ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

টাকা না নেওয়ায় পোলিং অফিসারকে পেটালেন প্রার্থীর সমর্থকরা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৯:২১ এএম
টাকা না নেওয়ায় পোলিং অফিসারকে পেটালেন প্রার্থীর সমর্থকরা
ছবি : খবরের কাগজ

চেয়ারম্যান প্রার্থীর টাকা নিতে রাজি না হওয়ায় এক পোলিং অফিসারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির সমর্থকদের বিরুদ্ধে উঠেছে এ অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে জাজিরার শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার মধ্যরাতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকে নগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জাজিরা উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ২৫নং বিকে নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর আবু সাইদ পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। রবিবার রাতে মীর আবু সাইদ বাড়ির পাশে বিকে নগর বাজারে যান। রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত এক তরুণ মীর আবু সাইদকে বাজারের এক পাশে ডেকে বিকে নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার, আব্দুল আলী সরদার ও মজিবুর বানিয়ার কাছে নিয়ে যান। এ সময় সাইদুর রহমান সরদারসহ অন্যরা মীর ইমরান আলীকে নির্বাচনের দিন মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির পক্ষে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেন। বিনিময়ে তাকে মোটা অঙ্কের টাকাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মীর আবু সাইদ এমন প্রস্তাবে রাজি হননি। এরপর সাইদুর রহমান সরদার, আব্দুল আলী সরদারসহ অন্যরা মীর আবু সাইদকে মারধর করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এখন তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন।

পোলিং অফিসার ও শিক্ষক মীর আবু সাইদ বলেন, তারা আমাকে টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হইনি। তাই তারা আমাকে মারধর করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তিত। আমি আমার সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অভিযোগ দেব।

অভিযুক্ত মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক ও বিকে নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার বলেন, ‘মীর আবু সাইদ এমন কোনো বংশের ছেলে নয় যে, তাকে ম্যানেজ করতে পারলে ১০০ ভোট পাওয়া যাবে। হতে পারে সে সরকারি চাকরিজীবী ও পোলিং অফিসার। তার সঙ্গে আমাদের কারও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে: রিজভী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে: রিজভী
ছবি : খবরের কাগজ

সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে জ্বালানি তেল, পানি ও বিদ্যুৎসহ সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত উন্নয়নের নামে প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার পরিবার ও আপনার ঘনিষ্ঠজনকে লুট করার সুযোগ দিয়েছেন। তারা সাধারণ মানুষের জমিজমা ও সম্পদ দখল করেছে। আজকের পত্র-পত্রিকায় তা আসছে। আপনি বলেছেন, আপনি কাউকে ছাড়েন না। আপনিতো বেনজিরকে দেশ থেকে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

বুধবার (১৮ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পরে রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, ‘গ্রামে বিদ্যুৎ শুধু যায়, আসে না, কখন আসে তার কোনো ঠিক নেই। যারা গ্রামের ঈদ করতে গিয়েছিলেন, তারা এসে অনেকে বলেছেন যতটুকু আইপিএসের ব্যাকআপ দরকার সেটুকুতে কিছুই হয়নি। আপনারা দেখেছেন এই ঈদে ঢাকায় গ্যাসের অভাবে মানুষ রান্না করতে পারেনি। বাড়িতে বাড়িতে মাংস নষ্ট হয়ে গেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে। ফ্রিজ চলে না বিদ্যুতের জন্য, গ্যাসের জন্য আগুন জ্বলে না। শেখ হাসিনার উন্নয়ন আজকে ধপাস করে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার পানি নোংরা ও কীটপতঙ্গে ভরা ময়লা পানি। এক বছর আগে জনগণ ওয়াসার এমডিকে ঘেরাও করেছিলেন। তাকে ওয়াসার পানি খেতে দেওয়া হয়েছিল, সে পানি ওয়াসার এমডি খায়নি। সে ব্যক্তি পানির দায়িত্বে তিনি যদি এই পানি না খান তাহলে সাধারণ মানুষ খাবে কেন?’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেনজীরের পরিবারে দেশের ভেতরে এত টাকা, তাহলে দেশের বাইরে কত টাকা পাচার করেছেন? একজন সরকারি কর্মকর্তার বেতন কত? তার বেতন হয়তো ৮০-৯০ হাজার টাকা ছিল। তাহলে তার সন্তানদের নামে এত ফ্লাট, বাড়ি, জায়গা-জমি কোথায় থেকে হলো প্রধানমন্ত্রী? কারণ তথাকথিত উন্নয়নের নামে আপনি সুযোগ করে দিয়েছেন বেনজিরদেরকে এবং আপনার ঘনিষ্ঠজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের।’

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা জনগণের পক্ষে, আমরা ন্যায়ের পক্ষে, আমরা অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। আমাদের রাজপথে আরও জোড়ালোভাবে নামতে হবে। আমাদের হয়তো গুলি করবে, গুম করবে ও ক্রসফায়ার দেবে। তবুও আমাদের শেখ হাসিনার রাজ সিংহাসনকে রাস্তায় উল্টে দিতে হবে।’

মিছিলে আরও অংশ নেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, যুবদলের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুন, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, বিএনপি নেতা ডা. তাজুল ইসলাম লোহানী, বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ বকুল, জাকির হোসেন, সঞ্জয় দে রিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মৎস্যজীবী দলেল যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক পাটোয়ারি, কবির উদ্দিন মাস্টার, উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন, যাত্রাবাড়ি থানা বিএনপি নেতা শিপন খান, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য, সাব্বির আহমেদ, জাভেদ চৌধুরী, যুবদল নেতা খলিল মৃধা, কাজী মনঞ্জুর রহমান, ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া হোসেন ইমন, আশরাফুল আসাদসহ কয়েকশ নেতাকর্মী।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা ভারতসৃষ্ট: বিএনপি নেতা মিফতাহ্

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ১০:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ১০:১১ পিএম
সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা ভারতসৃষ্ট: বিএনপি নেতা মিফতাহ্
মঙ্গবলার বিকেলে সিলেট নগরীর বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিনে দেখছেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী। ছবি : খবরের কাগজ

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা ভারতসৃষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সিলেট ভারতের চেরাপুঞ্জির পাদদেশের অঞ্চল। ভারী বৃষ্টি হওয়া নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, চেরাপুঞ্জির পানি দ্রুত সিলেট অঞ্চলে নেমে আসছে। আমাদের নদ-নদী ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানি গ্রহণ করতে পারছে না। এ জন্য সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকে ভারতসৃষ্ট বলতে হবে। দুর্যোগের দায়ও ভারতের।’

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সিলেট নগরীর বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে এসে বিএনপি নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সিলেট নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং সুনামগঞ্জে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিয়ে সরেজমিনে কিছু এলাকা পরিদর্শনও করেছেন।

পরিদর্শনের সময় মিফতাহ সিদ্দিকী সিলেট সিটি করপোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আহমদ লোকমান, সাধারণ সম্পাদক মো. ছাব্বির আহমদ, সাবেক সহসভাপতি হাজি সুহেল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম, ওয়ার্ড বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ইকবাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন রব, সদস্য রিয়াজুউদ্দিন বাদশা, মোক্তার আহমদ রাফি, আলি আকবর, কুটিল আহমদ মিয়া, হারকান মিয়ার সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন। 

এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির খালেদ আকবর চৌধুরী, সোহেল আহমদ, মহানগর কৃষক দলের সাবেক সদস্যসচিব মারুফ আহমদ টিপু, মহানগর যুবদলের উবায়দুর রহমান সজীব, যুবদল নেতা উমর ফারুক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যতম সদস্য কাউছার হোসেন রকি, সোহেল আহমদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।

বাংলাদেশে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেই দাবি করে মিফতাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘ভারতের পানির জন্য বাংলাদেশের নদ-নদী প্রায় মৃত। বর্ষায় যখন তখন ভারত ভাটির দিকে পানি ছেড়ে দেওয়ায় সিলেট অঞ্চল এখন বন্যা-দুর্যোগকবলিত একটি এলাকা। নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার পরও খনন হচ্ছে না। সুরমা নদী ড্রেজিং না করে অপরিকল্পিত নগরায়ণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের কারণেই সিলেট নগরী জলাবদ্ধতামুক্ত হচ্ছে না। বন্যা ও জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হলে অচিরেই পরিকল্পিত উপায়ে নগরীর উন্নায়ন ও সুরমা নদীর তীরে গার্ডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

পানি নিয়ে ভারতনীতি পরিবর্তনে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, ‘এ জন্য প্রয়োজন জনগণের সমষ্টিগত প্রতিবাদ। বিনাভোটের এই সরকারকে সরানোর মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেই পরিকল্পিত উন্নয়নের নামে লুটপাট বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি লাগব করা সম্ভব।’

শাকিলা ববি/অমিয়/

ভারতের রেল নেটওয়ার্কে ‘ইন্টিলিজেন্স’ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: রিজভী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম
ভারতের রেল নেটওয়ার্কে ‘ইন্টিলিজেন্স’ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: রিজভী
ছবি : খবরের কাগজ

ভারতের সামরিক এবং বেসামরিক পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেললাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘এটি বাস্তবায়ন হলে স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ‘ইন্টিলিজেন্স’ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। দেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নতজানু সরকার যদি এই রেললাইন নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন করে তাতে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বকে ক্রমাগতভাবে মিলিয়ে দেওয়া হবে।’’

মঙ্গলবার (১৮ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মলেনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনকি সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইমতিয়াজ বকুল, যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন মামুন প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রতিদিন যেখানে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশিদের জীবন যাচ্ছে, যারা বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার ও মানবতার তোয়াক্কা করে না তারাই যদি বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে সামরিক ও বেসামরিক পরিবহন উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে ধাবিত করে তাহলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বাকি অংশটাও নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের কাছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের চাবি তুলে দেওয়া হবে এই স্থাপনার মাধ্যমে। দখলদার সরকার জোর করে টিকে থাকার জন্য জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বেচতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ভারত সর্ম্পককে ডামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূস্বামী-প্রজাভৃত্যের সম্পর্কে পরিণত করেছেন। তাদেরকে সব উজাড় করে দেওয়ার পরিণতি হবে ভয়াবহ।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ জানে যে, শেখ হাসিনা অনেক গোপন চুক্তি করেছেন, এখন সেই চুক্তিগুলির স্বরূপ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। আর সেজন্যই বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে দিয়ে শেখ হাসিনা গোপন চুক্তিকেই এখন দিনের আলোতে নিয়ে আসছেন। জনগণের মতামত ছাড়াই শেখ হাসিনা দেশের ভেতর দিয়ে রেলপথ নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছেন শুধুমাত্র নিজের অবৈধ ক্ষমতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।’

প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘মানুষের মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতায় আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অধিকার গ্রুপগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছিল, সেই ধারাগুলোই সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা মতপ্রকাশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হরণমূলক ধারা সংযোজিত হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কফিনে ঢুকানোর পর এটাই হবে সর্বশেষ পেরেক। এই বিধিমালা অনুমোদিত হলে গোটা দেশটাকেই বাকরুদ্ধ করে তুলবে।’

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

দুর্নীতি করলে কারও ছাড় নেই: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পিএম
দুর্নীতি করলে কারও ছাড় নেই: ওবায়দুল কাদের
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা দিয়েছেন এবং দুদককেও স্বাধীন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই যতই প্রভাবশালী হোক দুর্নীতি করলে কারও ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যে যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, দুর্নীতি করলে তদন্ত হবে। দুদক এটি করবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়তে চায় না। সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তেমন অভিযোগ আসেনি। তবে দুর্নীতি হলে তদন্ত হবে, বিচার হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন, দুদকও স্বাধীন। যে যত প্রভাবশালী হোক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে। তদন্ত শেষে মামলা করা যাবে, মানে বিচারের আওতায় আসবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেনি। তার ব্যাপারে কি করে জানবো? সরকারের নজরে আসার আগে সরকার কিভাবে ব্যবস্থা নেবে? যখনই কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নজরে এসেছে ব্যবস্থা নিয়েছি। গণমাধ্যমে আসার পর কিংবা সরকারের নজরে আসার পর সরকার কারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি এমন ঘটনা ঘটেনি।

মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ঈদের আনন্দ নেই, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এতো কিছুর পরেও মূল্যস্ফীতির কারণে ঈদের আনন্দ নেই, বিএনপির এমন মন্তব্য ঠিক নয়। পবিত্র ঈদের দিনেও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সমালোচনা করতে ছাড়েননি তারা।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে এক কোটি চার লাখের বেশি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার প্রথম দিনেই তিন লাখের বেশি কোরবানি হয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ঈদ ব্যাহত হয়েছে, বিএনপির এ তথ্য ঠিক নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সমালোচনা করে বিএনপিসহ তাদের সমর্থকরা দেশটাকে শ্রীলঙ্কা বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। মূল্যস্ফীতি আছে তবে এটা কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করে রেখেছেন। তিস্তা বা গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কি-না এটি এখনও জানা নেই।

মায়ানমারের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বেও কোথায় আঘাত করছে তারা? বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কোনো লঙ্ঘন মায়ানমার সরকার করেনি।

অমিয়/

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে বিএনপির নেতারা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে বিএনপির নেতারা
ছবি : খবরের কাগজ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলটির সিনিয়র ছয় নেতা। 

সোমবার (১৭ জুন) রাতে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গুলশানের বাসভবনে যান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও ঈদ করায় কারণে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময়ে যোগ দিতে পারেননি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রাত ৮টা ৫ মিনিটে ফিরোজায় যান। ঘন্টাব্যাপী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। 

খন্দকার মোশাররফ ছাড়াও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান। 

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/