বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০১ জন প্রগতিশীল শিক্ষক।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও আহত করা হয়েছে। এমনকি মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষক আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছেন। এই ধরনের ঘটনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্তরের শিক্ষক সমাজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, যা শিক্ষকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পীড়াদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
গত এক বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের চরিত্রহনন, কালার ট্যাগিং, কদর্য ভাষায় আক্রমণ, এমনকি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত নিরপরাধ শিক্ষককে কর্মক্ষেত্রে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যেতে বাধা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেদিন পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সমাজের ওপর এ ধরনের উশৃঙ্খল ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণকে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছিলেন; আজ তারাই একই ধরনের উশৃঙ্খলতার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতিত ও সামাজিকভাবে অপমানিত হচ্ছেন।
এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মব সন্ত্রাসের কাছে নতজানু হয়ে অনেক প্রথিতযশা শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত রেখেছেন, বয়কট করেছেন এবং চাকরিচ্যুত করার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছেন। মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বরং তাদের নানাভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা আজ এক মারাত্মক হুমকি, অনিরাপদ ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় পরিণত হয়েছে। মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, মর্যাদা ও সম্মানের পরিবর্তে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র হয়ে পড়েছে মব সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক। ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে মব সন্ত্রাসীরা নিজেদের পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কলুষিত করেছে। যদি মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে শিক্ষক নিপীড়ন, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার রীতি অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে মেধাশূন্য— যা কারো কাম্য হতে পারে না। শিক্ষক নিপীড়ন বন্ধ, মব সন্ত্রাস দমন এবং চাকরিচ্যুত, বিরত রাখা, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ও বয়কটকৃত সব শিক্ষককে সসম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকরা বিশ্বাস করেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মেহেদী/