ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ এএম
বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে
ছবি : সংগৃহীত

মায়ানমার চলমান সংঘাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ৫ সদস্য। এ নিয়ে এখন ১৪ জন বিজিপি সদস্য বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে এই ৫ বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এর আগে রবিবার ভোরে অস্ত্রসহ ৯ বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল ও রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী ও খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার ১৪ জন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে, গত ৩০ মার্চ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৭ জন বিজিপি সদস্য। এরপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ৩ জন সদস্য তুমব্রু সীমান্ত এলাকা কোনাপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির স্কুলে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ নিয়ে সর্বমোট ১৯৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে চলমান অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমার সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে ১৫ দিন পর কক্সবাজারের ইনানী নৌবাহিনীর জেটি দিয়ে সাগরপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শাহীন/অমিয়/

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৪ এএম
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী

বাংলা ভাষার কবিতাপ্রেমীদের কাছে কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, চির যৌবনের দূত। সেই সঙ্গে তিনি বিদ্রোহী, গৃহত্যাগী বাউন্ডুলে। 

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন ‘দুখু মিয়া’। পিতৃহীন কবি একে একে হারিয়েছেন কাছের স্বজনদের। আর্থিক অসচ্ছলতাও তার জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। 

নানা বাধা অতিক্রম করে একসময় তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন। সাম্য ও মানবতার চেতনায় শাণিত ও সমৃদ্ধ ছিল তার লেখনী। অন্যায় অসত্য পরাধীনতার বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্যের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন ‘বিদ্রোহী কবি’। 

নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

১৯৪২ সালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বাকশক্তি হারান নজরুল। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানের বিএসএমএমইউ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবি নজরুল ইসলামের। 

জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং নজরুল’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবার জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, ‘কুসংস্কার আর অন্যায়ের সকল আবরণ বিদীর্ণ করে নজরুল তৈরি করেছেন নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন উপস্থাপন কৌশল ও ভিন্নতর ভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করতেন কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের, বিশেষ শ্রেণির কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানে তার পরিচয় নয়। তিনি সব মানুষের, সব সমাজের, সব কালের। তার চেতনা ও মানবতাবোধ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমাদের সঠিক পথ দেখাবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘কবি নজরুল তার প্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তিসংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করেছেন। নজরুল সাহিত্যের বিচিত্রমুখী সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় জীবনে এখনো প্রাসঙ্গিক। কবি নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তারই প্রতিফলন আমরা পাই জাতির পিতার সংগ্রাম ও কর্মে।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খানের নেতৃত্বে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও এদিন শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। এ আসরে প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী। 

এ ছাড়াও ময়মনসিংহ, জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লার দৌলতপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আগামীতে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:০৯ এএম
আগামীতে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

শিখন ঘাটতি পূরণে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি আগামীতে থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। 

শুক্রবার (২৪ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এখন অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম ভিত্তিক শিখন পদ্ধতি। যদি বেশি সময় ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে তা শিক্ষার্থীদের জন্যও অনেক কঠিন হয়ে যায়। অবশ্যই শনিবার খোলা থাকা প্রত্যাশিত নয়। যেহেতু কিছুদিন নষ্ট হয়েছে তবে আমরা আশা করি আগামীতে এটি আর থাকবে না।’ 

শনিবার ক্লাসের বিষয়ে চূড়ান্ত করা এমন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিখনফল অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মদিবস থাকে। তাছাড়া শিক্ষায় আমাদের যে কর্মদিবস হোক সেটি বছরব্যাপী নির্দিষ্ট করতে হয়। যেহেতু আমরা অনেকগুলো কর্মদিবসে পড়াতে পারেনি, সেজন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে খোলা আছে। তবে এটি সাময়িক একটি প্রক্রিয়া। ঈদুল আযহা পরবর্তী দিবসের ব্যাপারে যদি পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়, তখন সেটি থাকবে না।’ 

২০২৬ সাল থেকে কারিকুলাম পুরোপুরি সব শ্রেণির জন্য বাস্তবায়ন হবে কি না এবং ধারণা দেওয়া হয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরুতে প্রথম যে পরীক্ষাটি হবে সেটি দশম শ্রেণির। মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে তখন সেটি আমরা প্রকাশ করব। এখন একটা সমস্যা হলো এ নিয়ে স্পেকুলেশন বেশি হলে, শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষক বিভ্রান্ত হবেন। তাই এই মুহুর্তে মন্তব্য করতে চাই না। তবে সামষ্টিক ও কার্যক্রম মূল্যায়নের যে বিষয়টি আছে সেই দুটোর মধ্যে সমন্বয় করে একটি ভারসাম্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আগে বিভাগ অনুযায়ী অনেকগুলো বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা রয়েছে, সেটির সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে। তাই এই বিষয়ে বলা এখন সমীচীন হবে না।’ 

এর আগে টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যোগাযোগ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র অল্প কিছু সংখ্যক সরকারি চাকরির যে হাতছানি, সেটার প্রতি ধাবিত হওয়ার মানসিকতা শিক্ষার্থীদের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রোলিং হচ্ছে।’

এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ, আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ারুল-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) এবং মহাসচিব মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

আরিফ জাওয়াদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

নজরুলের গানেই বিদ্বেষ, সহিংসতা রুখে দেওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
নজরুলের গানেই বিদ্বেষ, সহিংসতা রুখে দেওয়ার আহ্বান
ছবি : খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানে যে সাম্য ও মানবতার বাণী ধ্বনিত হয়েছে বারবার, সে বাণীকে জাতীয় জীবনে ধারণ করে সমাজের সব বিদ্বেষ ও সহিংসতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা৷

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর আয়োজনে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন৷ 

শনিবার (২৫ মে) ভোর সোয়া ৬টায় জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খানের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানায় বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর, কপিরাইট অফিস, শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা।

নজরুল সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে সারা বিশ্বে যেভাবে যুদ্ধ ও অশান্তি লেগে আছে নজরুল কিন্তু সবসময় এটার বিপক্ষে ছিলেন৷ অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ছিলেন তিনি। সবসময় শান্তি চাইতেন৷ নজরুলের গানগুলো যদি আন্তর্জাতিকভাবে চর্চা করি, তাহলে বিশ্বকে শান্তির স্থানে নিয়ে যেতে পারব৷
  
নজরুল সংগীত ও নজরুল রচনাবলীর প্রচার ও কপিরাইট বিষয়ে খবরের কাগজের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইজাহার খান বলেন, নজরুলের গানের কপিরাইট সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু পরিবারের না, রাষ্ট্রেরও৷ নজরুলের গান যত তাড়াতাড়ি করে ফেলতে পারবো, ততই ভালো৷ তাহলে দেশের সম্পদ দেশেই থাকবে৷

পরে তিনি বলেন, আমরা চাইবো, কবির যত গান, নাটক, রচনা রয়েছে তা কেবল ইংরেজি ভাষায় নয়, বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়৷ নজরুলের কবিতা ও গান নিয়ে আরও গবেষণা করা উচিত৷ 

পরে নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, মানুষে মানুষে যে হানাহানি, সমাজে যে বিদ্বেষ কবি নজরুল এর বিপক্ষে ছিলেন আজীবন৷ তিনি জীবনভর বলে গেছেন মানুষে মানুষে প্রেম থাকবে৷ জাতীয় কবির দর্শন, ভাবনাগুলো জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারলে তবে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবো৷ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সারাজীবন অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতার চর্চা করেছেন এবং সাম্যবাদের পক্ষে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। নজরুলের প্রতিবাদ ও সাম্যের কথা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমরা নজরুল চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারবো৷ 

অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠায় নজরুল চর্চার তাৎপর্য নিয়ে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন,নজরুলকে আমরা তখনই সর্বাত্মকরণে ধারণ করতে পারব, যখন আমরা জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িকতাকে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া, ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান  উপস্থিত ছিলেন৷ 

পরে ঢাবির বিভিন্ন হলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়৷ 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, সিপিবি, বাসদ, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোট, সমাজতান্ত্রিক মহিলা দল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট৷ 

এছাড়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সুরসপ্তক, ধুমকেতু, আন্তর্জাতিক নজরুল একাডেমি, বাফা, জলতরঙ্গের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ 

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/

সিলেটের নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ এএম
সিলেটের নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান
গ্যাসকূপের সন্ধান। খবরের কাগজ ফাইল ফটো

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। খননকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে ৪ মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গ্যাসের ফ্লো শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) ও আগামীকাল রবিবার (২৬ মে) এই পরীক্ষা চলমান থাকবে। প্রেসার ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস যেতে পারবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে উপজাত হিসেবে কনডেনসেটও (তরল হাইড্রোকার্বন) মিলবে, তবে প্রতি ঘনফুট গ্যাসের সঙ্গে কী পরিমাণ কনডেনসেট মিলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই তা জানা যাবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তার একটি এই কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ। এ কূপের খনন কাজ শুরু হয় চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি। সাড়ে ৪ মাসে সফলভাবে খনন কাজ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গ্যাসের প্রেশারসহ অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ জানাবেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির এই কূপটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে খনন করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। কূপের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিদ্যমান পাইপলাইন ও আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবহারযোগ্য প্রসেস প্ল্যান্ট রয়েছে। 

তাই দ্রুত এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে জানান কর্মকর্তারা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। কূপের ৩ হাজার ৪৪০ থেকে ৫৫ হাজার ফুট গভীরতায় গ্যাস পাওয়া গেছে। পাইপলাইন হয়ে গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা: কাদের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৩৫ এএম
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা: কাদের
ছবি : খবরের কাগজ

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকের এদিনে বলতে চাই, আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু সেই বিজয়কে সুসংহত করার এখনো অনেক কাজ বাকি। বিজয়কে সুসংহত করার পথে বাধা দিতে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের কিছু সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি তৎপর। আজকের এ দিনে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, বিদ্রোহ বেদনার কবি, যৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। জাতীয় কবির জন্মতিথিতে আমরা বলব, বাঙালি জাতির স্বাধিকার সংগ্রাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের প্রেরণার উৎস হচ্ছেন কবি নজরুল। যার কবিতা, গান স্বাধীনতা ও স্বাধিকার সংগ্রামে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বিএনপি নেতাদের এক অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে জেলে পাঠানোর এজেন্ডা আমাদের নেই। যে দুর্বৃত্ত, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন করে, অস্ত্র ব্যবসা করে, অপরাধীর বিরুদ্ধে জেল-জুলুম হয়, মামলা হয়। সেখানে কোনো বিএনপি বা কোনো দলের ব্যাপারে নির্বাচনের পর নতুন করে আমরা কোনো চিন্তাভাবনা করিনি। এমন চিন্তা নেই যে, রাজনৈতিক দলের কাউকে নির্যাতন করব, জেলে পাঠাব।

তবে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, এসবের সঙ্গে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নয়, এরা হচ্ছে দুর্বৃত্ত। তাদের শায়েস্তা করতেই হবে জনস্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/