ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়েনি বাজারে

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০৭ পিএম
শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়েনি বাজারে
ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। সরকার রমজান মাসকে কেন্দ্র করে চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু পাঁচ দিন চলে গেলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। রমজান আসতে মাত্র এক মাস বাকি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার কিছু পণ্যের শুল্ক কমিয়েছে বলে তারা শুনেছেন। কিন্তু কোম্পানিগুলো এখনো ওইস ব পণ্যের দাম কমায়নি। 

তারা জানান, আগের বেশি দামে কেনা পণ্য বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এখনো বোতলজাত তেল ১৭৩ টাকা লিটার, ১৪০-১৪৪ টাকা কেজি চিনি, ১০৫-১১০ টাকা কেজি ছোলা, ২৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। 

অন্য বছরে কম দাম থাকলেও এবার ডলারসংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন অজুহাতে রমজান আসার দুই মাস আগেই ছোলার দাম বেড়ে যায়। ৮৫-৯০ টাকার ছোলা ১২০ টাকায় কিনতে হয় ভোক্তাদের। এ নিয়ে হইচই পড়লে নতুন সরকার শুল্ক কমানোর চিন্তা করে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে আগেই চিনি-তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হলে ভোক্তাদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দেয়। সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল, চিনি, তেল ও খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বৃহস্পতিবার পাঁচটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে এসব পণ্যের শুল্ক বিভিন্ন পর্যায়ে কমানোর সিদ্ধান্ত জানায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোনালী ট্রেডার্সের আবুল কাশেম খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুনেছি সরকার কিছু পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে। কিন্তু কোম্পানি তো কমায়নি। তারা এখনো আগের রেটেই সব পণ্য বিক্রি করছে। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।’ একই বাজারের মিলু ট্রেডার্সের মিলু বলেন, ‘এখনো কম দামের তেল কোম্পানি দিচ্ছে না। সরকার শুল্ক কমালেও কোম্পানি কমায়নি। তাই আগের মতোই এক লিটার ১৬৫ টাকা, দুই লিটার ৩৩১ টাকা ও পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৭৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ 

তেল কোম্পানির বেঁধে দেওয়া সেই রেটে এক লিটার ১৭৩ টাকা, দুই লিটার ৩৪৬ ও পাঁচ লিটার ৮৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে একই বাজারের ইউসুফ জেনারেল স্টোরের ইউসুফ বলেন, ‘কমেনি কোনো পণ্যের দাম। এখনো আগের রেটেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাতেও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।’ 

উল্লেখ্য, দেশে বছরে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টন তেল আমদানি হয়। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই ভোজ্যতেলের চাহিদা সাড়ে তিন লাখ টন। রমজান মাস ঘনিয়ে এলে ডলারসংকটের অজুহাতে গত ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার ১৭৩ টাকা ও পাঁচ লিটার ৮৪৫ টাকা। এক মাস আগেও এসব দামে তেল বিক্রি হয় বলে টিসিবি জানিয়েছে।

রমজানে চিনির চাহিদাও অনেক বেড়ে যায়। তাই সরকার এই পণ্যের ওপর থেকেও শুল্ক কমিয়েছে। কিন্তু এখনো বাজারে কম দামের চিনি পাওয়া যাচ্ছে না বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। কৃষি মার্কেটের সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের ও কারওয়ান বাজারের সালমান ট্রেডার্সের মাসুম বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চিনির দাম বাড়ানোর পরও সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সরকার শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এখন পাওয়া যাচ্ছে চিনি। তবে আগের বেশি দামেরটাই। প্যাকেটজাত চিনি ১৪৪ টাকা ও খোলা চিনি ১৪০ টাকা কেজি। টাউনহল বাজারসহ অন্যান্য বাজারেও বর্তমানে চিনি পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম কমেনি। কোম্পানি কম দামের চিনি ছাড়েনি।

সারা বছরে ২০ লাখ টন চিনি লাগে। তবে রমজান মাসে চিনির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। প্রতি মাসে দেড় লাখ টন লাগলেও রমজানে দ্বিগুণ লাগে। অন্যান্য পণ্যের মতো আগে থেকেই বেড়ে গেছে এর দাম। ডলারসংকটের অজুহাতে গত ১৩ আগস্ট দেশের বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। খোলা চিনি ১৪০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১৪৪ টাকা কেজিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারও সেই দাম ঘোষণা দেয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো কোনো বাজারে ১৪৫-১৫০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে বর্তমানে কিছুটা কমে ১৪০-১৪৪ টাকায় খোলা ও প্যাকেট চিনি বিক্রি করা হচ্ছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। 

রমজানে ইফতারি আইটেম হিসেবে ছোলার কদর বেড়ে যায়সব শ্রেণির মানুষের কাছে। অন্যান্য পণ্যের মতো ছোলার দামও অনেক বেড়ে যায়। এক মাস আগে ছোলা ছিল ৮৫-৯০ টাকা কেজি। কয়েক দিন আগে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে এ সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমে ১০৫-১১০ টাকা হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের সালমান ট্রেডার্সের মাসুম বলেন, আগে দাম বাড়লেও কয়েক দিন থেকে কমেছে। বর্তমানে ১০০-১০৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। কম দামে কেনা হলে আরও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।

দেশে বছরে দেড় লাখ টন ছোলার চাহিদা। রমজানেই এক লাখ টনের মতো লাগে। অন্যান্য পণ্যের মতো এই পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। আগে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। 

রমজানে অন্যান্য জিনিসের মতো আদার চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই ক্রেতাদের বাড়তি দামেই কিনতে হয়। বর্তমানে ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি বলে বিক্রেতারা জানান। টাউনহল বাজারের রফিক বলেন, দাম কমে না। রমজানে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যান্য বাজারেও এসব দামে আদা বিক্রি হচ্ছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। 

রমজানে বিভিন্ন আইটেম তৈরি করতে পেঁয়াজেরও চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সারা দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ লাখ টনের মতো হলেও রমজানে পেঁয়াজ লাগে প্রায় পাঁচ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া সত্ত্বেও ভারত আমদানি বন্ধ ঘোষণা করায় দেশে টালমাটাল হয়ে পড়ে পেঁয়াজের বাজার। বর্তমানে ১০০ টাকার কম বিক্রি হচ্ছে না।

ইফতারির প্রথম ও প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। অন্যান্য পণ্যের মতো খেজুরের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ধনী-গরিব সবার পাতে ওঠে খেজুর। বছরে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন খেজুর লাগলেও রমজানে প্রায় ৫০ হাজার টন লাগে। অন্যান্য পণ্যের মতো বাজেটের পর থেকেই বেড়ে গেছে খেজুরের দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মান ভেদে ৫০-৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে দাম। কারওয়ান বাজারের বিক্রমপুর ভ্যারাইটিজ স্টোরের আওলাদ বলেন, সব খেজুরের দাম আগেই বেড়ে গেছে। বর্তমানে বস্তার জাহেদী খেজুর ২২০ টাকা, তিউনিশিয়ার খেজুর ৫০০-৫৫০ টাকা, আম্বার ও মরিয়ম খেজুর ১২০০ টাকা, আদম খেজুর ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, রমজানের আগেই গত বছরের চেয়ে খেজুরের অনেক বেশি দাম বেড়ে গেছে। শুনেছি সরকার শুল্ক কমিয়েছে। কিন্তু আমরা কম দামের খেজুর কিনতে পারিনি। তাই বিক্রিও করা যাচ্ছে না। 

অন্যান্য পণ্যের মতো শীতের ভরা মৌসুমে ইফতারির প্রয়োজনীয় পণ্য শসার দামও বেড়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের করিম নামে এক খুচরা বিক্রেতা জানান, আগে কম দামে বিক্রি করা হলেও বর্তমানে শসার দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা কেজি, বেগুনের কেজি ৬০-৮০ টাকা। তবে কাঁচামরিচের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। বর্তমানে কাঁচামরিচের কেজি ৫০-৬০ টাকা। লেবুর ডজন ৬০-৯০ টাকা।

থেমে গেছে হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে অভিযান

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৫ এএম
থেমে গেছে হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের সড়কে চলাচলকারী অনেক গাড়িকে অযথা হর্ন বাজতে দেখা যায়। যে স্থানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই বা সামনে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো যানবাহন না থাকলেও সেখানে গাড়ির চালকরা হর্ন বাজান। কোনো কোনো গাড়ির চালক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজিয়ে সড়কে চলছেন। যাতে তাদের দেখে সড়ক থেকে অন্য গাড়ির চালকরা দ্রুত সরে যান। কেউ কেউ গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন সংযোজন করেন। আবার কোনো কোনো চালক গাড়িতে কিছু ভয়ংকর শব্দের হর্ন লাগান।

পুলিশ বলছে, হাইড্রোলিক হর্ন যারাই বাজিয়ে থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। আর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযথা হর্ন বাজানো একটি অপরাধ। এতে সড়কে চলাচলকারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে দিন দিন এ অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। ২০১৯ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় হাইড্রোলিক হর্ন গাড়িতে রাখা ও বাজানোর জন্য ৪ শতাধিক মামলা করেছিল পুলিশ। সড়কের সব মোড়ে যেখানেই গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজাতে দেখেছে ট্রাফিক পুলিশ সেই গাড়িকেই আটক করে নিয়মিত মামলা দিয়েছে। মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন পাওয়া গেলে জরিমানার বিধান আছে। 

এ ছাড়াও প্রাইভেট গাড়িগুলোতে পিপ-পিপ শব্দের হর্ন আর বাণিজ্যিক গাড়িতে ‘পপ-পপ’ শব্দের হর্ন বাজানোর বিধান রয়েছে। ওই সময় কিছু গাড়ি আটক করা হয়। কিন্তু ওই গাড়ির মালিকরা যারা কি না,  উচ্চবিত্ত শ্রেণির গাড়ি ছোটানোর জন্য আসাদুজ্জামানের কাছে একাধিক তদবির করেন। একপর্যায়ে ওই অভিযান থেমে যায়। পরে আর হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের জন্য অভিযান পরিচালনা করা যায়নি।  ওই অভিযান মাত্র ৪ দিন চলেছিল। পরে কমিশনারের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
 
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মনিবুর রহমান মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খবরের কাগজকে জানান, সড়কে কেউ যাতে অযথা হর্ন না বাজায় এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা প্রচার চালিয়ে থাকি। ট্রাফিক পুলিশ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। তারা সড়কে যেখানেই কাউকে হর্ন বাজাতে দেখেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে কাউকে ছাড় দেওয়া হয় না। 

তিনি আরও জানান, সড়কে কাউকে গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজাতে দেখলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও ক্রিমিলোজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘শব্দদূষণ ঘটানো একটি অপরাধ। বিনা কারণে হর্ন বাজিয়ে সড়কে চলাচলকারী লোকজনকে মানসিক হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়। এই অপরাধপ্রবণতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিনের পর দিন এই শব্দ দূষণ বেড়ে চলছে। এর কারণ হচ্ছে, যারা এর দেখভাল করেন তারা মূলত উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। দেখা গেছে, সড়ক ফাঁকা রয়েছে সামনে তেমন কোনো গাড়ি নেই তাও হর্ন বাজাচ্ছে। হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো নিষেধ থাকলেও সেখানেও কেউ কেউ হর্ন বাজাচ্ছেন। এই প্রবণতা রুখতে আইনের প্রয়োগ যেমন ঘটাতে হবে তেমন করে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ 

ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘সড়কে যেসব নাগরিক চলাচল করেন তাদেরও অনেক সচেতন হতে হবে। কেউ যাতে বিনা কারণ হর্ন না বাজান সেই বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরতে হবে। যদি তিনি একই কাজ বারবার করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে করে তারা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

‘এক নেতা এক পদ’ নীতি ৮ বছরেও কার্যকর হয়নি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০০ এএম
‘এক নেতা এক পদ’ নীতি ৮ বছরেও কার্যকর হয়নি

২০১৬ সালে সর্বশেষ কাউন্সিলে ‘এক নেতার এক পদ’ এই নীতি চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। দীর্ঘ আট বছর শেষ হতে চললেও সেই নীতি এখনো দলে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আট বছরে আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপেও যেতে পারেনি দলটি। এক বা একাধিক পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন দুজন করে স্থায়ী কমিটি সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া চেয়ারপারসনের সাতজন উপদেষ্টা, তরুণ চার নেতাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা আছেন একাধিক পদে। 

দলে তৃণমূল থেকে নেতা-কর্মীরা উঠে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করে একাধিক নেতা বলেন, বিএনপিতে যার আছেন- তো সব আছে, আবার যার নেই- তার কিছুই নেই। এটা শুধু পদের বেলায় প্রযোজ্য। এক নেতা একাধিক পদ আঁকড়ে রাখায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। সর্বোচ্চ চার পদে ধরে রেখেছেন তরুণ চার নেতা। ফলে অনেকেই পদ না পেয়ে হতাশায় ভোগেন। তাদের দাবি, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর ‘এক নেতার এক পদ’ এই নীতি চালু করার দাবি জোরালো হয়। কিন্তু প্রায় আট বছর শেষ হতে চললেও কার্যকর নীতি চালু করেনি হাইকমান্ড। 

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “এই নীতি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে চলমান রয়েছে। গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি এখনো সংযুক্ত করা হয়নি। রাতারাতি তো সবকিছু করা যায় না। গত ৭-৮ বছরের পারিনি বলে আগামীতে পারব না, এটা ঠিক নয়। সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই নীতি কার্যকর ও দলের ভেতরের চর্চা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে বিএনপির হাইকমান্ড।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রথম এক নেতার এক পদ নীতি চালু করেছিলেন। সেই সময়ে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও আমিসহ অনেকেই পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন।’ 

তিনি বলেন, ‘এখনো দুই বা একাধিক পদে অনেকেই আছেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দলের মধ্যে হতাশা বা আক্ষেপ নেই। পদ না ছাড়লে তো আর কাউকে জোর করতে পারি না।’ 

আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, “দলের প্রয়োজনে হয়তো কেউ কেউ একাধিক পদ ধরে রেখেছেন। তবে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতির প্র্যাকটিস চালু রয়েছে।” 

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের পরই ২ এপ্রিল প্রথম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘বিএনপি মহাসচিব’ পদ ধরে রেখে কৃষক দলের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। ওই সময়ে বিএনপি মহাসচিবকে অনুসরণ করে আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা পদ ছেড়ে দেন। সেই সময়ে ‘পছন্দমতো’ পদ রেখে বাকি পদ ছাড়তে একাধিক নেতাকে দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই চিঠির জবাব দিলেও পদ ছাড়তে রাজি ছিলেন না। আবার সিনিয়র অনেক নেতা পদ ছেড়ে দেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ থাকলেও অদৃশ্য কারণে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি এখনো পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের কয়েকজন নেতাও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

২০২১ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব পদ পেয়ে আমিনুল হক কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক পদ ছেড়ে দেন। তাকে অনুসরণ করে ঢাকা মহানগর যুবদলের পদ ছেড়ে দেন দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মজনু। কিন্তু মহানগর কমিটিতে থাকা অন্যরা এখনো একাধিক পদ ধরে রেখেছেন। 

বর্তমানে স্থায়ী কমিটির দুই নীতিনির্ধারক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান দুটি পদে রয়েছেন। স্থায়ী কমিটির পাশাপাশি আমীর খসরু আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং সেলিমা রহমান দলের নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুজন ভাইস চেয়াম্যান একাধিক পদ আঁকড়ে রয়েছেন। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ভাইস চেয়ারম্যান এবং পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পেশাজীবী পরিষদ বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনভুক্ত কোনো দল নয়। এটি বিএনপি সমর্থক একটি সংগঠন। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীও বিএনপি সমর্থিত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাতজন উপদেষ্টা জেলা বা মহানগরের পদে রয়েছেন। এরা হলেন আব্দুস সালাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক, আমানউল্লাহ আমান ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা জেলা বিএনপির সভাপতি, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বিজন কান্তি সরকার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ার‌ম্যান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘দলের প্রয়োজনে তিনি দুই পদে আছেন। তবে দল যদি মনে করে তাহলে পদ ছেড়ে দেবেন। তাই দল প্রয়োজনে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে স্বাগত জানাব।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেলের সদস্যসচিব, কায়সার কামাল আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব, শামা ওবায়েদ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য, আসাদুল হাবিব দুলু রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি, কামরুজ্জামান রতন বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব, ফরহাদ হোসেন আজাদ পল্লি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব, মো. শরিফুল আলম ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, ওয়ারেস আলী মামুন সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য, হাসান জাফির তুহিন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবার কৃষক দলের সভাপতি, ইশরাক হোসেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য, খন্দকার আবু আশফাক ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। 

এ ছাড়া বিএনপির তিন-চারটি পদে বহাল রয়েছেন অন্তত চারজন। তারা হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও একই সঙ্গে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা বিএনপির সভাপতি এবং দলের নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব। সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী দলের সহ-তথ্য গবেষণাবিষয়ক সম্পাদকের পাশাপাশি সমর্থক পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য। শাম্মী আক্তার বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদকের পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, মিডিয়া সেলের সদস্য এবং বিএনপি সমর্থিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য। ব্যারিস্টার মীর হেলাল বিএনপির নির্বাহী কমিটি, মিডিয়া সেল এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য।

বিএনপির চার পদে থাকা নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমি একা তো নই, আরও অনেক নেতাই একাধিক পদে আছেন। দলের প্রয়োজনে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকরা যখনই বলবেন, তখনই পদ ছেড়ে দেব।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, শাহ রিয়াজুল হান্নান গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কাপাসিয়া উপজেলার সভাপতি, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, রাজিব আহসান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। এদের বাইরেও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের এক ব্যক্তির একাধিক পদ আঁকড়ে রাখার নজির রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘এক নেতার এক পদ’ এই নীতি এখনো বহাল আছে। কেউ কেউ হয়তো এক বা দুই পদে থাকতে পারেন। এতে দলে কোনো কার্যক্রমে ব্যাঘাত হয়নি। এই নিয়ে দলের মধ্যে কোনো হতাশা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবার লক্ষ্য সরকার পতন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। একাধিক পদের বিষয়ে হাইকমান্ডের নজর আছে।’

‘কথায় কথায়’ ঘুষ নেন বিদ্যুতের প্রকৌশলী

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০০ এএম
‘কথায় কথায়’ ঘুষ নেন বিদ্যুতের প্রকৌশলী
স্বাগত সরকার। ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চার বছর আগে যোগদান করে এখনো দায়িত্বে রয়েছেন স্বাগত সরকার। তবে তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের অন্ত নেই। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের এমন কোনো খাত নেই, যেখানে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অনিয়ম করেন না। পোস্ট-পেইড মিটারে ভূতুড়ে বিল, প্রি-পেইড সংযোগ দিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসেরই একজন কর্মচারী দিয়ে করেন মিটারের ব্যবসা।

বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণে খুঁটি প্রতি তিনি নেন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আর প্রতি কিলোওয়াট লোড বৃদ্ধিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করেন অতিরিক্ত ১০ গুণ অর্থ। অফিসের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে চার বছর ধরে চলছে নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকারের অনিয়মের এই কাণ্ডকারখানা।

অভিযোগের সূত্র ধরে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহক হিসেবে প্রথমেই ফোন দেওয়া হয় লাইনম্যান সাহায্যকারী জামান রিয়াদকে। আবাসিক প্রি-পেইড সংযোগের এক কিলোওয়াট লোড বৃদ্ধিতে করণীয় জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতি কিলোওয়াট লোড বাড়াতে খরচ লাগবে আড়াই হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার টাকা সরকারি ফি এবং বাকি ৫০০ টাকা অফিসের আনুষঙ্গিক খরচ। 

২৩০ টাকা সরকারি ফি ব্যাংকে প্রদানের মাধ্যমে প্রি-পেইড সংযোগ পাওয়ার কথা, তবে কেন সরকারি খরচ আড়াই হাজার টাকা চেয়েছেন তিনি, এমন প্রশ্নের উত্তরে লাইনম্যান সাহায্যকারী জামান রিয়াদ বলেন, ‘এসডি সাকিব স্যার (উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিব) এবং এক্সিয়েন স্যারের (নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার) নির্দেশেই আমি এই টাকা নিয়ে থাকি। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলুন।’
 
এরপর গ্রাহক পরিচয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘অফিশিয়াল নিয়ম যদি ফলো করেন, আবাসিক সংযোগের লোড বাড়াতে হলে ১০০ ওয়াটের একটা সোলার প্যানেল বসিয়ে কাগজ জমা দিতে হবে। তবে সোলার প্যানেলের কাগজ দিতে না পারলে আমাদের লোকজন ম্যানেজ করে দেয়। আর সেজন্য তারা আড়াই হাজার টাকা নেয়।’

শুধু লোড বৃদ্ধিতেই নয়, নতুন প্রি-পেইড সংযোগ পেতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিতে হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলীকে। মিটারও কিনতে হয় নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকেই। মিটার বিক্রির জন্য প্রকৌশলী স্বাগত সরকার দায়িত্ব দিয়েছেন ‘টিটু সূত্রধর’ নামে একজন লাইনম্যান সাহায্যকারীকে। টিটু সূত্রধরকে দিয়ে অফিসেই মিটারের রমরমা বাণিজ্য চলছে তার। বাজারের স্বাভাবিক দরে নয়, তিনি গ্রাহকদের কাছে মিটার বিক্রি করেন বাড়তি দামে। গ্রাহকরাও হয়রানি এড়াতে বাধ্য হন তার কাছ থেকে মিটার কিনতে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের সাত দিনের মধ্যে প্রি-পেইড সংযোগ পাওয়ার কথা গ্রাহকদের। কেউ যদি টিটু সূত্রধরের কাছ থেকে মিটার না কিনে বাজার থেকে কেনেন, তবে সেই গ্রাহকের ফাইল আটকে থাকে এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত। অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। 

খাগড়াছড়িতে বর্তমানে ৫৬০০ প্রি-পেইড মিটার রয়েছে। যার মধ্যে প্রকৌশলী স্বাগত সরকারের দায়িত্বে থাকার সময়ে গত চার বছরে স্থাপিত হয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি মিটার। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সব গ্রাহককে মিটার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে বিদ্যুৎ অফিস থেকেই। 

খাগড়াছড়ি সদরের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ সৈকত বলেন, ‘অস্বাভাবিক বিলের কারণে পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড সংযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট লাইনম্যানদের জানাই। তারা এর জন্য ১২ হাজার টাকা চেয়েছেন, বলেছেন এর কমে সংযোগ দেওয়া যাবে না। এটা নাকি অফিসের নিয়ম।’

কুমিল্লা টিলা এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে আমার বাড়ির সামনে একটি খাম্বা (বৈদ্যুতিক খুঁটি) হেলে পড়েছিল। এ নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছি। তারা এটি সোজা করে দিতে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে পরে ওই খাম্বাটিকে দড়ি দিয়ে কোনোরকমে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার বলেন, ‘সরকার তো একেক সময় একেক নিয়ম দেয়। তবে সবকিছু প্রতিপালন করা যায় না, সব নিয়ম তো অ্যাপ্লাই করা যায় না।’ 

বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রকৌশলী স্বাগত সরকার বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি আবাসিক ভবনে কেবলমাত্র একটি মিটার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে ভবনের মালিকরা প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য আলাদা আলাদা মিটার নিয়ে থাকেন। কোনো কোনো ভবনে আমরা ৮ থেকে ১০টি মিটারও দিয়েছি। এ কারণেই গ্রাহকরা আমাদের বাড়তি টাকা দেয়।’ 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বিউবো রাঙামাটি সার্কেলের (পরিচালন ও সংরক্ষণ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনো অজুহাতেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পোশাকশিল্প বিকাশে নারীর অবদানই বেশি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
পোশাকশিল্প বিকাশে নারীর অবদানই বেশি
ছবি : খবরের কাগজ

দেশে রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত মোট শ্রমিকের বেশির ভাগই নারী। তবে এ শিল্পে এখনো উচ্চপদে নারীর সংখ্যা কম। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক নারী কারখানার মালিক হলেও নিজের চেষ্টায় মালিক হয়েছেন এমন সংখ্যাও উল্লেখ করার মতো নয়। 

তৈরি পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, আগের চেয়ে এ খাতে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। উৎপাদনের তুলনায় পোশাকের ডিজাইনে নারীর আগ্রহ বেশি।

তৈরি পোশাক খাতে কত নারী শ্রমিক কাজ করছে তার সংখ্যা দেশি -বিদেশি প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য হিসেব পাওয়া গিয়েছে। 

এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, “পোশাক খাতে কাজ করছেন মোট শ্রমিকের ৫৯.১২ শতাংই নারী। সংখ্যার হিসাবে ২৩ লাখেরও বেশি। 

অন্যদিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ ডেভেলপমেন্টের তথ্যানুযায়ি, এ খাতে নারী শ্রমিকের হার ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ। 

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘পোশাক খাতে নারীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নারীরা সৃষ্টিগতভাবেই সেলাই, কাপড় কাটা এসবে পারদর্শী। এর সঙ্গে কারখানায় কাজ করতে করতে তারা আরও দক্ষ হয়ে ওঠেন। আমি এক কথায় বলব, এ দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের দ্রুত বিকাশের পেছনে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি।’ 

উচ্চপদে কেন নারীদের অংশগ্রহণ কম বা নিজের চেষ্টায় কেন নারীরা তৈরি পোশাক কারখানার মালিক হচ্ছেন না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, এখন অনেক শিক্ষিত নারী পোশাকশিল্পে আসছেন। উৎপাদনের চেয়ে ডিজাইনে তাদের আগ্রহ বেশি। উত্তরাধিকার সূত্রে অনেকে মালিক হয়েছেন। নিজের চেষ্টায় কারখানার মালিক হয়েছেন, এমন নারীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে নানা হিসাব পাওয়া গেছে। তবে আমরা মনে করি এ খাতে নারী শ্রমিকের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ।  

গত বছর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের পোশাক খাত নারীদের কর্মসংস্থানে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও নারীরা এসে কাজ করছেন। এসব নারী পোশাক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বিশেষ অবদান রাখছেন। তাদের মাধ্যমে অনেক পরিবার আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পোশাক মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের অবদান অপরিসীম। আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জিত হচ্ছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

যোগাযোগ করা হলে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী খবরের কাগজকে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাক খাত থেকে। দ্রুত সম্প্রসারিত এ শিল্প দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। বর্তমানে পোশাক খাতে প্রায় অর্ধকোটি লোক কর্মরত। এদের বেশির ভাগই নারী। ফলে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তৈরি পোশাক খাতে নারীর অংশগ্রহণের শুরু হয় সত্তরের দশকে। শুরুটা হয় ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ দিয়ে। ১৯৭৩ সালে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী এই গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে দেশের বাজারেই বিক্রি হতো এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথম তারা ফ্রান্সে ১০ হাজার শার্ট রপ্তানি করেন। সেটিই দেশের প্রথম পোশাক রপ্তানি। তখনকার সামাজিক অবস্থা ততটা অনুকূলে না থাকায় রিয়াজ উদ্দিন নিজের মেয়েকেই তার কারখানায় পোশাক তৈরির কাজে লাগিয়ে দেন। এরপর ধীরে ধীরে অন্য নারীরা পোশাকশিল্পের কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, গত ৩০ বছরের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যাবে পোশাকশিল্পে নারীরা অনেক দূর এগিয়েছেন। তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু মজুরি বাড়েনি। তারা যে মজুরিতে কাজ করেন, সেটা পুরুষের তুলনায় অনেক কম। মূলত তাদের নেওয়া হয় সস্তা শ্রমের জন্য। তবে কিছু জায়গায় শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের কারণে কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখনো কারখানাগুলোতে নারীদের কর্মক্ষেত্র নিরাপদ হয়নি। এর জন্য আমাদের আরও লড়াই ও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। কারখানার মালিকদের এ ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হতে হবে।

চট্টগ্রামে দাঁতের রোগে ভুগছে ৮৩ শতাংশ শিশু

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১১ পিএম
চট্টগ্রামে দাঁতের রোগে ভুগছে ৮৩ শতাংশ শিশু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ৮৩ শতাংশ শিশু দাঁতের অসুখে ভুগছে। দাঁতের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের একদল চিকিৎসকের গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ শিশুর দাঁতে ক্ষয়রোগ রয়েছে; রাতে দাঁত ব্রাশ করে না ৫৭ শতাংশ; দাঁতের ব্যথায় ভুগছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মাড়ির রক্তক্ষরণ রয়েছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ শিশুর।

পানীয় জল, টুথপেস্ট বা দাঁতের যত্নে ব্যবহৃত পণ্যে ফ্লোরাইডের ঘাটতি দাঁত ক্ষয়ের অন্যতম কারণ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় মায়ের বুকের দুধ পানেও ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ছে বলে তথ্য উঠে আসে। বন্দর নগরীর ২৩৩ শিশু ও অভিভাবকের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। 

গবেষণার তথ্য বলছে, প্রায় ৭০ ভাগ শিশু সকালে খাওয়ার আগে ব্রাশ করে। অথচ ব্রাশ করার সঠিক পদ্ধতি হলো খাওয়ার পর করা। এ ছাড়া প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু মুখ ও দাঁত পরিষ্কারের সময় অসহিষ্ণু আচরণ করে। শিশুদের দাঁতের ক্ষয় নিয়ে তাদের মা-বাবার ধারণা ও প্রাত্যহিক জীবনে তার প্রয়োগ নিয়ে যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। 

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌহিদা আহসানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ডেন্টাল ইউনিটের লেকচারার ডা. মো. সেলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আফরোজা হক, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জসীম উদ্দীন। 

গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬ বছরের কম বয়সী শতকরা ৭৫ ভাগ শিশু নিজেরা দাঁত ব্রাশ করে। তারা সঠিকভাবে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করতে পারে না। যা দন্তক্ষয় বাড়ার একটি অন্যতম কারণ এবং প্রায় ৪৮ ভাগ ক্ষেত্রে মা-বাবাদের তদারকি বা তত্ত্বাবধায়ন থাকে না। আর যেসব শিশু ব্রাশ করতে অনীহা প্রকাশ করে তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ অভিভাবক তাদের শিশুদের মুখ ও দাঁত অনিয়মিতভাবে পরিষ্কার করান।

ডা. তৌহিদা আহসান জানান, এই সমীক্ষায় ২৩৫ জন প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১.৫০ শতাংশ ছাত্র ও ৪৮.৫০ শতাংশ ছাত্রী ছিল। ১২৩ জন তৃতীয় শ্রেণির ও ১১২ জন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ০.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কয়লা দিয়ে ব্রাশ করলেও বেশির ভাগই দাঁত পরিষ্কার করে টুথব্রাশ দিয়ে। যেখানে সবাই ব্যবহার করেন নানা কোম্পানির টুথপেস্ট। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দাঁতের ব্যথায় ভুগছে ৩২.৩%। দাঁতের সংবেদনশীলতা ছিল ২৬% এর। মাড়ির রক্তক্ষরণে ভুগছে ২১.৭%। ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত ছিল ২১.৭%। ভাঙা দাঁত ১৯.৬% এবং দাঁত নড়বড়ে ছিল ১৫.৭% শিক্ষার্থীর। সবকিছু ঠিক ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ শিশুর। বাকি ৮৩ শতাংশের দাঁতে সমস্যা ছিল। রাতে দাঁত ব্রাশ করে না ৫৭% শিক্ষার্থী। সকালে নাশতার পর দাঁত ব্রাশ করে মাত্র ১১.৯% শিক্ষার্থী। অপরদিকে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৮৮.১%) ব্রাশ করে নাশতার আগে। 

ডা. তৌহিদা আহসান জানান, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সবাই শহরাঞ্চলের বাসিন্দা ছিল। দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নমুনার আকার অপেক্ষাকৃত ছোট ছিল। তবুও এর মাধ্যমে যে বার্তা পাওয়া যায়, তার থেকে উত্তরণের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। 

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের (সিআইএমসি) উপাধ্যক্ষ ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘বেশির ভাগ মা-বাবা শিশুর দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা শুরু করেন আড়াই বছর বা তার পর থেকে। যেখানে জন্মের পর থেকেই বাচ্চার জিহ্বা ও মাড়ি পরিষ্কার করা এবং একটি দাঁত উঠলেই ফিংগার ব্রাশ বা কাপড় বা গজ দিয়ে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা উচিত। শিশুদের দন্তক্ষয় সারা বিশ্বে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা। এই বিষয় নিয়ে অভিভাবকদের সঠিক ধারণা ও সচেতনতা খুব জরুরি।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি সিআইএমসিতে শুরু হচ্ছে তৃতীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন। সেখানে ১০৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। যার মধ্যে শিশুদের দন্তরোগ নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণাও উপস্থাপন করা হবে।