সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ-মিরসরাই / জেলার নেতাদের সঙ্গে লড়বেন ইউনিয়নের নেতারা । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ-মিরসরাই জেলার নেতাদের সঙ্গে লড়বেন ইউনিয়নের নেতারা

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১৬ পিএম
জেলার নেতাদের সঙ্গে লড়বেন ইউনিয়নের নেতারা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ ও মিরসরাই উপজেলায় জেলা, উপজেলা নেতাদের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা। ফলে সিনিয়র-জুনিয়ররা নির্বাচনের মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রার্থী না দেওয়ায় লড়াইটা নিজেদের মধ্যেই হচ্ছে আগের মতো। এই তিন উপজেলায় দলটির ২৮ নেতা-নেত্রী চেয়ারম্যান ও পুরুষ-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। 

সীতাকুণ্ড উপজেলা: বন্দরনগরীর প্রবেশদ্বার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। ভৌগোলিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও এর গুরুত্ব বেশ। এই উপজেলায় এবারের নির্বাচনে ২ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একজন ইউনিয়নের নেতা। যিনি গেল ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন। আরিফুল আলম চৌধুরী রাজু নামের ওই নেতা লড়বেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ৩ বারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও একসময়ের প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সঙ্গে। আরিফুল আলম চৌধুরী রাজু বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গেল ইউপি নির্বাচনের পর তিনি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তার সঙ্গে থাকা ২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনিও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাইরে ছিলেন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের। অনেকটা আড়ালে, নীরবে, নিভৃতে থাকা এই নেতা উপজেলা নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আবারও আলোচনায় আসেন। 

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আ ম ম দিলসাদ, বাড়বকুণ্ড ইউপি চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী, সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামীসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, এমন আলোচনা ছিল। এমনকি গেল দুই সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়াও প্রার্থী হবেন বলে গুঞ্জন ছিল। যার নিজস্ব বলয় তথা বিশাল কর্মী বাহিনী আছে। তিনি দীর্ঘ ৩ দশক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। দলে পরীক্ষিত ও ত্যাগী এই নেতার আছে বলার মতো রাজনৈতিক স্বতন্ত্র পরিচয়। কিন্তু তিনিও সবার ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন। তার স্ত্রীও আওয়ামী লীগ নেত্রী। এরপরও দুজনের কেউই প্রার্থী হননি। 

আলোচনায় থাকা অন্য সিনিয়র নেতারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের আগেই নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। এরপরই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কনিষ্ঠ নেতা আরিফুল আলম চৌধুরী রাজুর নাম। বর্তমানে এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাই সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ১৯৯১ সাল থেকে ১৭ বছর সৈয়দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮২ সালে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের ভিপি। পরে তিনি জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা মরহুম মিছির আহমেদও ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রথিতযশা শিক্ষক। ১৯৯৬ সাল থেকে মহিউদ্দিন মঞ্জু প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলের মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। কিন্তু প্রতিবারই দল সেটার মূল্যায়ন করেনি। এবার তিনি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। 

অপরদিকে আরিফুল আলম চৌধুরী রাজু ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ছিলেন সভাপতি। বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজু চৌধুরীর বাবা মরহুম দিদারুল আলম চৌধুরীও ছিলেন বাঁশবাড়িয়ার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহম্মেদ চৌধুরীর ভাগিনা ও ব্যক্তিগত সহকারী। 

সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বয়স ও রাজনীতিতে কনিষ্ঠ হলেও রাজু চৌধুরী বর্তমান সংসদ সদস্যের বিশ্বস্ত হওয়ায় তিনি হতে পারেন উপজেলা চেয়ারম্যান। অপরপক্ষের মত হচ্ছে, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন মঞ্জু দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত সিনিয়র নেতা। নির্বাচনে যেহেতু অন্য দলগুলো অংশ নেয়নি, এখানে ভোট পড়বে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও কিছু ভাসমান ভোটারের। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন। কেননা জ্যেষ্ঠতার কারণে দলে বেশির ভাগ নেতাকর্মী তার সঙ্গে থাকবেন। তা ছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছর জনপ্রতিনিধি থাকায় তিনি পুরো এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। এই উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন ও জালাল আহম্মদ। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জমা দিয়েছেন শাহিনুর আক্তার বিউটি, হামিদা আক্তার ও শামীমা আক্তার লাভলী।

মিরসরাই: একইভাবে মিরসরাইয়েও উপজেলা নির্বাচনে লড়াই করবেন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা। মোট ১৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। অধিকাংশ পদে জুনিয়র নেতারা সিনিয়র নেতার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন।
 
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, তার সঙ্গে লড়বেন জুনিয়র নেতা করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরিফ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি উত্তম কুমার শর্মা ও লন্ডনপ্রবাসী সাবেক যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ মোস্তফা। এখানে ৪ জনই শেখ আতাউর রহমানের জুনিয়র। 

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. জালাল উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদেও সিনিয়র জুনিয়রে লড়াই হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ্ উদ্দিন আহম্মদ লড়বেন বয়সে তার সিনিয়র নেতা করেরহাট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে, অপেক্ষাকৃত জুনিয়র মিরসরাই সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আলমও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা ফেন্সি, যিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী। তার সঙ্গে লড়বেন জুনিয়র নেত্রী উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি বিবি কুলছুমা চম্পা, অপরজন মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মোমিনুল ইসলাম টিপুর সহধর্মিণী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম কলি। 

সন্দ্বীপ উপজেলা: চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এখানে ৩ পদে মোট ৮ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ নেতা ফোরকান উদ্দিন আহমেদ। তার সঙ্গে লড়বেন তার জুনিয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন মিশন ও মগধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আনোয়ার হোসেন। উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আনোয়ার হোসেন কিছুদিন আগে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
 
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন প্রকাশ জামশেদ, শেখ মোহাম্মদ জুয়েলও মনোনয়ন দাখিল করেছেন। যারা দলীয় পদ অনুসারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জন থেকে সিনিয়র। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে জমা দিয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জমা দিয়েছেন উপজেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হালিমা বেগম ও নাহিদ তানমী।

রাজধানীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
রাজধানীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা ও সাজা প্রত্যাহার করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। 

মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানের সাজা প্রত্যাহারসহ সংগঠনের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসিরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম এরশাদের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুরের ২৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ, ৩১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম, শেরে বাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রদল নেতা এমরান হোসেন ইমরান, মিরপুর মডেল থানা ছাত্রদল নেতা ওবাইদুল্লাহ, রূপনগর থানা ছাত্রদল নেতা ফয়সাল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল নেতা শামসুল হক, হৃদয় হোসেন, আবু হোরায়রা সাদি, ইকরামুল হাসান প্রমুখ।

শফিক/এমএ/

ঋণখেলাপি-অর্থপাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের আলটিমেটাম গণসংহতি আন্দোলনের

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৮:৪৫ পিএম
ঋণখেলাপি-অর্থপাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের আলটিমেটাম গণসংহতি আন্দোলনের
ছবি : সংগৃহীত

ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। এর মধ্যে তালিকা প্রকাশ না করলে গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। 

মঙ্গলবার (২১ মে) ‘ব্যাংক লোপাট ও অর্থপাচার রুখে দাঁড়ান, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারিদের তালিকা প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, জবাবদিহিতা দিতে হবে’ এই দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি থেকে এই হুশিয়ারি দেন জোনায়েদ সাকি। 

এর আগে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করতে যায়। নটর ডেম কলেজের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি শাপলা চত্বর ওভারব্রিজের কাছে আসলে থামিয়ে দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তারপর সেখানেই রাস্তায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে দলটি। 

সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপিদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তা না করলে আমরা আবার আসব। আজকে আমরা যতজন আরও বেশি সংখ্যায় আসব। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আসবে। শুধু আমরা আসব না, আমাদের আরও গণতান্ত্রিক বন্ধুরা আসবে। এই অফিসে (বাংলাদেশ ব্যাংক) থাকতে হলে আপনাদের এই ব্যবস্থা নিতে হবে। হয় আপনারা এই অফিসে থাকবেন, ব্যাংকের কর্মকর্তা থাকবেন আর না হয় ছেড়ে চলে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় বাংলাদেশের ব্যাংক ও ব্যাংকের সম্পদ সুরক্ষিত থাকুক। কিন্তু যারা ব্যাংকগুলোকে ভেতর থেকে ফোকলা বানিয়ে ফেলেছে। যখন একটা দেশে ‘সরকার বৈধ’ হয় তখন ‘আইন’ মানার প্রশ্ন আসে কিন্তু এই ‘সরকার অবৈধ’, এই সরকারের সমস্ত নির্দেশ অবৈধ, এই সরকারের কোনো নির্দশ মানতে জনগণ বাধ্য নয়। এই সরকার যত আইনই দেখাক,মানুষের ভোটেও তো এরা নির্বাচিত নয়।

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, জনগণের সঞ্চিত টাকাকে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে কতিপয় ‘চিহ্নিত’ লুটেরা। ব্যাংক লোপাটকারীদের নাম দেশের জনগণকে জানাতে হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ বাধ্য হবে। জনগণের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। জনগণের সম্মিলিত জাগরণের মুখে ফ্যাসিবাদের পতন অবশ্যম্ভাবী।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হাসান মারুফ রুমী, তাসলিমা আখতার, মনির উদ্দীন পাপ্পু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক রায়, তরিকুল সুজন, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা ও আরিফ দেওয়ান প্রমুখ।

ভিসানীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে: কাদের

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:৪১ পিএম
ভিসানীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে: কাদের
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর ভিসানীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

মঙ্গলবার (২১ মে) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেটা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মিশনকে জেনারেল আজিজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। জেনারেল আজিজের বিষয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটা ভিসানীতির প্রয়োগ নয়, এটি অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন আইনের প্রয়োগ। এটা নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। এ নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন। আমরা এতটুকুই জানি, এটুকুই বললাম।’

আজ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপেও উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। যা ভোট পড়েছে, সেটাকে খুব বেশি ভালো বলা যাবে না। বলব মোটামুটি ভালো হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে টার্ন আউট (ভোটার উপস্থিতি) নিয়ে আমার মনে হয় বেশি কথার বলার প্রয়োজন নেই।’ 

ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিসহ সমমনাদের অবিরাম মিথ্যাচার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। টিআইবির অপপ্রচারও আছে। আরও কিছু নামিদামি বুদ্ধিজীবী আছেন, তারাও মিথ্যাচার-অপপ্রচার করে মানুষের আগ্রহ নষ্ট করেছেন ভোটের ব্যাপারে। তবে তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং ভোটার উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।’ 

তিনি অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘রক্তপাত ছাড়া বিএনপি আমলে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়, এটা বলা যাবে না। কিছু সংঘাত, প্রাণহানি ঘটে। এখানে আমাদের ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে ক্যাজুয়ালটি নেই।’ 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। 

আ.লীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: জামাল হায়দার

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৫:২৯ পিএম
আ.লীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: জামাল হায়দার
ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মন্তব্য করেছেন ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখন প্রতিবেশী দেশের নিয়ন্ত্রিত। তাদের সর্বময় সহযোগিতা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এখন প্রয়োজন সবাইকে আগ্রাসনবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলা। 

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন ও আজকের বাংলাদেশ এবং মরহুম শফিউল আলম প্রধান এর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে স্মরণ সভায় আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা। 

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি কৃতদাস সরকার। এই সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এই সরকার আজ জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় করব, ইনশাআল্লাহ।’

শফিউল আলম প্রধানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমার রাজনৈতিক জীবনে দুইজন মানুষকে গর্জে উঠতে দেখেছি। একজন আমার নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, আরেকজন জাগপার প্রয়াত সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধান। এই দুইজন নেতা দেশের জন্য সত্য উচ্চারণে ছিলেন আপোষহীন। আমি তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ‘সুশাসন ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়ানক পথের দিকে এগুচ্ছে। এজন্য এই সরকারের আমলাতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র দায়ী। আজ দেশের প্রয়োজনে কোনো ভেদাভেদ নয়, ঐক্য প্রয়োজন। এই ঐক্যের মাধ্যমেই এই জুলুমবাজ আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘটবে।’

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, আমার মরহুম পিতা শফিউল আলম প্রধান এবং মরহুমা মাতা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। আমিও দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো।

তিনি বলেন, ‘এদেশের মাটির পবিত্রতা রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলে দেশের জনগণের মুক্তি সম্ভব। আগামী আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।’

যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু পরিচালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ১২ দলীয় মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মিয়া মসিউজ্জান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

স্যাংশনেও র‌্যাব-পুলিশের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৪:২২ পিএম
স্যাংশনেও র‌্যাব-পুলিশের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল
শফিউল আলম প্রধানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল। ছবি: খবরের কাগজ

স্যাংশনেও র‌্যাব-পুলিশের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের স্যাংশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্যাংশনে অনেকে খুশি হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি যে, এটা হচ্ছে আরেকটা বিভ্রান্তি করা। আমরা সবাই বিভ্রান্ত হচ্ছি। র‍্যাব এবং পুলিশের ওপরও স্যাংশন হয়েছে, কিন্তু তাদের যে ভয়ঙ্কর যাত্রা, সেই যাত্রা কী বন্ধ হয়েছে? বন্ধ হয়নি।’

মঙ্গলবার (২২ মে) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এই স্মরণসভার আয়োজন করে জাগপার একাংশ। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির কারণে। নিষেধাজ্ঞার জন্য যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেসব কথা তারাও বলে এসেছেন। দুর্নীতির ব্যাপারে আমরা হাজার বার বলেছি। সারা দুনিয়া বলেছে। তারা অস্বীকার করেছে। আজিজ আহমেদকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণ দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা এবং জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন করা। এই কথাটাই আমরা বলার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার ঘর যদি নিজে সামলাতে না পারি, কেউ এসে সামলে দেবে না। নিজেদের শক্তি নিয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে। উৎখাত করব কেন? সুষ্ঠু ভোটের মধ্য দিয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের আলখেল্লা পরে নির্বাচন নাটক দেখাচ্ছে। এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। গত ১৫ বছরে যে অপকর্ম করেছে সেই ভয়েও তারা সুষ্ঠু ভোট দিতে ভয় পায়। উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে তাতেও জনগনের সায় নেই। প্রকৃত অর্থে এর মাধ্যমে কোনো জনগনের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না। সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট দিতে ভয় কেন? নিজেরা নিজেরাই ভোট করছে। ভোটে মানুষ আসছে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, ক্ষমতায় যেতে চাই না, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ভোটের অধিকার চাই। এতে আওয়ামী লীগের এত ভয় কেন। কারণ তারা যে অপকর্ম করেছে এগুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের হবে সেই ভয়ে। স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল দাবি ছিল গণতন্ত্র, সেই চেতনা আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। এখন আবার একদলীয় শাসনের দিকে যখন আওয়ামী লীগ নিয়ে যেতে চায় তার মূল বাধা বিএনপি।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে সরকার অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এটা তাদের সুকৌশল। রাস্তায় নামার বিকল্প নেই। ভয়ের রাজত্ব তৈরি হয়েছে।’ 

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা কখনো যেন হাল না ছাড়ি, বুকে বল নিয়ে চলি। তরুণ সমাজ কোথায়, দেশের এই অবস্থায় তাদের মধ্যে কি কোনো আলোরিত করে না; এমন প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অন্যকোন পথ চিনি না, আন্দোলনের বিকল্প নেই। জনগণকে বেরিয়ে আসতে হবে। রুখে দাড়াতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি আর লোপাটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে এই ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব দিয়েছেন। পুরো দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে তারা। অর্থনীতি ধ্বংসের পথে। রিজার্ভ তলানিতে। সাধারণ মানুষ বাজারে যেতে পারেন না। এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।’ 

তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সকলকে আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।  

জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়বাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা, এনডিপি চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/