ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

নতুন রূপে প্রস্তুত হচ্ছে ছাত্রদল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৪, ০৮:৫৭ পিএম
নতুন রূপে প্রস্তুত হচ্ছে ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অতীতের ব্যর্থতা ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ নিতে নতুনরূপে প্রস্তুত করা হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। পরীক্ষিত, মেধাবী ও সাংগঠনিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আবারও ছাত্রদলকে রাজপথের ‘আন্দোলনের শক্তি’ হিসেবে দেখতে চাইছেন শীর্ষ নেতারা। এই লক্ষ্যে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এক শ জনের বেশি একটি তালিকা হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা আসছে আংশিক এই কমিটির। পাশাপাশি জেলা কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। 

ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার যোগ্য নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের পরে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন শুধু তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সময়ে প্রায় ৪০ দিনের মতো হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে এক দিনের জন্যও যারা মাঠে ছিলেন না তারা কমিটিতে স্থান পাবেন না। পাশাপাশি এবারের কমিটিতে নারী নেত্রীদের মূল্যায়িত করা হবে। কারণ ২৮ অক্টোবরের পর রাজপথে নারী নেত্রীরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আংশিক এই কমিটির সদস্য সংখ্যা বেড়ে একশ থেকে দেড় শতাধিক হবে। তবে মাঠে ছিলেন না এমন নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে নানা মাধ্যম থেকে তদবির-লবিং চালাচ্ছেন কেউ কেউ। 

এ বিষয়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব খবরের কাগজকে বলেন, বিগত আন্দোলনে যারা ধারাবাহিকভাবে মাঠে ছিলেন এবারের কমিটিতে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের পর আন্দোলনে যারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, আগামীতে যারা যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন, যারা সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন, তাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

বিএনপির সূত্রমতে, নির্বাচনের আগে ও পরে ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন ওঠে। তাই বিগত আন্দোলন নিয়ে এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামীর আন্দোলন সামনে রেখে ছাত্রদলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনের কমিটিও ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। ঘুরে দাঁড়াতে দেড় মাস মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে গত পহেলা মার্চ ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরিফ প্রধান শুভ।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির আকার বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে ছাত্রদল। নিয়ম অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন মাস না হলে পূর্ণাঙ্গ করা যাবে না। তাই এখনই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না ছাত্রদল। প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূলের জেলা কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে। এর মধ্য দিয়েই আবারও রাজপথে ঘুরে দাঁড়াবে ছাত্রদল। 

যদিও এই কমিটি রমজানের আগেই দেওয়ার কথা ছিল। তখন ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন শীর্ষ নেতা বাধা দেওয়ার কারণে কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে যায়। এখনো তারা কমিটিতে নিজস্ব বলয়ের ছাত্রনেতাদের পদ দিতে চাপ দিচ্ছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। শ্রাবণ-জুয়েল নেতৃত্বাধীন কমিটির বেশ কয়েকজনের পদোন্নতি হতে পারে। আগের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন যারা তারাও এবার পদে থাকতে চান।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন তাদেরকে মূল্যায়ন করার নির্দেশ রয়েছে হাইকমান্ডের। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন, আগামীতে পাশে থাকবেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা আন্দোলনের সময়ে ছিলেন না, তাদেরকে কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। পদপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে এখন যাচাই-বাছাই চলছে, সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগির কমিটি আসবে।’ 

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ছাত্রদলের জেলা ও জেলা পদমর্যাদার ১১৮টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৮২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩৩টি কমিটির মেয়াদ রয়েছে, যেগুলো শ্রাবণ-জুয়েলের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের বিগত কমিটির সময়ে হয়েছিল। বাকি জেলা কমিটিগুলো রাজীব-আকরাম এবং খোকন-শ্যামলের সময়ে দেওয়া হয়। এসব কমিটির প্রতিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। জেলা কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও অনেক জেলায় এখন সাত থেকে আট বছর আগের কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রদলের কার্যক্রম। ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব-আকরামের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কমিটি হয়েছিল। আগামীর আন্দোলন সামনে রেখে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে ছাত্রদল।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামত নিতে প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় কর্মিসভা করবে ছাত্রদল। ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগের কর্মিসভা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার ফরিদপুর বিভাগে কর্মিসভা করবে সংগঠনটি। কর্মিসভার আলোচনায় বিগত আন্দোলনে তৃণমূল নেতাদের ভূমিকার প্রকৃত তথ্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি ভেঙে দেওয়া বা পুনর্গঠন হবে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে কাজ করছে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। 

তারা বলছেন, আন্দোলনে জেল-জুলুম, নির্যাতনের মাঝেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে। কারণ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব জেলা রাজপথে ছিল না, সেসব জেলার কমিটি বাতিল করা হবে। যারা রাজপথে ভূমিকা রাখেননি এমন কেউ জেলার নতুন কমিটিতে পদে আসতে পারবেন না। 

সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, ছাত্রনেতা যারাই রাজপথে ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আগের কমিটির যারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তারা পদে আসবেন। আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে, আমরা মতামত দিয়েছি।  

প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু দিয়ে আসেন, কিছুই আনতে পারেন না : জামায়াত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু দিয়ে আসেন, কিছুই আনতে পারেন না : জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

প্রধানমন্ত্রী যখনই ভারতে যান তখন শুধু দিয়েই আসেন, কিছুই আনতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

তিনি বলেন, ‘এটা তার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফসল। আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা প্রতিবারই প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে ভারতের হস্তক্ষেপে বারবার ক্ষমতায় আসে। ফলে জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে বরাবর ভারতকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকতে হয়।’ 

সোমবার (২৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তিস্তাসহ ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর পানির বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যর্থতা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য পাওনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ অধিকারের সঙ্গে কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ জড়িত। বাংলাদেশ সরকার অনির্বাচিত হওয়ার কারণেই অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ব্যাপারে দর-কষাকষিতে বারবার নতজানু নীতি ও দুর্বলতা প্রকাশ করে আসছে। প্রকৃত পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারত সরকারের অনীহার কারণেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না।’ 

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের পানি-সংরক্ষণের যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভারতের নদী-সংযোগ প্রকল্প সম্পর্কে অবিলম্বে ভারতের নিকট বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ জানানো উচিত। পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সুস্পষ্ট অভিমত হলো, ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যাসহ আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে ট্রানজিটসহ যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বন্ধ রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কলকাতা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন সার্ভিস এবং কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর জন্য ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে চুক্তি করেছেন তাতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন করেছেন।’ 

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ৭১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:২০ পিএম
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ৭১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন দেশের ৭১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে সোমবার (২৪ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এ দাবি জানান তারা। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় সরকারের হয়রানির শিকার হয়ে বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্দি জীবনযাপন করার ফলে নানাবিধ স্বাস্থ্য জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। ৭৯ বছর বয়সী বেগম জিয়ার মেডিকেল টিম জানিয়েছেন, তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যে ধরনের চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন তা দেশে সম্ভব নয়।

তারা আরও বলেন, মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন যে, খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  ফলে তাকে বাঁচাতে হলে বিদেশে ‘অ্যাডভান্সড সেন্টার’-এ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। তার জীবনের এই সংকটকালে আমরা সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, কবি আল-মুজাহেদী, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার চৌধুরী, প্রফেসর এম রফিকুল ইসলাম, কবি আবদুল হাই শিকদার, এরশাদ মজুমদার, রুহুল আমিন গাজী, প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. সদরুল আমীন, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, কাদের গনি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, আলমগীর মহিউদ্দিন, প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম (ঢাবি), প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক (রাবি), ডা. ওয়াসিম হোসেন, প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান (ঢাবি), প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবীর (ঢাবি), প্রফেসর ড. ফজলুল হক (বাকৃবি), প্রফেসর ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান (ঢাবি), প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান (জাবি), প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ (রাবি), প্রফেসর ড. মীর্জা গোলাম হাফিজ কেনেডী (বাকৃবি), প্রফেসর ড. শামছুল আলম (জাবি), প্রফেসর ড. আল মোজাদ্দেদ আলফ সানী (ঢাবি), প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন (ইবি), আমিরুল ইসলাম কাগজী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, কবি হাসান হাফিজ, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, প্রফেসর ড. নছরুল কাদের (চবি), প্রফেসর ড. রেজাউল করিম (খুবি), প্রফেসর ড. সাজেদুল করিম (শাবিপ্রবি), অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পান্না,  এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক (রুয়েট), প্রফেসর ড. দিল আরা হোসেন (রাবি), প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক (শাবিপ্রবি), প্রফেসর ড. নূর মহল বেগম (শেকৃবি) প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

খালেদা জিয়াকে সিসিইউ সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
খালেদা জিয়াকে সিসিইউ সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউর সব সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। 

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। বিএনপি চেয়ারপারসন সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। 

এর আগে গতকাল রবিবার (২৩ জুন) বিকেলে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার সফলভাবে বসানো হয়। এরপর তাকে সিসিইউতে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পেসমেকার বসানোর পর তার শারীরিক অবস্থার আর অবনতি হয়নি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের নতুন কিছু পরীক্ষার পর সোমবার দুপুরে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের গত ১২ ঘণ্টার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেন। এরপর বোর্ড সদস্যরা সিসিইউতে বেগম জিয়াকে দেখতে যান। আবার বৈঠকে করে তাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। মেডিকেল বোর্ডের এই বৈঠকে লন্ডন থেকে বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদেশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে পেসমেকার বসানো হয়েছে বলে তার চিকিৎসক গণমাধ্যমকে জানান। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মিজানুর রহমান/সালমান/

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার
বিএনপি

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সংবাদ সম্মেলন করবে বিএনপি। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৪ জুন) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাসহ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরবেন বিএনপি মহাসচিব।

মিজানুর রহমান/সালমান/

রেল চলাচলের চুক্তি সার্বভৌমত্ববিরোধী : এবি পার্টি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৩ পিএম
রেল চলাচলের চুক্তি সার্বভৌমত্ববিরোধী : এবি পার্টি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এবি পার্টির নেতারা। ছবি : সংগৃহীত

জনগণের সম্মতি ছাড়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে অন্য একটি দেশের ট্রেন চলাচলের চুক্তিকে সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। 

অভিযোগ করে দলটি বলছে, ‘একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভারতের অনৈতিক সমর্থনের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রতিদান হিসেবে গোপন প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দাসখত লিখে দিতে সরকার ভারতের সঙ্গে অন্যায্য চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তিতে দেশের মানুষের কী লাভ বা স্বার্থ তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।’

সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে দলটির শীর্ষ নেতারা।

দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম প্রমুখ। 

লিখিত বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে গণবিরোধী চুক্তি করেছে সরকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে ভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা সংসদে তুলে ধরতে হবে কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো তা করেনি। এই সংসদ যে ডামি সংসদ তাই সরকারের কাছেও কোনো গুরুত্ব নেই। সংসদে কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নও করছে না। ব্লু ইকোনমির নামে দেশের সম্পদ ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ভারতের সঙ্গে স্যাটেলাইট চুক্তির মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্পর্শকাতর তথ্য বিনিময়ের যে চুক্তি হয়েছে, সে সম্পর্ক জনগণকে অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশ কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, দেশের স্বার্থরক্ষা হয়েছে কি না জনগণ জানতে চাই।’

লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, ‘ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া ও ট্রেন চলাচলের সুবিধা দিয়ে দেশের মানুষের কী লাভ বা স্বার্থ তা পরিষ্কার করতে হবে। নদীর পানি প্রবাহের আন্তর্জাতিক আইন কখনোই ভারত মানেনি। আমাদের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ 

মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, ‘এই সরকার গোপনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ভারত বাংলাদেশ যত চুক্তি হয়েছে কোনোটাই ভারত বাস্তবায়ন করেনি। আমরা বেরুবাড়ি দিয়ে দিলাম কিন্তু আঙ্গোরপোতাহ পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়েছে। কাজেই ভারত কখনো বন্ধুত্বের কোনো পরিচয় রাখেনি।’ 

সভাপতির বক্তব্যে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকার যে অন্যায় চুক্তি করেছে আমরা সেজন্য ধিক্কার জানাই। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করি, নিজেদের আত্মমর্যাদা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করি।’ 

সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠন বিবৃতি দিয়ে দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নেওয়ার বিষয়টি অনৈতিক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাসির, উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির, সদস্যসচিব সেলিম খান প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/