ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাফল্য

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১১:২৭ পিএম
আপডেট: ১২ মে ২০২৪, ১১:৩৩ পিএম
চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

এবারও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় গৌরবময় ফলাফল অর্জন করেছে চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। 

রবিবার (১২ মে) ঘোষিত ফলাফলে এ বছর দাখিল সাধারণ, বিজ্ঞান ও কারিগরি শাখায় ২৯জন শিক্ষার্থী এ প্লাস, ৬২ জন এ গ্রেড ও ৬ জন এ মাইনাসসহ মোট ৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। 

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মাদরাসাগুলোর মধ্যে চরমোনাই মাদরাসা বরাবরই ঈর্ষণীয় ফলাফল করে আসছে।

ভালো ফলাফলের জন্য চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী মহান রব্বুল আলআমীনের মহান দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

ফলাফলের ঐতিহ্য ধরে রাখায় চরমোনাই মাদরাসার সকল ছাত্র, শিক্ষক, গভর্ণিং বডির সদস্য এবং সকল ছাত্র অভিভাবক, দাতাসদস্য, বিভিন্নভাবে সহযোগী ও শুভাকাঙ্খীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রিন্সিপাল।

উল্লেখ্য, এ মাদরাসার দাখিল শাখায় ভোকেশনাল (কারিগরি), আলিম জামায়াতে বিজ্ঞান, ফাযিলে আল কুরআন, আল হাদীস ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং কামিলে হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ বিভাগ চালু আছে।

সংসদে বাজেট আলোচনা আ.লীগ বাজেটের ৮৭ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করেছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ এএম
আ.লীগ বাজেটের ৮৭ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করেছে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের ৮৭ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করেছে। অথচ বিএনপি বাস্তবায়ন করেছিল তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের ৭০ শতাংশ। রবিবার (২৩ জুন) সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি করেছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। 

তারা বলেন, চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং হামাস-ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে ৬ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। আলোচনায় সরকারি দলের হুইপ সাইমুম সারওয়ার কামাল বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে বিএনপি ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার বাজেট দেয়। তাদের শেষ বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকার। বিএনপি তাদের ৫ বছরের মেয়াদে প্রতিবছর মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ তার বাজেটের সূচনা করেছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা দিয়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে গত ৫ বছরে বাজেটে বার্ষিক ৭০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। 

সরকারি দলের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিধান প্রকৃত করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি দলের সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, এই বাজেটে জনগণের বৃহত্তর সুবিধার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি রোধে জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের আজাদ বলেন, প্রকৃত করদাতারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স দিচ্ছেন। কেন কালোটাকার মালিক তাদের টাকা বৈধ করতে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দেবেন। এ ছাড়া আলোচনায় সরকারি দলের সদস্য মেহের আফরোজ, জাতীয় পার্টির সদস্য এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিন, জয়া সেনগুপ্তা, মো. সিদ্দিকুল আলম অংশ নেন।

এলিস/এমএ/

২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মারোগ দূর করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:০৫ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:০৫ এএম
২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মারোগ দূর করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৬০ লাখ (১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন) মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। তবে বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মারোগ দূর করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোবাল ফোরাম’ আয়োজিত যক্ষ্মারোগের অবসান ঘটাতে ‘মাল্টিসেক্টরাল ও মাল্টিস্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহিতার অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালে যক্ষ্মাবিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতারা যক্ষ্মা প্রতিরোধের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যক্ষ্মারোগ দূরীকরণে মূল কারণগুলো মোকাবিলা করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা দূর করার লক্ষ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. সায়মা ওয়াজেদ ভিডিও বার্তায় যক্ষ্মারোগ সম্পর্কে বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর টি কাসিভা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা প্রমুখ।
 

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি: বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠনের গভীর উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১১:১৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১১:২০ পিএম
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি: বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠনের গভীর উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা। এ নিয়ে রবিবার (২৩ জুন) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন তারা। 

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী: সম্পাদক পরিষদ 

গণমাধ্যম নিয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রবিবার পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ঢালাও প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপ চর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিবাদের মাধ্যমে দেওয়া পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার প্রতি অশোভন, অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বহিঃপ্রকাশ। 

পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, যারা এসব খবর প্রকাশ করেছেন তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে সংশয় থাকলে যথাযথ নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রেস কাউন্সিলের দ্বারস্থ হতে পারে। তা না করে প্রতিবাদের মাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপ, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধের নামে গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে গণমাধ্যম কর্মীদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।’

এই বিবৃতি দুর্নীতিকে সুরক্ষা প্রদানের অপচেষ্টা: টিআইবি 

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিষয়টিকে সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁস হওয়া সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী একাংশের দুর্নীতির সুরক্ষা প্রদানের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। টিআইবির পক্ষ থেকে রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

এই বিবৃতিকে উটপাখির আচরণসম উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে দেওয়া বিবৃতিটিই পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিবৃতি একদিকে যেমন সংবিধান স্বীকৃত স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি সরাসরি হুমকি ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিতের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

ব্যক্তিগত দুর্নীতি উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে: ডিআরইউ

সম্প্রতি পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কয়েক কর্মকর্তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কোনো কোনো মহল ও সংগঠন যে ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মনে করছে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। 

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতি করে থাকলে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করা শোভন কাজ নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত দুর্নীতি উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ করা যৌক্তিক নয়।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে মির্জা ফখরুলের বিস্ময় 

রবিবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম যে, গত পরশু পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটা স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে তাদের হুমকি দিয়ে যে, এই সত্য (পুলিশের দুর্নীতির খবর) প্রকাশ করা যাবে না। কারণ এতে নাকি তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়। আজকে সারা দেশের মানুষ জানে, সারা পৃথিবী জানে, পুলিশ বাহিনীর কিছু কিছু সদস্য তারা কীভাবে এই অবৈধ সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা বিত্তবৈভব আর দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। শুধু তাই নয়, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ধবংস করছে। গণতন্ত্রকে ধবংস করার দায়ে তাদেরই নিতে হবে যারা এসবের সঙ্গে জড়িত।

এমন বিবৃতি প্রকারান্তরে দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের পক্ষে: গণ অধিকার পরিষদ 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া বিবৃতি প্রকারান্তরে অসৎ, দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের পক্ষে বলে মনে করছে গণ অধিকার পরিষদ। রবিবার গণ অধিকার পরিষদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের দুর্নীতিবাজ, অসৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। 

পুলিশ সমিতির ক্ষোভে বাংলাদেশ জাসদের নিন্দা

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করায় নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বাংলাদেশের (জাসদ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। 

আছাদুজ্জামানের দুর্নীতি খতিয়ে দেখছে দুদক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১১:৩০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১১:৩০ পিএম
আছাদুজ্জামানের দুর্নীতি খতিয়ে দেখছে দুদক
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দুদকে আসা অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে দুদকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটি। 

‘দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল’-এর পরিচালক উত্তম কুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে যাচাই-বাছাই কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। 

এ ব্যাপারে রবিবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘তার (আছাদুজ্জামান) বিষয়ে আসা অবৈধ সম্পদের অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান করা হবে কি না, সেটা কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের পর জানানো যাবে।’ 

অস্বাভাবিক অর্থ-সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কিছুদিন ধরেই ব্যাপক আলোচনায় আছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এরপর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে আলোচনায় এলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তার অবৈধ সম্পদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় ঈদুল আজহার আগের দিন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট, ছেলের নামে একটি বাড়ি এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের লেন-১-এ ১৬৬ এবং ১৬৭ নম্বরে ১০ কাঠা জমির ওপর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামানের মালিকানায় ছয়তলা একটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীর ইস্কাটনেও স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে ধানমন্ডিতে।

এর বাইরে সিদ্ধেশ্বরীতে মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের চাঁদখোলা মৌজায় ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সর্বমোট ১০৬ শতক জমি কেনা হয় স্ত্রী আফরোজা জামানের নামে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কৈয়ামসাইল-কায়েতপাড়া মৌজায় আফরোজার নামে ২৮ শতক জমি কেনা হয়। একই বছর একই মৌজায় আরও ৩২ শতক জমি কেনা হয় তার নামে। পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি রয়েছে আছাদুজ্জামান মিয়ার নামে। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর আফতাবনগরে ২১ কাঠা জমি রয়েছে। নিকুঞ্জ-১-এ একটি বাড়ি রয়েছে তার ছোট ছেলের নামে।

এই প্রতিবেদন নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হওয়ায় এখন দুদকের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী। দুদকের একটি সূত্র খবরের কাগজকে জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ করলে আগামী সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। 

উল্লেখ্য, আছাদুজ্জামান মিয়া চিকিৎসার জন্য বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

মন্দায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে : সিপিডি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
মন্দায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে : সিপিডি
ছবি : খবরের কাগজ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশে চাহিদার তুলনায় ৪৬ শতাংশ উদ্বৃত্ত সক্ষমতা রয়েছে। বাড়তি এ সক্ষমতার জন্য ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। চলমান সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাজনিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের বাড়তি অর্থ ব্যয় কেবলই অপচয়।

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে সিপিডি।

সিপিডি জানায়, দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। সেখানে বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে টাকা যাচ্ছে সরকারের তহবিল থেকে।

বক্তারা বলেন, সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও দেশের মানুষ ঘরবাড়ি ও শিল্পে বিদ্যুৎ পায় না। অথচ বাড়তি সক্ষমতার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। যে বিদ্যুৎ আমরা পাই না, তার জন্য রাষ্ট্রকে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অর্থ জনগণের দেওয়া কর থেকে ব্যয় করা হয়। সুতরাং এ ধরনের চুক্তিসমূহ সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের জন্য বাড়তি খরচ (ক্যাপাসিটি চার্জ) বহন করছে সরকার। এই সক্ষমতা দেশের অর্থনীতির মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ উৎপাদন না করলেও দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিতে হয় ক্যাপাসিটি চার্জ। এই চার্জের নামে এখন হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সরকারের তহবিল থেকে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তার উপস্থাপনায় বলেন, দেশে এখন বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যবহার করা না গেলেও কেন উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে? 

তিনি বলেন, সরকার এখন যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করেছে, তা ২০৩০ সালেও প্রয়োজন হবে না। আজ থেকে ছয় বছরে চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ২৫ শতাংশ রিজার্ভ ধরলে তখন ২৩ হাজার ২৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হলেই হয়।

গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, সক্ষমতা বাড়লেও এখনো দেশে হচ্ছে লোডশেডিং। গরমে গড়ে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটে লোডশেড করা হয়। বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত নিয়ে স্পষ্ট কিছু নেই। সরকার এই খাত নিয়ে কী করবে, সে ব্যাপারেও অন্ধকারে সবাই। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ও হামিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের কথা বলে দাম বাড়ানো হলো, কিন্তু লোডশেডিং কমেনি। ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ডিজেল দিয়ে, সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে কারখানা চালাতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। অনেক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকায় দেশে বিনিয়োগ আসছে না। প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ২২ শতাংশ। 

বাজেটের অধিকাংশ ব্যয় অনুন্নয়ন খাতে হয় দাবি করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করে দামি গাড়ি কেনা হচ্ছে, যেখানে ভারতের মন্ত্রীরা নিজেদের দেশের গাড়িতে চড়েন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে এখন উৎপাদনক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট পার করেছে। এতে জিডিপি বেড়েছে। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হবে, তা সংশোধন হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে।

ভারতের বিনিয়োগ পলিসির কথা তুলে ধরে এ কে আজাদ বলেন, তাদের জমি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাবিসিডাইজড, পাঁচ বছরের জন্য কর্মীদের বেতন দেয় সরকার, বিনিয়োগ তো সে দেশেই হবে। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও দেশে সুবিধা মিলছে না। কারণ ডলারের দাম বেশি। আজ প্রাইমারি এনার্জি থাকলে বিদ্যুৎ খাতের যেসব বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তা হতো না।

অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সবার আগে একটি আধুনিক জ্বালানি নীতিমালা প্রয়োজন। তা না করে শুধু জোড়াতালি দিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য একের পর এক মাস্টারপ্ল্যান ফেল করছে। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষ বিধান বাতিল করতে হবে। টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প নেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো ১২-১৩ টাকায় সৌরবিদ্যুতের চুক্তি হচ্ছে। যেটা ৮-৯ টাকায় করা সম্ভব দরপ্রক্রিয়ায় গেলে। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) পুরোপুরি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের নামে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি সমন্বয় করা হয়েছে। বিপিসির দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিদ্যুৎ কিনছে। আবার কমিশনকে পাশ কাটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করছে।