ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

রাজধানীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
রাজধানীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা ও সাজা প্রত্যাহার করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। 

মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানের সাজা প্রত্যাহারসহ সংগঠনের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসিরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম এরশাদের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুরের ২৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ, ৩১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম, শেরে বাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রদল নেতা এমরান হোসেন ইমরান, মিরপুর মডেল থানা ছাত্রদল নেতা ওবাইদুল্লাহ, রূপনগর থানা ছাত্রদল নেতা ফয়সাল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল নেতা শামসুল হক, হৃদয় হোসেন, আবু হোরায়রা সাদি, ইকরামুল হাসান প্রমুখ।

শফিক/এমএ/

বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন: কাদের

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:৫১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:৫৩ পিএম
বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন: কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সবসময় দেশ ও জনগণের মর্যাদা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৪ জুন) প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিয়মমাফিক অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সর্বদা দেশ ও জনগণের মর্যাদা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পরিচালনা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র যে কোনো গীতিতে তার প্রধান বিবেচ্য দেশের জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ছিল অত্যন্ত চমৎকার, ফলপ্রসূ ও আন্তরিকতাপূর্ণ। 

তিনি বলেন, এই সফরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি ও অর্জনগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। যেখানে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ১৩টি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা এসেছে। 

বিবৃতিতে ওবায়দুল কদের বলেন, বিএনপি ও মির্জা ফখরুলরা কখনো বর্তমান সরকারের কোনো সফলতা দেখে না। ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশি রাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে কৌশলগতভাবে সম্পর্ককে জোরদার করতে হবে। শেখ হাসিনা এই সফরে তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। 

বিএনপির শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। যার ফলে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ভারতের ই-মেডিকেল ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে দুই দেশ ঐক্যমত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের ভোগান্তি কমবে। এছাড়া নতুন নতুন রুটে বাস-ট্রেন চালু এবং নতুন উপ-হাইকমিশন খোলার ঘোষণা দুই দেশের মানুষে-মানুষের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, তিস্তায় পানি বণ্টন ছিল এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতদ্বৈততা রয়েছে। এই সমস্যা থাকার পরও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুস্পষ্টভাবে তিস্তার পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের মুখে দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বড্ড বেমানান। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ভুলে গিয়েছিল। অথচ শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করেন। এবারের সফরে এই চুক্তি নবায়নের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের আমলে ভারত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে দুই দেশের সীমানা জটিলতা নিরসনে সীমান্ত ও ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সময় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা দিতে দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালনের ঘটনা ঘটেছিল এবং ভারতীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে অনাস্থা দেখা দিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের মতো ঘটনা ঘটেছিল। বিএনপি তো সেই দল যারা ভারতের নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর ভারতীয় দূতাবাসের দরজা খোলার আগেই অভিনন্দন জানাতে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিল। পরিতাপের বিষয় যে, তারাই আজ বাংলাদেশে ভারতবর্জন ও ভারতবিদ্বেষী রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এটা তাদের চিরাচরিত দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। 

সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকারপ্রধান, যিনি যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক দরকষাকষি করে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদাপূর্ণ স্বার্থ সুরক্ষিত করেছেন।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিরাজমান অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোর শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অমিয়/

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিতে আরও ১৭ জন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০২:৩৩ পিএম
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিতে আরও ১৭ জন
বিএনপি

বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে আরও ১৭ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য চেয়ারপারসনস ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির তিনজনকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যের মর্যাদা পাওয়া তিন নেতা হলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম।

স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য চেয়ারপারসন্স ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ১৭ নেতা হলেন- আশরাফ উদ্দিন (সাবেক রাষ্ট্রদূত, কানাডা), ড. এনামুল হক চৌধুরী (সিলেট), এ এন এম ওহিদ আহমেদ (সাবেক ডেপুটি মেয়র, টাওয়ার হ্যামলেটস), আনোয়ার হোসেন খোকন (আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি), রাশেদুল হক (আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি), নাহিদ খান (সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি), ড. তোফাজ্জল হোসেন তপু (জাপান), হাফিজ খান সোহেল (ওয়াশিংটন), এ এস এম জি শাহ ফরিদ (পেনসিলভেনিয়া), বদরুল ইসলাম শিপলু (ক্যালিফোর্নিয়া), ডলি, নাসির (ইতালি), গোলাম ফারুক শাহিন (নিউইয়র্ক), শফিক দেওয়ান (জার্মানি), ড. শামীম পারভেজ (জার্মানি), হাজী হাবিব (ফ্রান্স), কবির আহমেদ (আয়ারল্যান্ড), মো. নায়েমুল বাসির (অস্ট্রিয়া)। 

২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি বিলুপ্ত করে গত ১৫ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের চেয়ারপারসনস ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠিত হয়। দুই ভাগে এর নাম দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি এবং স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য চেয়ারপারসনস ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি’।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

বর্ণিল আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উদযাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৪ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৪ পিএম
বর্ণিল আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উদযাপন
ছবি : ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

বর্ণিল আয়োজনে ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজধানীসহ সারা দেশে দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের ‘হীরকজয়ন্তী’র আনন্দঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

রবিবার (২৩ জুন) দিনভর আওয়ামী লীগ এবং দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতারা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, র‌্যালি, আলোচনা সভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উদযাপন করেন। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আরেকবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ১৪-দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম ও এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা বর্ণচোরা বিএনপি। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ আজ আমাদের অভিন্ন শত্রু। এই শত্রু মোকাবিলা করে রক্তমূল্যে অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করতে হবে। জনগণের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে প্রতিরোধের দাবানল ছড়িয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার নাম আওয়ামী লীগ। আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা ওড়াই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার ছয় বছর পর শেখ হাসিনা অন্ধকারে আশার আলো হয়ে এসেছিলেন। তার নেতৃত্বে আজ গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুত্থান হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। 

আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং তার আশপাশ এলাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। 

এদিকে এদিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ। 

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সমাবেশ মঞ্চে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর আশপাশ থেকে আসা নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়াদী উদ্যানের দিকে মিছিল নিয়ে যান। রাজধানী ও আশপাশের আসনগুলোর এমপিদের অনুসারী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে, রং-বেরঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে জড়ো হন শাহবাগ ও টিএসসিসহ আশপাশের এলাকায়। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশ। এ উদ্যানের ফটকগুলো বেলা সাড়ে ১১টায় খুলে দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করতে শুরু করেন। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরেন নেতা-কর্মীরা।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার হিসেবে ফলমূল এবং মিষ্টান্ন পাঠান। এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ মো. আবু জাফর রাজু এবং সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার তার পক্ষ থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন। 

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে যেমন- স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনসহ এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের স্মরণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ নেতা-কর্মীরা। 

ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি জনগণ মানবে না: আবদুল কাইয়ূম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি জনগণ মানবে না: আবদুল কাইয়ূম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি জনগণ মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেললাইন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এমন চুক্তি হলে তা হবে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেওয়ার চুক্তি। অপরদিকে, ভারতের মুদ্রানীতি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশকে শোষণ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশের সড়কপথ এবং রেলপথ ব্যবহার করবে। 

রবিবার (২৩ জুন) কুমিল্লায় জেলা উত্তরের মুরাদনগরের পাহাড়পুরের পাঁচপুকুরিয়া বাজার খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আবদুল কাইয়ূম বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা গবেষণার নামে বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ লুট করার জন্য সমুদ্র চুক্তি করা হয়েছে। তথ্য হ্যাকিং ও অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের জন্য বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবা ভারত নিয়ন্ত্রণ করার ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুনীল অর্থনীতির নামে ভারত বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলো বিনা শুল্কে ব্যবহার করতে চায়।

তিনি বলেন, বন্যা ও রাসেলস ভাইপারস দিয়ে বেনজীর-আজিজের দুর্নীতিবাজদের ইস্যু ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন ত্রাণ তৎপরতা নেই। বানভাসী মানুষ খাবারসহ বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। বন্যার্তদের জন্য সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। 

সংগঠনের পাহাড়পুর ইউনিয়ন শাখা সভাপতি হাজী মো. তফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আব্দুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন ঢাকা জেলা দক্ষিণের যুগ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহীন আহমদ, মুরাদনগর উপজেলা সভাপতি মাস্টার মফিজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ হোসেন মোল্লা, আলহাজ্ব আব্দুল করীম, উপজেলা বামুক ছদর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ বেলাল হোসাইন পাহাড়পুরী। সম্মেলন শেষে হাজী মো. তফাজ্জল হোসেনকে সভাপতি, মো. জসিমউদ্দিনকে সেক্রেটারি, ডা. জাহাঙ্গীর আলমকে যুগ্ম সম্পাদক ও হাফেজ আলাউদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শফিক/এমএ/

খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে বসানো হলো পেসমেকার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম
খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে বসানো হলো পেসমেকার
ফাইল ছবি

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে। হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রবিবার (২৩ জুন) ৫টার পরে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পেসমেকার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

এর আগে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) কেবিন নং-৪২১৯ থেকে পাশের ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। সেজন্য হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেনটিংও করা ছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে এখন মেডিকেল বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’ 

চিকিৎসকরা জানান, হৃৎপিন্ডের ডান অ্যাট্রিয়াম প্রাচীরের ওপর দিকে অবস্থিত বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে এই পেসমেকার। পেসমেকার হৃদযন্ত্র নিয়মিত ছন্দে চলতে সাহায্য করে। হৃদযন্ত্রের স্পন্দন ঠিকমতো চলছে কি না, সেটাও এই যন্ত্র তদারকি করে।

মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ‘গতকাল শনিবার রাতে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তার হার্টে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার ৫টার পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।’

গত শুক্রবার (২১ জুন) রাত সাড়ে ৩টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থরাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/