রনেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

এই লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) ১০৮নং কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিব নারায়ণ দাস, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন।

সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান (খসরু) তখন ঢাকা নিউ মার্কেটের এক বিহারী দর্জির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনলেন, এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়েদে আজম হলের (বর্তমানে তিতুমীর হল) ৩১২নং কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র।

শিব নারায়ণ দাস পরিশেষে তার নিপুণ হাতে মানচিত্রটি আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে, এমনি করে রচিত হলো ‘ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী’র পতাকা, যা কিছুদিন পর স্বীকৃত হয় বাংলাদেশের প্রথম পতাকা হিসেবে। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/