পরিবার মানবজীবনের প্রথম আশ্রয়, যেখানে ভালোবাসার অঙ্কুর ফোটে, সম্পর্কের শেকড় গভীরে যায়, আর সমাজের ভিত্তি মজবুত হয়। ইসলাম এই অমূল্য বন্ধনকে সুরক্ষিত করতে এক সুস্পষ্ট জীবনদর্শন দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে একটি সুখী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ পরিবার গড়ে তোলা সম্ভব। কুরআন ও হাদিসের আলোকে সেই পথরেখা এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
১. ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কের ভিত্তি
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা, সম্মান ও সহানুভূতির ওপর স্থাপন করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে ভালোভাবে জীবনযাপন করো; যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছো যাতে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন।’ (সুরা নিসা, ১৯)। এই আয়াত দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
২. দায়িত্বশীলতা উভয়ের কর্তব্য
ইসলামে স্বামী ও স্ত্রীর একে অপরের প্রতি সুস্পষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। স্বামী পরিবারের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা ও স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। তেমনি স্ত্রী স্বামীর প্রতি অনুগত থাকবেন, তার সম্মান রক্ষা করবেন এবং সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল হবেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই একটি পরিবার সুন্দরভাবে টিকে থাকে।
৩. শান্তি ও নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য
ইসলাম পরিবারে শান্তি ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।, (তিরমিজি)। পরিবারে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যেখানে সকলে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সহযোগিতাপরায়ণ হবে।
৪. সন্তানের অধিকার ও লালনপালন
ইসলাম শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেয়। তাদের সঠিক লালনপালন, উত্তম শিক্ষা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা পিতামাতার অবশ্য কর্তব্য। তাদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে চালিত করে।
৫. সহানুভূতি ও সহযোগিতা বন্ধনের শক্তি
ইসলাম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহানুভূতি, মায়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনগণ একে অপরের জন্য একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোন অংশ অসুস্থ হয়, তখন পুরো দেহ নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)। পরিবারেও তেমনি একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং সাহায্য করাই ইসলামের শিক্ষা।
ইসলাম পরিবার রক্ষার জন্য যে সুস্পষ্ট ও কার্যকরী নীতিমালা দিয়েছে। তা অনুসরণ করে প্রতিটি মুসলিম পরিবার একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল জীবন লাভ করতে পারে। আশা করি, এই ঐশ্বর্যময় দিকনির্দেশনাই পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ়তা প্রদানে সাহায্য করবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক