প্রতি বছর পয়লা মে শ্রমিক দিবসের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। মিছিলের রঙিন ব্যানার আর প্রতিশ্রুতির উচ্চারণে দিনটি ভরে থাকে। কিন্তু শ্রমিকের জীবনে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। তাদের বাস্তব জীবন অবহেলা, শোষণ আর অবমূল্যায়নের কালো ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। এ অবস্থা জাতির জন্য গভীর লজ্জার। শ্রমিকরা আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু তাদের জীবনের চিত্র হৃদয়বিদারক। দিনে দশ-বারো ঘণ্টা কাজ করেও তাদের মজুরি দিয়ে দুবেলা খাবার জোটে না। স্যাঁতসেঁতে বস্তিতে তাদের বাস। সন্তানদের শিক্ষা বা চিকিৎসার স্বপ্ন তাদের কাছে অধরা। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে দুর্ঘটনাও সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক দিবসে নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু শ্রম আইনের বাস্তবায়ন প্রায় অস্তিত্বহীন। মালিকদের শোষণ, দুর্বল ট্রেড ইউনিয়ন আর প্রশাসনের উদাসীনতায় শ্রমিকরা নিষ্পেষিত। তাদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, দারিদ্র্যের বৃত্তে আটকে থাকে। এই অবমূল্যায়ন শুধু শ্রমিকের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য ক্ষতিকর। শ্রমিকদের প্রতি এই অবমূল্যায়ন জাতির অগ্রগতির পথে বাধা। তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং মর্যাদা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে। শ্রমিক দিবসের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন শ্রমিকের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে। তাদের হাসিমুখই হবে জাতির গর্ব।
প্রজ্ঞা দাস
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
[email protected]