প্রশ্ন: গত ধানের মৌসুমে আমি ৯০০ টাকা দরে ৪০ মণ ধান কিনে রেখেছি। কয়েক মাস পরে ধানের দাম বাড়লে সেগুলো বিক্রি করব। স্বাভাবিকভাবে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ধানের দাম বাড়ে। তখন ধানগুলো বিক্রি করার ইচ্ছা করেছি। কিন্তু শুনেছি, ইসলামে পণ্য মজুত করে রাখা নিষেধ। জানার বিষয় হলো, আমার এ কাজ কী শরিয়ত-নিষিদ্ধ মজুতের আওতায় পড়বে নাকি এভাবে ব্যবসা করা আমার জন্য বৈধ হবে?
নাদিম আহমেদ, মুন্সিগঞ্জ
উত্তর: প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যে পরিমাণ ধান কিনে রেখেছেন এর পরিমাণ যেহেতু সামান্য, যার কারণে বাজারে এর প্রভাব পড়বে না এবং এলাকায় ধানের সংকট তৈরি হবে না, তাই তা শরিয়ত-নিষিদ্ধ মজুতকরণের আওতায় পড়বে না। কিন্তু একই এলাকায় বহু মানুষ এ পরিমাণ ধান (বা অন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য) কিনে মজুত করে রাখে, যার ফলে এলাকায় ধানের সংকট দেখা দেয় এবং বাজারে ধানের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তাহলে তখন তা অন্যায় ও গুনাহের কাজ হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/৩০৮; আদ দুররুল মুখতার, ৬/৩৯৮)
তবে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা লাভের আশায় নিজের খেতের ফসল বিক্রি না করে মূল্যবৃদ্ধির অপেক্ষায় রেখে দেওয়া শরিয়ত নিষিদ্ধ মজুতদারির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নাজায়েজও নয়।
পণ্য মজুতের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানো নাজায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পণ্য মজুত করে রাখবে সে গুনাহগার হবে। (মুসিলম, হাদিস: ১৬০৫)
আরও পড়ুন: কাস্টমার শরবতের গ্লাস ভাঙলে জরিমানা নেওয়া যাবে?
যেসব ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বাড়তি মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসা করে, তারা কখনো প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। তারা কখনো জান্নাতে যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো কৃপণ, ছদ্মবেশধারী ধোঁকাবাজ, খিয়ানতকারী ও অসচ্চরিত্র ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথম যারা জান্নাতের দরজার কড়া নাড়বে, তারা হবে দাস-দাসী, যদি তারা আল্লাহ ও তাদের মনিবের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৩২)
লেখক: আলেম, মুফতি ও সাংবাদিক