ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উন্মুক্ত মাঠে ভোট গ্রহণসহ স্কুলের ছাত্রদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠে রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এমন দাবির কথা জানান দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, ‘সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আমরা ৯ দফা প্রস্তাব করেছি। কারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যা আছে পুলিশ, আনসারসহ অন্যরা হয়তো মোকাবিলা করতে পারবে না। এজন্য আমরা প্রস্তাব করেছি স্কুল ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত করার। অভ্যুত্থানের পর পুলিশের কার্যকারিতা কমে গেছে। বরং কিশোর শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। পুলিশ, আর্মির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যারা ভোটার না, তারা গণ-অভ্যুত্থানেও ভূমিকা রেখেছেন। সিইসি অ্যাপ্রিশিয়েট করে বলেছেন খুবই ভালো আইডিয়া’।
এবি পার্টি প্রধান বলেন, ‘আমরা বলেছি ভোট সেন্টার মাঠে না করে উন্মুক্ত স্থানে করা যায় কি না। খোলামেলা থাকলে ভোট চুরি হবে না। খোলা মাঠে হলে সাংবাদিকসহ অন্যদের মনিটরিং সহজ হবে। ভোটে ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনি ব্যয় করা যায়। আমরা বলেছি কাটছাট করার জন্য। কিন্তু ইসি তা করছে না। পোস্টার নিষিদ্ধ করে ইসি নিজেই ছাপাতে পারে কি না। যত্রতত্র পোস্টার না রাখলে পরিবেশের ক্ষতি হবে না, আবার ব্যয়ও কমবে। এছাড়া ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, পোলিং এজেন্টদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ব্যয় করেন। ভোটারদের আনা-নেওয়া এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা যদি ইসি করেন, প্রার্থীর খরচ কমে যাবে। তখন আর প্রার্থীর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
ভোট নিয়ে সংশয়ের বিষয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার প্রধান বলেছেন ভোট হবে, সিইসি বলেছেন ভোট হবে, দলগুলোর অনেকে বলছে ভোট হবে। এখন যারা বলছে ভোট হবে না, তাদের কনসার্ন একটু গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে তাদের কনসার্ন পূরণ করেই ভোট এই সময়ের করা সম্ভব। বিচার, জুলাই সনদ এগুলো সম্ভব। তবে এগুলো না হলে ভোট হতে দেওয়া যাবে না এটাতে আমরা বিশ্বাসী না।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা কথা বলেছি। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকরা যেন প্রার্থী হতে পারে সে দাবি করেছি। কেননা, দ্বৈত নাগরিকরা আমাদের উপদেষ্টা পরিষদেও আছেন। তারা প্রার্থী হলে ভালো সংসদ সদস্য পাওয়া যাবে। আমরা একটা পার্লামেন্টই কার্যকর করতে পারিনি। কাজেই পার্লামেন্টে দুটি হাউজের বিরোধিতা করেছি। এখন যেহেতু সবাই বলছে, আমরা আপার হাউজে পিআর চেয়েছি। এটা না হলে দুটি হাউজের প্রস্তাবটার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেব। এছাড়া পাশাপাশি আমরা ২০০ আসনে বর্তমান পদ্ধতি বাকি ১০০ আসনে পিআর হতে পারে এমন বলেছি।’
ইসিকে আমরা আহ্বান করেছি তারা যেন ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার না হোন। কীভাবে কারচুপি হয় তা আমরা তুলে ধরেছি। এজন্য কঠোর হতে বলেছি এবং প্রচার করতে বলেছি। তারা শক্ত অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছে। শুধু ভোট করার জন্য নয় ভোটারকে কেন্দ্রে আনাও ইসির দায়িত্ব। তাই ইসির কাছে তাদের আনতে প্রস্তাব করছি।
এলিস/মাহফুজ