মানুষ তার জীবন নানা সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা ও পরীক্ষার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে। জীবনের পথ কখনো সহজ আবার কখনো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জীবনের এই চক্রে একমাত্র স্থির অবলম্বন হলেন আল্লাহতায়ালা। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ধৈর্য ও নামাজ। এ দুই কাজের মাধ্যমে যে সাহায্য প্রার্থনা করে, তার জন্য আল্লাহতায়ালার রহমতের দরজা সব সময় খোলা থাকে।
সাহায্য চাওয়ার পদ্ধতি: পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা বাকারা, ৪৫) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, ১৫৩) বিপদাপদ ও পরীক্ষার সময় প্রথম কাজ হলো ধৈর্য ধরা এবং দ্বিতীয় কাজ হলো নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করা।
বিপদে নবিজির আমল: বিপদে পড়লে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। উদ্বেগ, চাপ, দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করে ফেলে। নামাজ সেই অস্থিরতা দূর করে হৃদয়ে প্রশান্তি বর্ষণ করে। মানুষের জন্য তাই উচিত হলো, বিপদাপদে ধৈর্যহারা না হয়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। হজরত হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো বিপদে পড়লে কিংবা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩২৯৯)
দোয়ার সর্বোত্তম সময়: একজন মানুষ তার সমস্যার কথা যাকে-তাকে বলতে পারে না। সব কথা সবার সঙ্গে শেয়ারও করা যায় না। কিন্তু আল্লাহতায়ালার কাছে মনের সংশয়, ব্যথা-বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, আশা-নিরাশা সবকিছু নির্ভয়ে বলা যায়। নামাজে সিজদার মুহূর্তে একজন বান্দা মহান রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। এজন্য সিজদাই হলো সাহায্য চাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। এ সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না বলে হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
সংকট নিরসনে সাহাবায়ে কেরাম: জীবনের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সাহাবায়ে কেরাম ধৈর্যশীল দৃঢ় ও অবিচল থাকতেন এবং আল্লাহতায়ালার সামনে দাঁড়িয়ে যেতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা তারা নিজেদের জীবনে ধারণ করেছিলেন সর্বতোভাবে। বদর, উহুদ, তাবুকসহ সব যুদ্ধে নবিজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম সর্বপ্রথম নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ চেয়েছেন এবং পাশাপাশি কখনো কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে ধৈর্যধারণ করেছেন।
জীবন সব সময় একই রকম থাকে না। কখনো আলো কখনো আঁধার, কখনো সুখ, কখনো দুঃখ, কখনো সাফল্য, কখনো হতাশা—এই নিয়মেই চলে পৃথিবী। যে ব্যক্তি সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধরে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করে, তার জন্য আল্লাহর সাহায্য পাওয়া সুনিশ্চিত। কারণ, যিনি নামাজে দাঁড়ান, তিনি আসলে আল্লাহর দরজায় দাঁড়ান। এই দরজা কাউকে কখনোই হতাশ করে না।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ