বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের ভোট কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বাতিল ভোটের সংখ্যাও।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ভোট পড়ে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯টি। আর ওই নির্বাচনে নানা কারণে ভোট বাতিল করা হয় ৪ হাজার ৯৯৬টি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার উপনির্বাচনে ভোট পড়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৯টি। আর এ নির্বাচনে ভোট বাতিল হয় ১ হাজার ৭১০টি। অর্থাৎ বাতিল ভোটের সংখ্যা কমছে প্রায় ৩ হাজার ২৮৬টি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট পড়ে ৭১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর এ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়ে ৪২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ ভোট কম পড়েছে ২৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৫১টি কেন্দ্রে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। উপনির্বাচনে মো. আবিদুর রহমান বিএনপি প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বাদশার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পান ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। বিজয়ী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। বিএনপির সঙ্গে তুলনা করলে জামায়াত ভোটে খারাপ করেছে। মো. আবিদুর রহমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। কিন্তু উপনির্বাচনে রেজাউল করিম বাদশার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পান ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী এক থাকার পরেও মো. আবিদুর রহমান ভোট কম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৬৭টি। বিএনপি প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বাদশা তারেক রহমানের চেয়ে ভোট কম পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৫৩টি।
ভোট কেন কম পড়েছে এ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উপনির্বাচনে কমপক্ষে ৫টি কারণে ভোট পড়েছে কম। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন তেমন উদ্যোগ নেয়নি। ভোটারদের সচেতন করার ক্ষেত্রে ছিল প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব। সংসদ নির্বাচনে আগে যেমন বেশ কয়েক দিন সরকারি ছুটি পেয়েছিলেন ভোটাররা, তেমনটি হয়নি উপনির্বাচনে।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জায়েদ ইবনে আবুল ফজল বলেন, ‘যখন সারা দেশে নির্বাচন হয় তখন ভোটাররা ভেতর থেকে নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার তাগিদ অনুভব করেন, কিন্তু উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত এ রকম হয় না।’
প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৬৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। আর জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী পেয়েছে ২৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮৫। আর উপনির্বাচনে ভোট পড়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৯টি।
নাম প্রকাশ করতে চান না এমন কয়েকজন ভোটার বলেন, নির্বাচন এবং নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে তাদের কাছে সঠিক তথ্য ছিল না। ভোটের আগে এবং ভোটের দিন নির্বাচনি এলাকায় বাইক চালানোর সময় যাদের পুলিশ আটক করে তাদের মধ্যে অন্তত ১১ শতাংশের কাছে নির্বাচনের প্রার্থী, সময়সহ অন্যান্য বিষয়ে সঠিক তথ্য ছিল না।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. রেজাউল কমির বাদশার দাবি, উপনির্বাচন হিসেবে এ নির্বাচনের ভোট পড়েছে বেশি। কেমন করে বেশি ভোট পড়ল–এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগে বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৫ শতাংশের কিছু বেশি। এবার কিন্তু ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।’