ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অধিকার এগিয়ে নিতে ডব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অধিকার এগিয়ে নিতে ডব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সায়মা ওয়াজেদ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ

সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ বলেছেন, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য মানবাধিকারের অধিকারকে এগিয়ে নিতে ডব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে তিনি এ আহ্বান জানান। 

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার’ (মাই হেলথ, মাই রাইট)। বিশ্ব এখন রোগব্যাধি, বিপর্যয় থেকে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক সংকটের মুখোমুখি। মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করার অর্থ হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেকে সর্বত্র উচ্চমানের স্বাস্থ্যসুবিধা, পরিষেবা এবং পণ্যগুলোর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে যা জনগণের চাহিদা, বোঝাপড়া এবং মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।’ 

‘এটি অধিকারের একটি সম্পূর্ণ সেটকে বোঝায়, যা মানুষকে স্বাস্থ্যকরভাবে বাঁচতে সক্ষম করে। যেমন- শিক্ষা, নিরাপদ পানি এবং খাদ্য, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বাসস্থান, ভালো কর্মসংস্থান, পরিবেশগত অবস্থা এবং তথ্য- যা সুস্বাস্থ্যের অন্তর্নিহিত নির্ধারক।’

আঞ্চলিক পরিচালক জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যের অধিকার পূরণের জন্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্তর্নিহিত নির্ধারক উভয়ই উপলব্ধ, প্রাপ্তিযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং পর্যাপ্ত মানের হওয়া উচিত।
 
সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মান অথবা স্বাস্থ্যের অধিকার বিশ্বব্যাপী এবং অঞ্চলে ডব্লিউএইচওর মিশনের মূল বিষয়। এটা ডব্লিউএইচওর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘তবে অগ্রগতি সত্ত্বেও, ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আমাদের এখনো যথেষ্ট উপায় রয়েছে।’ 

ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বছর উদযাপন করার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল স্বাস্থ্যের অধিকারের বিষয়ে অনেক অর্জন দেখেছে এবং অনেক কিছু উদযাপন করতে পারে।

ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ সার্ভিস কভারেজ সূচক ২০১০ সালে ৪৭ থেকে ২০২১ সালে ৬২তে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মেডিকেল, চিকিৎসক, নার্স এবং মিডওয়াইফদের গড় হার প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার ২৮.০৫ এ দাঁড়িয়েছে।  যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৩০.৫ শতাংশ বেড়েছে।

এই অঞ্চলটি ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হারের অনুপাত হ্রাস পেয়েছে ৬৮.৫ শতাংশ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুহার ২০০০ সালে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে ৮৪ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৪১ জন থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ২৫ শতাংশ এবং ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ৬২ শতাংশ কমেছে।

স্বাস্থ্যের অধিকারের প্রতি বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই অঞ্চলের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর কভারেজের অভাব রয়েছে। সরকারগুলোর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ, যা স্বাস্থ্যের অধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও এটি অগ্রহণযোগ্যভাবে কম। যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেশি হয়েছে। যার ফলে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন পরিবারের অনুপাত বাড়ছে।

২০১৫ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এই অঞ্চলে যক্ষায় মৃত্যুর হার ৮.৬ শতাংশ বেড়েছে। চারটি প্রধান রোগ- কার্ডিওভাসকুলার, ক্যানসার, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুহার এখন ২১.৬ শতাংশ, যা অগ্রহণযোগ্যভাবে উচ্চ হার।

দরিদ্রতম এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হয়। প্রায়শই তাদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দরিদ্র জীবনমানের কারণে তাদের যত্নের অভাব তাদের বেশি রোগ এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী।

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, লিঙ্গবৈষম্য অসংক্রামক স্বাস্থ্য অবস্থার নির্ণয় এবং চিকিৎসার ন্যায়সঙ্গত সুবিধাকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ- পুরুষদের তুলনায় রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া মহিলাদের একটি উচ্চ অনুপাতের চিকিৎসা করা হয় না। এই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবধান উচ্চ রক্তচাপের জন্যও দেখা যায়।

নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একটি অগ্রাধিকার জনস্বাস্থ্য সমস্যা ব্যাপক রয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী তাদের জীবনে অন্তত একবার অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। যেখানে গ্রামীণ ও অশিক্ষিত মহিলারা এবং সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের লোকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন।

অনেকে এখনো টিবি, এইচআইভি/এইডস, অক্ষমতা বা মানসিক অসুস্থতার মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার সাথে কলঙ্কের সম্মুখীন হতে হয়। তারা তাদের লিঙ্গ, শ্রেণি, জাতি, ধর্ম, যৌন উন্মাদনা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বৈষম্যের শিকার হয়।
 
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ বলেন, সাম্য এবং বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যের জন্য মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয় মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে অংশগ্রহণের নীতিকে মেনে চলতে হয়।

তিনি বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস-ভিত্তিক পদ্ধতির সাথে জবাবদিহিতাও অবিচ্ছেদ্য: উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা বা তাদের চাহিদা পূরণের জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিষয়ে প্রভাবিত গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের কাছে রিপোর্ট করা।’ 

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মানবাধিকারের অধিকারকে সম্মান করা, রক্ষা করা এবং পূরণ করা এবং তাদের প্রগতিশীল উপলব্ধি নিশ্চিত করার জন্য সব সরকার এবং অন্য কর্তাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির কভারেজের ভিত্তিতে সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যকে এগিয়ে নিতে হবে।’ 

ভালো আইনগুলো আরও কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা করতে পারে, উন্নত পুষ্টি স্থূলতা এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ন্যায্য এবং সমান কাজের পরিস্থিতি এবং আরও অনেক কিছুর ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। 

তিনি বলেন, সবার জন্য ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য, গ্রহণযোগ্য করা দরকার। সূত্র: বাসস

অমিয়/

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৫ পিএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় ড. হাছান বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না। ইরান ‘রিটালিয়েট’ করেছে-ইরানের বক্তব্য তাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।’

অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সহযাত্রী হয়েছে।’

সক্রিয় ভূমিকার জন্য জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরঅএম গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দক্ষিণ সীমান্তে মায়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে।’

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/ 

 

মুক্তিপণ নিয়ে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
মুক্তিপণ নিয়ে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিককে। মুক্তিপণ পেয়ে জাহাজ ও নাবিকদের ছেড়ে চলে যায় দস্যুরা। তবে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সোমালিয়ার স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘গারোই অনলাইন’। 

সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিককে জিম্মি করে রাখা ৮ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে পুন্টল্যান্ড পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের কোনো অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে কি-না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

এদিকে দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

দুই দস্যু রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই দিন আগেই মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে যায় তারা। পরে সেগুলো আসল নাকি নকল সেটি যাচাই করে তারা। এরপর মুক্তিপণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে পালিয়ে যায় তারা। 

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে জিম্মি করে দস্যুরা। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তি পেল জাহাজ ও নাবিকরা। সূত্র : গারোই অনলাইন

সালমান/

কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকরা। ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে কত টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলেনি জাহাজটির মালিকপক্ষ। 

মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা না করতে কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে বলে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম জানিয়েছেন।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় কেএসআরএমের করপোরেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার প্রক্রিয়া হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধার করেছি। আমাদের সঙ্গে তাদের কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে মুক্তিপণের বিষয়ে আলোচনা না করার জন্য। সেই অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আমি আপনাদের সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে পারব না। কারণ এটা আমি সই করেছি।’ 

তবে সোমালি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

দ্য ডেইলি সোমালিয়া জানিয়েছে, দস্যুরা মুক্তিপণ পেয়ে সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুটল্যান্ডের উপকূলে যায়। সোমালিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন তাদের ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশি জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। দুই দস্যুর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে তারা। 

এদিকে ওই দুই দস্যু রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই দিন আগেই মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে যায় তারা। পরে সেগুলো আসল নাকি নকল সেটি যাচাই করে তারা। এরপর মুক্তিপণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে পালিয়ে যায় তারা। 

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে জিম্মি করে দস্যুরা। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তি পেল জাহাজ ও নাবিকরা। সূত্র : দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও রয়টার্স

সালমান/  

ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলছে সোমবার

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১০ পিএম
ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলছে সোমবার
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটি শেষে আগামীকাল সোমবার (১৫ এপ্রিল) খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার।

গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দেশে উদযাপিত হয় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল সরকারি ছুটি ছিল। ঈদের পর ১৩ এপ্রিল শনিবার সপ্তাহিক ও ১৪ এপ্রিল রবিবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের ছুটি। 

ফলে ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি কাটাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। টানা পাঁচ দিন ছুটি শেষে সোমবার অফিস পাড়ায় যোগ দেবেন কর্মজীবীরা। তবে যারা ঢাকার বাইরে ঈদ করতে গেছেন তাদের অনেকে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। তাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অফিস-আদালতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েকদিন লেগে যাবে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজও আগামী সপ্তাহে খুলবে। তখন স্বাভাবিকরূপে ফিরবে রাজধানী ঢাকা।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো টানা ৬ দিন ছুটি কাটাচ্ছেন সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ৯ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সূত্র : বাসস

সালমান/

এত অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি নজিরবিহীন : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
এত অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি নজিরবিহীন : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা (জিম্মি থেকে উদ্ধার) নজিরবিহীন। নববর্ষের প্রথম দিনে হয়েছে আমরা আনন্দিত। শুধু তাদের আত্মীয় স্বজন নয়, পুরো দেশবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা আমাদের নাবিকদের মুক্ত করতে পেরেছি।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও এর ২৩ নাবিক মুক্ত হয়েছেন। জলদস্যুদের মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘টাকা-পয়সা কিংবা মুক্তিপণের সঙ্গে আমাদের কোনো ইনভলমেন্ট নেই। টাকা দিয়ে জাহাজ ছাড়িয়ে আনা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখাচ্ছেন, এসব ছবির কোনো সত্যতা নেই। ছবিগুলো কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে- সেটি আমরা জানি না।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যতটুকু হয়েছে আমাদের ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ইউরোপিয়ান নেভাল, ভারতীয় নৌবাহিনী, সোমালিয়ান পুলিশ... আমি সোমালিয়া পান্টল্যান্ড পুলিশকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তারা সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইমের যে উইংগুলো রয়েছে, তারা আমাদের খুবই সহায়তা করেছে।’

মুক্তিপণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেছি দীর্ঘদিন। এখানে মুক্তিপণের কোনো বিষয় নেই। আমাদের আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ আছে। সেই চাপগুলোও এখানে কাজে দিয়েছে।’

খালিদ মাহমুদ বলেন,‘জলদস্যুরা একেবারে সর্বশক্তিমান, ব্যাপারটা তো এমন নয়। তারা ভীষণ চাপের মধ্যে ছিল, সোমালিয়ান পুলিশের বিরাট একটা চাপ ছিল। জলদস্যুদের কারণে একটি দেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, এটা তারা (সোমালিয়ান পুলিশ) উপলব্ধি করছে, সেই উপলব্ধি থেকে তারা খুবই সজাগ ছিল এবং জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য খুবই তৎপর ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ ও নেগোসিয়েশনও আছে। তাদেরও (জলদস্যু) জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপার ছিল। চাপটাতো তাদের ওপর সার্বক্ষণিকই ছিল।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটা চরম পর্যায়ে গিয়েছিল, সেই কারণেই তারা সেখান (জাহাজ) থেকে নেমে গেছে। চাপ এত ছিল, তারা যখন জাহাজটা নিয়ন্ত্রণে নেয় সেখানে ২০ জন ছিল জলদস্যু, গতকাল তারা যখন জাহাজ ছেড়ে যায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজে অবস্থান নিয়েছিল। মূল ভূখণ্ডে তাদের কী পরিমাণ চাপ ছিল, সেটা বুঝতে হবে। গতকাল সবাই একসঙ্গে সেখান (জাহাজ) থেকে চলে গেছে। দুই নটিক্যাল মাইলের মধ্যে তাদের ঘিরে ফেলা হয়েছিল। অন্যান্য ফ্লিকগুলো (বিভিন্ন বাহিনী) অবস্থান করছিল যখন তারা চলে যায় সেই মুহূর্তে। তারা বুঝতে পেরেছিল আমাদের জীবন নিরাপদ না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সেই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কথা বলে ফ্লিকগুলোকে একটু দূরে দিয়ে তাদের যেতে সহায়তা করেছে। আমি জানি না ভুল ভূখণ্ডে যাওয়ার পর জলদস্যুদের কী অবস্থা হয়েছে না হয়েছে।’

পুরো বিষয়কে বিশাল কর্মযজ্ঞ উল্লেখ করে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যতগুলো মেইল করেছি সেগুলো এক জায়গায় করলে বড় একটা বাস্কেট ভরে যাবে। প্রতি মুহূর্তে আমাদের করসপন্ডেন্ট রাখতে হয়েছে। আমরা এত তৎপর এবং এত সিরিয়াস ছিলাম- এটা সবাই উপলব্ধি করেছে।’

ভবিষ্যতে যাতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম মাকসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

৩১ দিন পর জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশি নাবিকরা। গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে তারা। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/