ক্ষমতা নয় জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান ফোকাস হওয়া উচিত, নইলে অভ্যুত্থানে যারা জীবন ও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন তারা ক্ষমা করবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফারইস্ট মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এবং রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস-আপ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলি আহসান জুনায়েদ, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব আরেফিন হিজবুল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদার ভুইয়া প্রমুখ।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে কিশোর জুলাই শহিদ আনাসের চিঠি পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, 'শহিদ আনাসসহ হাজারো শহিদ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জীবন দেন নাই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা কাঠামো হারানোর ভয়ে জুলাইকে বিপ্লব না বলে শুধু আন্দোলন বলে থাকে। অথচ শহিদদের আত্মত্যাগ আর জনতার অকুণ্ঠ সমর্থনকে সরকারের বৈধতার সিঁড়ি মনে না করে ১০৬ অনুচ্ছেদকে ভিত্তি মনে করা হচ্ছে।'
সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের সব শক্তিকে ভুল সংশোধন করে আবার রাজপথে নামতে হবে।'
এ ছাড়া তিনি আবু সাঈদ যেজন্য জীবন দিয়েছেন সেটি ধরে রেখে নতুন লড়াই শুরুর ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে গত ১৭ বছরের লড়াই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতা আর জনতাকে আলাদা করার সুযোগ নাই, জনগণের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, ৪৬ বা ৭০ সালের মত এই নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল বলেন, এই আয়োজন মাইলফলক হবে যদি, জনতামুখী জোট করা যায়।
আলি আহসান জুনায়েদ বলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড় অভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ হাসিনার ক্ষমতাকে দেবত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে দেশবাসী মাঠে নেমেছিল। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখার প্রতিবাদেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল।
রাফে সালমান রিফাত বলেন, 'অভ্যুত্থানের অনেক সহযোগী অনেকে পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক খেলায় ডুবে গেছে। রাতের আঁধারে কারো বাসায় বসে নির্বাচনি আসন নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা গণ অভ্যুত্থানের চেতনা হতে পারে না।
সমাবেশের শুরুতে মজিবুর রহমান মঞ্জু তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু নতুন নতুন স্লোগান সংগ্রামী জনতার কণ্ঠে জাগরণ এনেছিল। তার মধ্যে একটি স্লোগান নতুন করে মানসপটে খুব রেখাপাত করেছিল, সেটা হলো “ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা।”
সুমন/