ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলা ও ঝিনাইদহ-১ আসনে উপনির্বাচন ৫ জুন

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০১ পিএম
চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলা ও ঝিনাইদহ-১ আসনে উপনির্বাচন ৫ জুন
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলা ও ঝিনাইদহ-১ শূন্য আসনে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব উপজেলা ও ঝিনাইদহ-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোট হবে আগামী ৫ জুন। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচনে ভবনে ৩২তম কমিশন সভা শেষ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. জাহাংগীর আলম। 

চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৯ মে, বাছাই ১২ মে, বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ১৩ থেকে ১৫ মে, আপিল নিষ্পত্তি ১৬ থেকে ১৮ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২০ মে। আর ভোট হবে ৫ জুন। ৫৫ উপজেলার মধ্যে দুই উপজেলায় ইভিএমে ভোট হবে।’ 

তিনি আরও জানান, এর আগে এই ধাপে দেশের ৫৪ উপজেলায় ভোটের কথা ছিল। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার এক প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া ওই উপজেলার ভোটও এই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে উপজেলার সংখ্যা একটি বাড়ায় চতুর্থ ধাপে ৫৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। 

ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘এই নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৭ মে, মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ মে, বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ১০ থেকে ১৪ মে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৫ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ মে এবং প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ১৭ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তা।’ 

ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই-এর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত ১৬ মার্চ থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  

এলিস/সালমান/

‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না’

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না’
ছবি : সংগৃহীত

‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না। পুরুষের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের বাইরে থাকে শুধু ১৮ শতাংশ কাজ। ২০২১ সালে বিআইডিএস পরিচালিত একটি জরিপ অনুযায়ী, সে বছর নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ ছিল ৫ হাজার ৩০৭ বিলিয়ন টাকা সমমূল্যের, যা জিডিপির ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। সে বছর জিডিপিতে পুরুষের অবদান ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’

রবিবার (২৬ মে) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত (এমজেএফ) এক সেমিনারে এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা। রাজধানীর মহাখালীতে ‘রিকগনিশন অব আনপেইড কেয়ার ওয়ার্ক: অ্যা স্টেপ টুওয়ার্ডস ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড সোশ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না। নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ জিডিপির বাইরে রাখার কোনো কারণ নেই। যেসব নারী গৃহস্থালি কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের অবদানকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী গৃহকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আনপেইড কেয়ার ওয়ার্কের স্বীকৃতি না দেওয়া একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বাজেটে আনপেইড কেয়ার ওয়ার্ক অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছি।’ 

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছি, তার জন্য সামাজিক ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাধারার পরিবর্তন অনেক বেশি জরুরি। আমাদের রীতিনীতি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি একটি বড় বাধা। এসবের জন্য আমাদের বাড়তি কিছু নীতিমালা তৈরি ও বাজেটে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈতনিক কাজের বড় একটি অংশ নারী। এই চিত্র পরিবর্তনের জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। নারীদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা এবং দেশের প্রেক্ষাপটে ডে কেয়ার প্রোগ্রাম চালু করা দরকার।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের হার প্রায় ৪২ শতাংশ। বাল্যবিবাহ নারীদের অবৈতনিক কাজের মূল্যায়ন না হওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ। আরও একটা অন্যতম কারণ হলো লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা।’ 

শাহীন আনাম বলেন, ‘সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর বৈতনিক কাজের চেয়ে অবৈতনিক কাজের মূল্য তিন গুণ বেশি। এখন সময় এসেছে স্যাটেলাইট সিস্টেম অব অ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে নারীর অবৈতনিক কাজগুলো অর্থনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর আর্থিক মূল্য জাতীয় বাজেটের কত অংশ, তাও দেখতে হবে।’

ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলী সিং মনে করেন, স্বীকৃতির প্রক্রিয়াটি সম্মিলিত পদ্ধতিতে হতে হবে। অংশীদারত্ব ও সমন্বয় এখানে মূল বিষয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের পরিচালক (কর্মসূচি) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে এমজেএফ ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন, জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় আয় পরিমাপের পদ্ধতি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।

রিমাল মোকাবিলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
রিমাল মোকাবিলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালে রূপ নিয়েছে যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় বিভিন্ন স্থানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে তা মোকাবেলায় উপকূলীয় ১২ জেলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্যকে চার দিনের জন্য মোতায়েন করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। 

শনিবার (২৬ মে) শনিবার বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে এসকল কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশাবলী জারি করা হয়। 

এছাড়া রবিবার (২৬ মে) আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট ও আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়কগণকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্যরা।

খাজা/এমএ/

গত বছরের তুলনায় এবার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দ্বিগুণ, মৃত্যু ৩ গুণ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
গত বছরের তুলনায় এবার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দ্বিগুণ, মৃত্যু ৩ গুণ
ডেঙ্গু

দেশে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৭০৫ জন। মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে, ২৩) আক্রান্ত ছিল ১ হাজার ৬২০ জন এবং মৃত্যু ছিল ১৩ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল শনিবার পাঁচ মাসের কম সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৪৫ জন, যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং মারা গেছেন ৩৩ জন, যা গতবারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। 

রবিবার (২৬ মে) জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে (নিপসম) এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

রাজধানীর নিপসমের নিজস্ব মিলনায়তনে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  লাইন ডিরেক্টর (সিডিসি) ডা. দাউদ আদনান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিপসমের এন্টমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সুপারিশসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘সমন্বিত এবং সুসংহত কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য অব্যাহত গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত আগামীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী সমাধান করবে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্বের যে দেশগুলো সফল হয়েছে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা জানা যেতে পারে। এর সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে প্রযোজ্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর অধীনস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আসা এন্টমোলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আজিজ-বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪০ পিএম
আজিজ-বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো নিয়ম-দুর্নীতির তথ্য থাকলে, তার বিচার সেনাবাহিনী করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। 

একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

রবিবার (২৬ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. কৃষ্ণমূর্তি ভি সুব্রামানিয়ান। 

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় আগামী অর্থবছরের বাজেট ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। 

নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব। নদী রক্ষায় দখল, দূষণরোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান জেনারেশন অনেক ট্যালেন্ট, অনেক মেধাবী। কারণ তাদের এত বেশি পরিধি তৈরি হয়ে গেছে, যদি সেটাকে কাজে লাগাতে না পারি-তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতার জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য যে রক্ত ক্ষয় হয়েছে; সে রক্ত বৃথা হয়ে যাবে। আমরা চাই না এ ধরনের অপরাধী, দখলদার, দূষণকারীদের কাছে বাংলাদেশের এত বড় একটি অহংকার, এত বড় গর্বের জায়গা পরাজিত হোক। এটা আমরা মানতে পারি না, আমরা মানবও না এবং আমাদের সংগ্রাম থাকবে ও সংগ্রাম নিরন্তর চলবে।

প্রতিমন্ত্রী (২৬ মে) ঢাকায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘জাতীয় নদী কনফারেন্স-২০২৪’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. শরীফ উদ্দিন, নিজেরা করি এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স এসোসিয়েশন (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, রিভারাইন পিপল এর পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ, রিভার এন্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মো. এজাজ, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, নদী সংগঠক জুলিয়েট কেয়া মালাকার, রণজিত দত্ত, আলিউর রহমান, নুর আলম শেখ, পল্টন হাজং, এস এম মিজানুর রহমান, খাইরুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন সোহেল।

নদী বাঁচাই, দেশ বাঁচাই এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নদী সম্মেলন-২০২৪ আজ শেষ হয়েছে। এএলআরডি, বেলা, ওয়াটার রাইটস ফোরাম, রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের সম্মেলন প্রমাণ করে, নদীকে নিয়ে আমরা কত ভাবি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে সময় বঙ্গবন্ধু বিআইডব্লিউটিএর জন্য সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের দেহে শিরা উপশিরা দিয়ে যেরকম রক্ত প্রবাহিত হয়, বাংলাদেশের নদীগুলো আমাদের সেরকম শিরা-উপশিরা। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশ থেমে যাবে। নদীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালোবাসা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষা করার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বলেছেন। এর আগে কোন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান এমন কথা বলেছেন- তার প্রমাণ নেই। আজকে সরকার প্রধান নদীকে রক্ষা করতে হবে এ ধরনের কথা বলেন বলেই যারা নদী নিয়ে ভাবেন, কথা বলেন, তাদের কাছে সেটি শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়। শুধু নদী দখল নয়। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সকল ক্ষেত্র দখল হয়ে যায়। দখলদারিত্বের মহা উৎসব চলে। বঙ্গবন্ধু হত্যা ব্যক্তি বা পারিবারিক হত্যা নয়, এটি বাংলাদেশকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু নৈতিকতার উপর দেশ পরিচালনা করেছেন। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিতে পারে, সে দেশের মানুষ সোনার বাংলা তৈরি করতে পারবে না সেটা আমার বিশ্বাস হয় না, সে দেশের মানুষ নদীকে হত্যা করতে পারে, দখল করতে পারে সেটি বিশ্বাস করা যায় না। নদী-নালা, খাল বিল আমাদের সম্পদ। নদী নালা খাল বিল না থাকলে আমরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে পারতাম না। সে সময়ে নদী-নালা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেভাবে সুন্দরবন আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করছে। 

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন সমীক্ষা করেছে, দখলদারদের তালিকা করেছে। এসব জায়গায় ভুল থাকতে পারে, তবে যাত্রা শুরু হয়েছে। নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব। নদী রক্ষায় দখল, দূষণরোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আপনারা যারা নদী রক্ষায় কাজ করেন তারা সচেতনতা তৈরি করুন। দায়িত্ব চিহ্নিত করুন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সহায়তা করবে, সরকার সহায়তা করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে- এটা সত্য। নদীর পাড়ে ইন্ডাস্ট্রি হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, শহর হবে সবই ঠিক আছে। সেগুলো হবে নদীকে রক্ষা করে কিন্তু নদীকে ধ্বংস করে নয়। ২০১৯ সালে ঢাকা শহরের চারপাশে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় অনেক ধরনের শক্তিশালী লোক ছিল; আমি সংসদে বলেছি সরকার বা রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নেই। নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সরকার ও রাষ্ট্রের আন্তরিকতা আছে। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে সেই সময় বলেছেন, তুমি চোখ বুজে কাজ কর। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কর এবং নদীর প্রাণ প্রবাহ ফিরিয়ে আন। নদী রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকারের সময়ে নদী রক্ষা কমিশন হয়েছে, হাওড় বোর্ডকে অধিদপ্তরের উন্নীত করা হয়েছে, বালু ব্যবস্থাপনা নীতিমালা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন ‘কোন হাইড্রোগ্রাফি জরিপ ছাড়া বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না। একই জায়গায় বার বার বালু উত্তোলন করা যাবে না।