ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

সেরেলাকে চিনি মেশায় নেসলে: গবেষণা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৬ এএম
সেরেলাকে চিনি মেশায় নেসলে: গবেষণা প্রতিবেদন
ছবি : সংগৃহীত

বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা নেসলের শিশুখাদ্য সেরেলাক বিক্রি হয় বিশ্বের বহু দেশে। এবার সে খাদ্য নিয়েই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশ ও দরিদ্র দেশগুলোতে সেরেলাকে চিনি মেশায় প্রস্তুতকারী সংস্থা নেসলে। তবে উন্নত দেশে এমনটা করে না তারা।

সুইজারল্যান্ডের অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা পাবলিক আই ও ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের যৌথ গবেষণায় ওঠে এসেছে বিষয়টি। তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য নেসলের ব্র্যান্ড নিডোর যেসব পণ্য আছে তার সবকয়টিতেই বাড়তি চিনি আছে।

যুক্তরাজ্যসহ নেসলের প্রধান ইউরোপীয় বাজারগুলোতে সেরেলাকে কোনো চিনি ব্যবহার করা হয়নি। তবে সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল কিংবা দরিদ্র দেশগুলোতে সেরেলাকের পণ্যতে চিনির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 

যেমন- সুইজারল্যান্ডে নেসলে নিজেদের বিস্কুট ফ্লেভারের সেরেলাকে কোনো চিনি মেশায় না। অথচ ওই একই ফ্লেভারের সেরেলাক যেটি সেনেগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোতে চিনি মেশানো হচ্ছে। গবেষণায় ৬ গ্রাম করে বাড়তি চিনির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 

একইভাবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে নেসলে ১২ থেকে ৩৬ মাস বয়সীদের জন্য যেসব পণ্য বিক্রি করে, সেগুলোর কোনোটিতেই কোনো বাড়তি চিনি নেই। ছয় মাস বয়সী শিশুদের জন্য তৈরি সিরিয়ালেও কোনো চিনি নেই। একই চিত্র গমভিত্তিক সেরেলাকেরও। সেটি ছয় মাস বয়সী শিশুদের জন্য তৈরি করে নেসলে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের বাজারে ওই পণ্যে কোনো চিনি নেই। কিন্তু ইথিওপিয়া ও থাইল্যান্ডের বাজারে ওই একই পণ্যগুলোতে যথাক্রমে ৫ গ্রামের বেশি করে চিনি পাওয়া গেছে।   

সেরেলাকে চিনি ব্যবহার করে বিক্রি করা হয় যেসব দেশে, সেসব দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তানের বাজারেও চিনি মিশ্রিত পণ্য বিক্রি করে তারা। পাবলিক আইয়ের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এ তথ্য।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতা ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আফ্রিকায় ২০০০ সাল থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র: পাবলিক আই

 

বঙ্গবাজারসহ ৪ প্রকল্প উদ্বােধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:০৫ এএম
বঙ্গবাজারসহ ৪ প্রকল্প উদ্বােধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারের স্থানে ১০তলা বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণিবিতান, নজরুল সরোবর, শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মণি সরণি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শনিবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবিএম তাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাসিম উপস্থিত ছিলেন।

 

বড় বাজেট শুধু কাগজেই

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:০১ এএম
বড় বাজেট শুধু কাগজেই
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রতিবছরই বাজেটের আকার বাড়ছে। ঘোষণা করা হচ্ছে বিশাল বাজেট। অর্থবছরের শেষে একবার সংশোধনও করা হয়। শুরুতে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, অর্থবছরের শেষে তার চেয়ে অনেক কম ব্যয় হয়। বাজেটের প্রাক্কলন এবং প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ফারাক থাকে। ফলে বড় বাজেট ঘোষণা করে সরকার বাহবা পেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয় না বলে সরকারের সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও।

এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদরা বলেন, বড় বাজেট শুধু কাগজেই। বাস্তবে প্রকৃত খরচ বা বাস্তবায়ন অনেক কম। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বাস্তবায়নের সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমছে। যদিও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেসব কোনো কাজে আসছে না। 

গত পাঁচ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘোষিত বা মূল বাজেট থেকে প্রকৃত বাজেটের পার্থক্য ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ বাজেটের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করতে পারছে না সরকার।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বড় বাজেটের পেছনে যতটা অর্থনৈতিক যুক্তি কাজ করে, তার চেয়ে বেশি কাজ করে রাজনৈতিক প্রভাব। বাজেটের সুফল সাধারণ জনগণ খুব কমই পায়। তাদের মতে, বাজেটের আকারের চেয়ে প্রকৃত ব্যয়ই হলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকৃত খরচই অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, বড় বাজেট দিলেই হবে না। দেখতে হবে, দেশের অর্থনীতির সেটা ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে কি না। তা না হলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না জনগণ।

জাতীয় সংসদে নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রথমবারের মতো আগামী ৬ জুন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। 

অর্থ বিভাগের বাজেট পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘোষিত বা মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে প্রকৃত বা নিট ব্যয় হয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। তার মানে ঘোষিত বাজেট অপেক্ষা ১ লাখ ৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়। ওই বছর বাস্তবায়নের হার ছিল ৮১ শতাংশ। সহজভাবে বললে বোঝায়, ১০০ টাকা বাজেটের মধ্যে সরকার মোট ব্যয় করতে পেরেছে ৮১ টাকা। যেখানে পাঁচ বছর আগে ১০০ টাকার মধ্যে ব্যয় হতো ৯৩ টাকা। গত পাঁচ বছরে বাজেটের আকার বাড়লেও কমে গেছে বাস্তবায়নের সক্ষমতা। 

২০২১-২২ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নিট বা প্রকৃত খরচ হয় ৫ লাখ ১৮ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। ঘোষিত বাজেট অপেক্ষা কম খরচ হয়েছিল ৮৫ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। 

২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। ওই বছর সংশোধিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। বছর শেষে প্রকৃত খরচ হয় ৫ লাখ ৭০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল বাজেট অপেক্ষা কম খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। 

যে অর্থবছরটি শেষ হতে যাচ্ছে (২০২৩-২৪), বাজেট ঘোষণার সময় আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আগের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছর শেষে খরচ হতে পারে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত বাজেটের চেয়ে কম ব্যয় হতে পারে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সে জন্য আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেট অপেক্ষা প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় ব্যয়ের যে প্রাক্কলন করা হয়, বছর শেষে তার চেয়ে অনেক কম খরচ হয়। প্রতিবছরই এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি বরাদ্দের চেয়ে প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্য বেশি হচ্ছে। বেশির ভাগ লক্ষ্যই অর্জিত হয় না। ফলে বাজেট এখন ‘কাগজে’ পরিণত হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেওয়ার কথা বলা হলেও সেটি কখনোই আমলে নিচ্ছে না সরকার। বড় বাজেটের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে- এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ না হলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজেটের আকার জিডিপির মাত্র ১৪ শতাংশ। এটি প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভারতসহ অনেক দেশের তুলনায় কম। বেশি কর্মসংস্থান ও উচ্চপ্রবৃদ্ধির জন্য বাজেট আরও বড় করতে হবে। সে জন্য সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাজেটের আকার বাড়িয়ে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ১৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। যেহেতু আমাদের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কম, সে জন্য আরও বড় বাজেট করা সম্ভব হচ্ছে না। যেভাবেই হোক, রাজস্ব আহরণ বাড়াতেই হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে বাজেটের আকার জিডিপির ২৭ শতাংশ। থাইল্যান্ডে এ হার ২২ শতাংশ। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাজেটের আকার জিডিপির যথাক্রমে ৫৬ ও ৪০ শতাংশ। সে তুলনায় বাংলাদেশে বাজেটের আকার জিডিপি অনুপাতে অনেক কম। 

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, উন্নয়ন বাজেট বা এডিপির বাস্তবায়ন হার ৮০ শতাংশের ঘরে থাকলেও অনুন্নয়ন বা পরিচালন বাজেটের বাস্তবায়ন হার ৯০ শতাংশের বেশি হয়। উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়নও তাড়াহুড়ো করে হয় শেষ দিকে। যেমন গত পাঁচ অর্থবছর আগে থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি অর্থবছরেই প্রথম ৯ মাসে উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। পরের তিন মাসে হয় বাকিটা। শেষ সময়ে বাস্তবায়ন বেশি হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, উন্নয়ন বাজেট তথা এডিপি বাস্তবায়নে নানা দুর্বলতা রয়েছে। এসব কারণের মধ্যে প্রকল্প পরিচালকদের কর্মস্থলে না থাকা অন্যতম। এ বিষয়টি কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা, যন্ত্রপাতি, জনবলের ঘাটতিও এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়ার কারণ। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সুনির্দিষ্ট ও সময়নিষ্ঠ পরিকল্পনার অভাবে বাজেট বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। 

বাজেটে বাস্তবায়ন বিষয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের প্রথম ভাগে বাস্তবায়ন চলে ধীরগতিতে। অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণেও ধীরগতি দেখা যায়। এ সময়ে বেতন-ভাতা ছাড়া প্রকল্পের অন্যান্য আইটেমের বিপরীতেও ব্যয় কম হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মেরামত, সংরক্ষণ, নির্মাণ ও পূর্তকাজ এবং মালামাল কেনা ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবায়ন ব্যর্থতার কারণগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদে তেমন আলোচনাও হয় না। অথচ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ তৈরি, কর্মসংস্থান তৈরি ও আয় বৃদ্ধির অন্যতম অনুঘটক হচ্ছে এডিপির বাস্তবায়ন। এডিপির বাস্তবায়ন পিছিয়ে থাকলে পুরো বাজেটের বাস্তবায়নই পিছিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. জায়েদ বখত খবরের কাগজকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতার যে ঘাটতি আছে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর নানাবিধ কারণ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে আন্তমন্ত্রণালয় বিরোধ থাকে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

আগামীতে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:০৯ এএম
আগামীতে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

শিখন ঘাটতি পূরণে শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি আগামীতে থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। 

শুক্রবার (২৪ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এখন অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম ভিত্তিক শিখন পদ্ধতি। যদি বেশি সময় ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে তা শিক্ষার্থীদের জন্যও অনেক কঠিন হয়ে যায়। অবশ্যই শনিবার খোলা থাকা প্রত্যাশিত নয়। যেহেতু কিছুদিন নষ্ট হয়েছে তবে আমরা আশা করি আগামীতে এটি আর থাকবে না।’ 

শনিবার ক্লাসের বিষয়ে চূড়ান্ত করা এমন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিখনফল অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মদিবস থাকে। তাছাড়া শিক্ষায় আমাদের যে কর্মদিবস হোক সেটি বছরব্যাপী নির্দিষ্ট করতে হয়। যেহেতু আমরা অনেকগুলো কর্মদিবসে পড়াতে পারেনি, সেজন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে খোলা আছে। তবে এটি সাময়িক একটি প্রক্রিয়া। ঈদুল আযহা পরবর্তী দিবসের ব্যাপারে যদি পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়, তখন সেটি থাকবে না।’ 

২০২৬ সাল থেকে কারিকুলাম পুরোপুরি সব শ্রেণির জন্য বাস্তবায়ন হবে কি না এবং ধারণা দেওয়া হয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরুতে প্রথম যে পরীক্ষাটি হবে সেটি দশম শ্রেণির। মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে তখন সেটি আমরা প্রকাশ করব। এখন একটা সমস্যা হলো এ নিয়ে স্পেকুলেশন বেশি হলে, শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষক বিভ্রান্ত হবেন। তাই এই মুহুর্তে মন্তব্য করতে চাই না। তবে সামষ্টিক ও কার্যক্রম মূল্যায়নের যে বিষয়টি আছে সেই দুটোর মধ্যে সমন্বয় করে একটি ভারসাম্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আগে বিভাগ অনুযায়ী অনেকগুলো বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা রয়েছে, সেটির সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে। তাই এই বিষয়ে বলা এখন সমীচীন হবে না।’ 

এর আগে টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যোগাযোগ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র অল্প কিছু সংখ্যক সরকারি চাকরির যে হাতছানি, সেটার প্রতি ধাবিত হওয়ার মানসিকতা শিক্ষার্থীদের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রোলিং হচ্ছে।’

এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ, আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ারুল-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) এবং মহাসচিব মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

আরিফ জাওয়াদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

নজরুলের গানেই বিদ্বেষ, সহিংসতা রুখে দেওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
নজরুলের গানেই বিদ্বেষ, সহিংসতা রুখে দেওয়ার আহ্বান
ছবি : খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানে যে সাম্য ও মানবতার বাণী ধ্বনিত হয়েছে বারবার, সে বাণীকে জাতীয় জীবনে ধারণ করে সমাজের সব বিদ্বেষ ও সহিংসতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা৷

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর আয়োজনে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন৷ 

শনিবার (২৫ মে) ভোর সোয়া ৬টায় জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খানের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানায় বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর, কপিরাইট অফিস, শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা।

নজরুল সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে সারা বিশ্বে যেভাবে যুদ্ধ ও অশান্তি লেগে আছে নজরুল কিন্তু সবসময় এটার বিপক্ষে ছিলেন৷ অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ছিলেন তিনি। সবসময় শান্তি চাইতেন৷ নজরুলের গানগুলো যদি আন্তর্জাতিকভাবে চর্চা করি, তাহলে বিশ্বকে শান্তির স্থানে নিয়ে যেতে পারব৷
  
নজরুল সংগীত ও নজরুল রচনাবলীর প্রচার ও কপিরাইট বিষয়ে খবরের কাগজের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইজাহার খান বলেন, নজরুলের গানের কপিরাইট সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু পরিবারের না, রাষ্ট্রেরও৷ নজরুলের গান যত তাড়াতাড়ি করে ফেলতে পারবো, ততই ভালো৷ তাহলে দেশের সম্পদ দেশেই থাকবে৷

পরে তিনি বলেন, আমরা চাইবো, কবির যত গান, নাটক, রচনা রয়েছে তা কেবল ইংরেজি ভাষায় নয়, বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়৷ নজরুলের কবিতা ও গান নিয়ে আরও গবেষণা করা উচিত৷ 

পরে নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, মানুষে মানুষে যে হানাহানি, সমাজে যে বিদ্বেষ কবি নজরুল এর বিপক্ষে ছিলেন আজীবন৷ তিনি জীবনভর বলে গেছেন মানুষে মানুষে প্রেম থাকবে৷ জাতীয় কবির দর্শন, ভাবনাগুলো জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারলে তবে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবো৷ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সারাজীবন অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতার চর্চা করেছেন এবং সাম্যবাদের পক্ষে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। নজরুলের প্রতিবাদ ও সাম্যের কথা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমরা নজরুল চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারবো৷ 

অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠায় নজরুল চর্চার তাৎপর্য নিয়ে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন,নজরুলকে আমরা তখনই সর্বাত্মকরণে ধারণ করতে পারব, যখন আমরা জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িকতাকে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া, ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান  উপস্থিত ছিলেন৷ 

পরে ঢাবির বিভিন্ন হলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়৷ 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, সিপিবি, বাসদ, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোট, সমাজতান্ত্রিক মহিলা দল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট৷ 

এছাড়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সুরসপ্তক, ধুমকেতু, আন্তর্জাতিক নজরুল একাডেমি, বাফা, জলতরঙ্গের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ 

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/

সিলেটের নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ এএম
সিলেটের নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান
গ্যাসকূপের সন্ধান। খবরের কাগজ ফাইল ফটো

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। খননকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে ৪ মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গ্যাসের ফ্লো শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) ও আগামীকাল রবিবার (২৬ মে) এই পরীক্ষা চলমান থাকবে। প্রেসার ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস যেতে পারবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে উপজাত হিসেবে কনডেনসেটও (তরল হাইড্রোকার্বন) মিলবে, তবে প্রতি ঘনফুট গ্যাসের সঙ্গে কী পরিমাণ কনডেনসেট মিলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই তা জানা যাবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তার একটি এই কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ। এ কূপের খনন কাজ শুরু হয় চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি। সাড়ে ৪ মাসে সফলভাবে খনন কাজ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গ্যাসের প্রেশারসহ অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ জানাবেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির এই কূপটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে খনন করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। কূপের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিদ্যমান পাইপলাইন ও আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবহারযোগ্য প্রসেস প্ল্যান্ট রয়েছে। 

তাই দ্রুত এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে জানান কর্মকর্তারা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। কূপের ৩ হাজার ৪৪০ থেকে ৫৫ হাজার ফুট গভীরতায় গ্যাস পাওয়া গেছে। পাইপলাইন হয়ে গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।