ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড আছে : রিজভী

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড আছে : রিজভী
জিয়া প্রজন্ম দলের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও কারাগারে ঢুকানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য দিনের আলো যেন নিষিদ্ধ, তারা মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পারবেন না। এদের সব সময় কারাগারের ভেতরে থাকতে হবে। বিনা অপরাধে কারাগার এখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেছে। তবে সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড করা আছে।’

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জিয়া প্রজন্ম দল আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের কারাগারে ঢুকানো, গ্রেপ্তার করা; শেখ হাসিনার এই কর্মসূচি যেন শেষই হচ্ছে না। আমার মনে হয়, তিনি (শেখ হাসিনা) একটা আতঙ্কের মধ্যে ভুগছেন। এর কারণ তিনি জানেন তার কোনো জনসমর্থন নেই। তারা জনগণের আওয়াজ পেলেই নিপীড়ন করে দমন করার চেষ্টা করছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ২৫-২৬ হাজার নেতা-কর্মী প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এখনো কারাগারে বন্দি। এর জবাব কি শেখ হাসিনা দিতে পারবেন? শেখ হাসিনা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’ 

‘রাজবন্দি কেউ নেই, রাজনৈতিক কারণে কেউ বন্দি নেই। যারা বন্দি রয়েছে তারা বিভিন্ন মামলার আসামি’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘গোটা জাতি মনে করে আপনি ষড়যন্ত্র করে আন্দোলনকামী, গণতন্ত্রকামী, যারা সত্য কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতার মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে বন্দি করে রেখেছেন।’ 

জিয়া প্রজন্ম দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভীন কাউসার মুন্নীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মো. সারোয়ার হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির প্রমুখ।

শফিকুল/সালমান/

যে অপরাধ করবে, শাস্তি তাকে পেতেই হবে : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:২০ পিএম
যে অপরাধ করবে, শাস্তি তাকে পেতেই হবে : ওবায়দুল কাদের
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দুর্নীতির বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বেনজীর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে পুলিশের প্রধান ছিলেন। একজনের কর্মের জন্য আমরা তো একটা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করতে পারি না। ব্যাপারটা যখন প্রকাশ্যে এসেছে, তখন দুদক তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে যদি প্রয়োজন হয় দুদক মামলা করবে। যে যতটা অপকর্ম, অপরাধ করবে সেজন্য শাস্তি তাকে পেতেই হবে। 

বুধবার (২৯ মে) ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বলছেন, বেনজীর আহমেদ, আজিজ আহমেদ এরা আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। তাহলে আমি বিএনপি নেতাদের প্রশ্ন করতে চাই, আশরাফুল হুদা, রকিবুল হুদা, কোহিনূর- এরা কাদের সৃষ্টি? দুর্নীতি-লুটপাটের হাওয়া ভবন কার সৃষ্টি?’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির আমলে তাদের কোনো নেতা, সরকারি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা, পুলিশের কোনো সাবেক কর্মকর্তা বা যারা কর্মরত ছিলেন; তারা যে দুর্নীতির কালচার গড়ে তুলেছিলেন, তখন কি কারও বিচার হয়েছিল? শেখ হাসিনার সৎসাহস আছে, সেজন্য আজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়েছেন। যখনই যেটা প্রকাশ পাচ্ছে, তখনই শাস্তির আওতায় এসেছে। এখানে কোনো ছাড় নেই।’

আজিজ আহমেদ ও বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের দায় আছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের যে ক্যারিয়ার, তার যে পারসোনালিটি, বাইরে থেকে এটাতো কেউ ভাবতে পারেনি। আবার আজিজ আহমেদ সাহেব অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং যথেষ্ট শিক্ষিত; যা অন্য কোনো সেনাপ্রধানের ছিল না। তাকে আসলে দক্ষতার জন্যই সেনাপ্রধান করা হয়েছিল। এখন তিনি যদি দুর্নীতি করেন, সেটার তো তদন্ত হচ্ছে।’ 

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ‘মোটামুটি সন্তুষ্ট’ বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

তিনি বলেন, ‘দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বর্তমানে এখন যে অবস্থা তাতে আমরা মনে করেছিলাম, ভোটার উপস্থিতি আরও কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম-বেশি সারা দেশের অনেক জেলা। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ বা তার চেয়ে কিছু বেশি আমি বলব মোটামুটি সন্তুষ্ট।’

‘মাঠের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন গলাবাজিতে নেমেছে’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির গলাবাজি আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তারা মাঠের আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার কারণে তারা আসলেই হতাশ হয়েছেন। কর্মীদের চাঙা করার জন্য তারা লিফলেট বিতরণের বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছেন। অর্থাৎ, তাদের আন্দোলন এখন এই পর্যায়ে নেমে গেছে। নির্বাচনের পর, ঈদের পর, এই ধরনের কথা বলে আন্দোলনের কথা বলে তারা স্বপ্নে বিভোর।’

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পটুয়াখালী পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন। 

আওয়ামী লীগ অসংখ্য আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:১১ পিএম
আওয়ামী লীগ অসংখ্য আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে : মির্জা ফখরুল
ছবি : খবরের কাগজ

‘একজন করে নয়, অসংখ্য আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে এই আওয়ামী লীগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরও বেনজীরকে পুলিশপ্রধান বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। একজন আজিজ নয়, বেনজীর নয়; হাজার হাজার আজিজ, বেনজীর তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরা বর্গিতে পরিণত হয়েছে, টাকা পাচার করে দেশকে শূন্য করেছে। লুটপাট, লুণ্ঠন করে সব শেষ করেছে। বেনজীরকে লালন করেছে সরকার, তাই এ দায় সরকারকেই নিতে হবে। এ জন্য সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’

‘জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে, কার বিচার করবে’- সরকারের প্রতি এমন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিচার হয়েই গেছে। নির্বাচন দেন না কেন? আমরা বলিনি আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও। আমরা বলি, নিরপেক্ষ নির্বাচন দাও, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। তারা জানে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা ১০ শতাংশ ভোটও পাবে না।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই। তিনি বলেছিলেন রাজনীতি হবে কৃষকের, শ্রমিক জনতার। তৃণমূল থেকে রাজনীতিতে উঠে আসবে। জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব কখনো জাতি অস্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ আজ এই মহান নেতাকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করেছে। ক্ষণজন্মা মানুষটিকে নিয়ে তারা উল্টাপাল্টা কথা বলে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের দিনে ঢাকার অলিগলি ছিল নীরব। পুরো দেশে নেমেছিল শোকের ছায়া। যেদিন তার লাশ ঢাকায় আনা হয়েছিল, সেদিন সেনাসদস্যরা কোনো প্রোটোকল না মেনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সবাই।’ 

তিনি বলেন, ‘এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জনগণের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা চালু করেছিলেন।’ 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই দেশ রাঘববোয়ালদের হাতে চলে যাচ্ছে, গিলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করা হচ্ছে। এই অগণতান্ত্রিক সরকার যা করছে কোনোটাই দেশের পক্ষে যাচ্ছে না। তারা নিজের জন্য সব করে যাচ্ছে। এ সরকার কখনো মানুষের মঙ্গল চায়নি। নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে জিয়াউর রহমানই রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান আর পুলিশপ্রধান চোর। এটাই হলো দেশ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করেছে আওয়ামী লীগ।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৮:০১ পিএম
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাষিক অধিবেশন অনুষ্ঠানে হয়েছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৯ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দলটি। 

মজলিসে শূরার অধিবেশনে সংগঠনের নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুটপাট, বিদেশে অর্থপাচারসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের অর্থব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকের শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিনা ভোটের সরকার দুর্নীতি-দুঃশাসন চালিয়ে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সমাজ জীবনের কোথাও শান্তি নেই, শৃঙ্খলা নেই। আইনের শাসনের বালাই নেই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় মজলিসে শূরার অধিবেশনে মিলিত হয়েছি যখন ২৭ মে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ। মানুষের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে লাখ লাখ মানুষ বসবাস করছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বহু মানুষের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিজ্ঞপ্তি

সালমান/

আজিজ-বেনজীরকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না : মান্না

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম
আজিজ-বেনজীরকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না : মান্না
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- এ প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘কেন এখন পর্যন্ত তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়নি, সেই ব্যাপারে দাবি তুলতে রাজপথে নামেন।’

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নূর, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, ১২-দলীয় জোটভুক্ত জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা অর্পণা রায়, মাওলানা শাহ নেছারুল হক প্রমুখ। 

মান্না বলেন, ‘এমপিরা খুব বড় বড় করে বলেন, তিনবারের এমপি। তিনবারই ভোটডাকাতি করেছে। বলে খুব জনপ্রিয় মানুষ। এত জনপ্রিয় হলে সুষ্ঠু ভোট দেন, তারপর জনপ্রিয়তা মাপা যাবে। দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, মানুষ মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে। এখন সবাই এগিয়ে আসেন। দেশ বাঁচাবার লড়াইয়ে, মানুষ বাঁচাবার লড়াইয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

এদিকে, ঢাকা ওয়াসার পানির দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। 

বুধবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস আর জ্বালানি তেলের দাম। সরকারি হিসাবেই গত এক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ, বাস্তবে এই হার ১৫ শতাংশের বেশি। নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে পানির দাম বৃদ্ধি জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।’ অবিলম্বে পানির দামবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানান মান্না। 

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

কালো টাকার মালিকদের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৫:২০ পিএম
কালো টাকার মালিকদের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের
বাম গণতান্ত্রিক জোট

টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত, ঋণ খেলাপি ও কালো টাকার তালিকা ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বুধবার (২৯ মে) সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায়, আজিজ-বেনজীর-আনারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি ও রাজনীতির চেহারা যতটুকু ফুটে উঠেছে তা ভয়াবহ। বর্তমান সরকারের নীতি ও উপরের মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অসম্ভব।

সভায় এসব ব্যক্তিসহ এ পর্যন্ত যাদের নামে দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ উঠেছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়। 

সভায়, পাচারের টাকা ও খেলাপি ঋণ উদ্ধারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িত এবং এসব ঘটনার প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।

বাম জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, কমিউনিস্ট লীগের আব্দুস সাত্তার, মোশারফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহিদুল ইসলাম সবুজ, বাসদের (মার্কসবাদী) তসলিমা আক্তার বিউটি উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের জন্য শোক ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তাসহ পুনর্বাসনের দাবিও জানানো হয় সভা থেকে।

সভায় আগামী বাজেটকে সামনে রেখে আইএমএফ’র সিদ্ধান্ত মেনে, লুটেরাদের স্বার্থে জনগণের কাঁধে আরও করের বোঝা চাপানোর যেসব খবর বেরিয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভায় চলমান কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের অবসান, পাচারের টাকা, খেলাপি ঋণ, কালো টাকা উদ্ধার, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সারাদেশে রেশন ব্যবস্থা চালুসহ মানুষের চিকিৎসা-শিক্ষা-অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধানের দাবিতে গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় প্যালেস্টাইনে গণহত্যা বন্ধ, জাতিসংঘ থেকে ইসরাইলকে বহিষ্কার ও গণহত্যার দায়ে বিচার এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আগামী ১ জুন সারাদেশে যার যার অবস্থান থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও প্যালেস্টাইনে জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া দুঃশাসনের অবসান ও জনমনের সংকট মোচনের দাবিতে আগামী ৮ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়।

অমিয়/