দেশে ঐতিহ্যের স্মারক ৩ স্থাপনা । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

দেশে ঐতিহ্যের স্মারক ৩ স্থাপনা

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪০ এএম
দেশে ঐতিহ্যের স্মারক ৩ স্থাপনা
নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। ছবি : খবরের কাগজ

আজ ১৮ এপ্রিল বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস। একটি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধারণ করে চলে। এসব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর তাৎপর্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ১৮ এপ্রিল পালন করা হয় বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস। ১৯৮২ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর মনুমেন্টস অ্যান্ড সাইটস  তিউনিশিয়ায় একটি আলোচনা সভায় ১৮ এপ্রিলকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে দিনটি ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। এই দিনটি পালন করার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্থান সংরক্ষণ ও সুরক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। 

প্রতিবছর এই দিনটি পালন করার জন্য নির্দিষ্ট একটি থিম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।  এ বছর বিশ্ব  ঐতিহ্য দিবসের থিমটি হলো ‘ডিসকভার অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স ডাইভারসিটি’। প্রতিবছর এই থিম নির্ধারণ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন মনুমেন্টস অ্যান্ড সাইটস’। 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন খবরের কাগজকে বলেন, ইউনেস্কো এ পর্যন্ত ১৬৭টি দেশে মোট ১১৫৫টি স্মৃতিস্তম্ভকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে মনোনীত করেছে। এর মধ্যে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩টি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো- নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, বাগেরহাটের মসজিদ শহর এবং সুন্দরবন। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও বাগেরহাট মসজিদ শহর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যভুক্ত প্রত্নস্থল। অপরদিকে সুন্দরবন বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যভুক্ত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।

এ ছাড়াও বিশ্বের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জায়গা পেয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং শীতলপাটি, ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকেও ইউনেস্কো আওতাভুক্ত করেছে ২০১৭ সালে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি বিশ্বের দেশগুলোকে পাঁচটি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করেছে। এগুলো হলো- ১. আফ্রিকা ও আরব অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য সহ) ২. এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া এ অঞ্চলভুক্ত) ৩. ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা ৪. ল্যাটিন আমেরিকা ও ৫. ক্যারিবীয় অঞ্চল। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতিবছরই নতুন নতুন ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত হয়। আবার যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ঘোষিত ঐতিহ্যস্থল তালিকা থেকে বাদ হয়ে যেতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি বিশ্বের ২১টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। কমিটি চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। এ কমিটি পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যস্থলগুলোর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারক করে। ঘোষিত ঐতিহ্যগুলোকে ব্যবস্থাপনার জন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়। অর্থায়নের এই সিদ্ধান্ত ১৯৭২ সালের ১৬ নভেম্বর ইউনেস্কোর বিশেষ সভায় গৃহীত হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ১৮৬টি দেশ ‘কনসার্নিং দ্য প্রোটেকশন অব ওয়ার্ল্ড কালচারাল অ্যান্ড নেচারাল হেরিটেজ’ কনভেনশন এ স্বাক্ষর করেছে।

এই সব ঐতিহ্যকে জানার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর অনেক পর্যটক বাংলাদেশে আসছে। যা একটি দেশের পরিচিতি এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হলো না কেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছেও তার ব্যাখা দিতে হবে এনবিআরকে। 

এনবিআর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে, এমন অঙ্গীকার করেই আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এনবিআরের সক্ষমতা না বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় প্রতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজস্ব ঘাটতি থাকায় দেশে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। 

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, এখানে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যারা আছেন তারা বাজেটের আকার বড় করে কাগজেকলমে হিসাব মিলাতে এনবিআরের অঙ্কের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেন। ঋণ পরিশোধের জন্যও এনবিআরের ওপর আদায় বাড়ানোর চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে শুধু লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেই হবে না। এনবিআরকে আদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও ঘাটতি কমবে। অর্থনীতিতে ভারসাম্য আসবে। 

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারায় এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। 

এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন খাতের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে কমিয়ে আমদানি শুল্ক ৪৩ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, আমদানি পর্যায়ের ভ্যাট ৫২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ১৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৬৩ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৪ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট ১ লাখ ৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ের সম্পূরক শুল্ক ৪১ হাজার ৬১ কোটি টাকা, টার্নওভার কর ৪৫ লাখ টাকা করা হয়। একইভাবে আয়কর কমিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ কর কমিয়ে ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা করা হয়। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে যে সংশোধিত লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে ২৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা কম আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই আদায় ৪৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা কম। গত জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত সব মিলিয়ে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৩২১ কোটি টাকার শুল্ক কর আদায় হয়েছে। এই সময় সংস্থাটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।

আমদানি কর, ভ্যাট ও আয়কর- এই তিন খাতের মধ্যে কোনোটিই গত ১০ মাসে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে আমদানি পর্যায়ে ৮২ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ভ্যাটে ১ লাখ ১১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ও আয়করে ৯৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। 

চলতি অর্থবছর শেষ হতে চলতি মে এবং জুন মাস বাকি আছে। এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে এবং এনবিআরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এনবিআরের পরিকল্পনামতো বা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আদায় হলেও রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এড়ানো যাবে না। বাকি দুই মাস মে ও জুনে এনবিআরকে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হলে এনবিআরকে আরও ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যা অসম্ভব বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।     

ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে আইএমএফের কাছে পাঠানো এনবিআরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অর্থবছরের শেষ মাসে আদায় বাড়ার সম্ভাবনা আছে। বিশেষভাবে উৎসে কর খাতে বড় ধরনের আদায় হবে। রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে এমন সব প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং শুল্ক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে  অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এতেও বড় অঙ্কের অর্থ আদায় হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে রাজস্ব ঘাটতি কমবে বলে আশা করা যায়।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এনবিআরের সঙ্গে আইএমএফের বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য আইএমএফ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে ডলারসংকটকে দায়ী করে এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী ডলারসংকট চলছে। ডলারসংকটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক ধারা রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে আয় বাড়েনি। বরং অনেকের আয় কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। বেশির ভাগ শিল্প মুনাফা করতে পারছে না। নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করেছে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারসংকটের কারণে সঠিক হিসাবে এনবিআরের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না। এতে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় হচ্ছে না। ফলে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এনবিআরের অনেক খাতে প্রবৃদ্ধি আছে। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা নেতিবাচক ধারা রয়েছে। তবে এনবিআর হতাশ না। যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যেই রাজস্ব আদায় বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি ভালো ফল আসবে।    

এনবিআরের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১২:০৪ পিএম
এনবিআরের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বছরের পর বছর পেট্রোবাংলা ও বিপিসির কাছে আটকে থাকা ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া রাজস্ব আদায়ে তিন চেয়ারম্যানকে নিয়ে বৈঠকে বসলেন অর্থ সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব। বৈঠকে ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম পেট্রোবাংলা ও বিপিসির কাছে বকেয়া রাজস্ব কত সময় থেকে পাওনা রয়েছে জানিয়ে তা চলতি অর্থবছরে পরিশোধের অনুরোধ জানান। কতবার এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পরিশোধে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের শুল্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে কোন কোন খাতে রাজস্ব বকেয়া রয়েছে, তা তুলে ধরেন। তবে এনবিআরের দাবি করা রাজস্বের পরিমাণের সঙ্গে দ্বিমত করেন পেট্রোবাংলা ও বিপিসির চেয়ারম্যান। তারা এসব বকেয়ায় কিছু ছাড় পাবেন বলেন জানান। ফলে বকেয়ার পরিমাণ কমবে বলেও দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে আবারও হিসাব করা প্রয়োজন বলেও জানান তারা। 

বৈঠকে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি খাতের ভর্তুকির পরিমাণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া আসছে বাজেটে জ্বালানি খাতের  শুল্ক কর ও ভ‍্যাট নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, এ বৈঠকে বকেয়া রাজস্ব পাওনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বকেয়া অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। তবে যাদের কাছে পাওনা, তাদের কিছু বক্তব্য আছে। তা শোনা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান করে চলতি অর্থবছরেই বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের এমন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, এনবিআর থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব দাবি করা হয়েছে তা বিপিসি ও পেট্রোবাংলার হিসাবের চাইতে কিছু বেশি। অর্থবছরের শেষ সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি আছে। এনবিআর সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখন দেখা যাক কতটা আদায় হয়। বছরের পর বছর এ বকেয়া আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন অজুহাতে বকেয়া পরিশোধ করছে না।

বৈঠকে উত্থাপিত এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়,‌ ‘পেট্রোবাংলা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত এনবিআরের পক্ষে রায় দেন। পরে ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সভায় বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে এই রাজস্ব পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে ১৫ হাজার ৬৯৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আদায় করেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বিধিবহির্ভূতভাবে সমন্বয় করা ১ হাজার ৭৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কর বাতিল করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই দুটি খাতে পাওনা হিসেবে ১৬ হাজার ৭৭৪ কোটি ২৩ লাখ বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো পরিশোধ করা হয়নি।’

বৈঠকের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, ‍‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় করে এনবিআরের কাছে জমা দিয়ে থাকে। এর পরিমাণ মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ১০ শতাংশ। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগে বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার বাকিটা আয়কর ও শুল্ক। এসআরও শর্ত প্রতিপালন, অতিরিক্ত রেয়াত গ্রহণ, গ্যাসের বর্ধিত মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ না করা, গ্রাহক থেকে ভ্যাট আদায় করে পরিশোধ না করা, ভর্তুকি মূল্যের ওপর ভ্যাট পরিশোধ না করা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে জেট ফুয়েল সরবরাহকে রপ্তানি হিসেবে গণ্য না করা, আয়কর অধ্যাদেশের ৮২সি ধারা বিতর্কসহ মামলা জটিলতায় এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া। 

২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলার কাছে মোট পাওনা ২১ হাজার ৮০১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭ কোটি আট ৮ টাকা। রেয়াত গ্রহণের শর্ত পালন না করায় পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা হয়। ২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজি ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপিত পণ্যে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ না থাকায় ২ হাজার ১৯৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ভ্যাট পাওনা রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্যাসের বর্ধিত মূল্যের ওপর অপরিশোধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পাওনা হয় ১ হাজার ৮২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 

উপজেলায় স্বজনরা প্রার্থী দ্বিতীয় ধাপেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
দ্বিতীয় ধাপেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের। আওয়ামী লীগের নির্দেশ অমান্য করে তাদের (মন্ত্রী-এমপির) পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নিয়ে দলটির হাইকমান্ড উদ্বিগ্ন। এদিকে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। 

মঙ্গলবার (২১ মে) দ্বিতীয় এবং ২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টিআইবি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির পরিবারের ১৭ সদস্য ও স্বজনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১৭ জন। এর মধ্যে ১২ জন নির্বাচিত এবং ৫ জন পরাজিত হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মন্ত্রী-এমপির পরিবারের বিপুলসংখ্যক সদস্য ও স্বজন। গত ১২ মে এই নির্বাচনে (তৃতীয় ধাপ) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অতিবাহিত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি দলের একাধিক নীতি-নির্ধারক খবরের কাগজকে বলেছেন, মন্ত্রী-এমপিদের এই ভূমিকার কারণে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত হোঁচট খাচ্ছে। 

টিআইবি রবিবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে লড়ছেন মন্ত্রী-এমপিদের ভাই, চাচাতো ভাই, পিতা, ভগ্নিপতি, শ্যালক, চাচাশ্বশুর ও খালু। বিভিন্ন উদ্যোগ ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির এই স্বজনদের থামাতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘যারা দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচন করছেন, সময় হলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যেকোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তাদের। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ পার পাবে না। এ বিষয়ে আগামীতে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।’ 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে দলের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি জানান, নির্দেশ অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা চলছে। প্রত্যাহার না করলে কী করবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী যাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, সে চেষ্টা করা হবে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি মন্ত্রী-এমপি এবং তাদের স্বজনদের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন- নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুনের ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহবুব, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী ও এ আসনের এমপি নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ এবং ছেলে রাকিবুজ্জামান, কুমিল্লা সদরে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও এ আসনের এমপি আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাসের ছোট ভাই গোলাম সারওয়ার, জামালপুরের বকশীগঞ্জে এমপি নূর মোহাম্মদের ভাই নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলায় রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই এহসানুল হাকিম সাধন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই বুলবুল আহমেদ টোকন, নড়াইলের লোহাগড়ায় এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার চাচাশ্বশুর ফয়জুল হক রোম, চুয়াডাঙ্গা সদরে এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দারের ভাতিজা নঈম হাসান জোয়ার্দার, শরীয়তপুর সদরে এমপি ইকবাল হোসেন অপুর চাচাতো ভাই বিল্লাল হোসেন দিপু মিয়া, বগুড়ার আদমদীঘিতে এমপি খান মুহাম্মদ সাঈফুল্লাহ আল মেহেদীর পিতা সিরাজুল ইসলাম খান, নোয়াখালীর সেনবাগে এমপি মোর্শেদ আলমের পুত্র সাইফুল ইসলাম দীপু, ভোলার বোরহানউদ্দিনে এমপি আলী আজম মুকুলের ভগ্নিপতি মো. জাফর উল্লাহ, গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলীর বড় ভাই জামিল হাসান দুর্জয়, হবিগঞ্জের বাহুবলে এমপি আবু জাহিরের শ্যালক আক্তারুজ্জামান, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এমপি মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এমপি নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ। তারা প্রত্যেকেই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ছেলে হাসনাইন রাসেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সারা দেশের চিত্র আপনারা জানেন। এর আগে আমার ছেলে দুইবার পৌর মেয়র ছিল। সে পৌরসভাকে গুছিয়ে দিয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণ জোর করে তাকে (ছেলেকে) প্রার্থী বানিয়েছে। তবে আমি বলেছি, ছেলের জন্য ভোট চাইতে পারব না। এমপি মকবুল হোসেন দাবি করেন, তার পরিবার ৮০ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ছেলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।’ 

অবশ্য এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, এমপি মকবুল হোসেন এবং তার ছেলে রাসেলের নির্দেশে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। তাই নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

এদিকে তৃতীয় ধাপে (২৯ মে) নোয়াখালী সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন লড়ছেন। এখানে ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে প্রার্থী দিয়ে মাঠে আছেন।

নরসংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম শিবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরেক এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমিনুল ইসলাম তুষার। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বড় ভাই সোহেল সরওয়ার কাজল। উখিয়া উপজেলায় মাঠে আছেন স্থানীয় এমপি শাহীন আক্তারের ভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।’

জাতীয় সংসদের হুইপ ও কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনে বড় ভাইয়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চাই না। দল ও নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে সে (সোহেল সরওয়ার কাজল) নির্বাচন করলে দল তাকে বহিষ্কার করতে পারে।’ 

নরসিংদীর শিবপুরে চেয়ারম্যান পদে স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা খবরের কাগজকে বলেন, ‍‘জনগণের আগ্রহের কারণে তার স্ত্রী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, এটা ঠিক চেয়ারম্যান প্রার্থী তার স্ত্রী, তবে জনগণ ভোট দিলে জনপ্রতিনিধি হতে তো আর বাধা নেই।’ 

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও
হাইকোর্ট

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করার জন্য ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাত বছরে মোট তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিগত ১০ বছরেও এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। মাঝেমধ্যে কিছু পুলিশি তৎপরতা দেখা গেলেও তদারকির অভাবে ক্রমান্বয়ে সড়ক-মহাসড়ক চলে গেছে তাদের দখলে। 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এ ধরনের সব রিকশা বন্ধ করতে ২০১৪ সালে প্রথমবার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালে এসব পরিবহন বন্ধে আরেক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয় হাইকোর্ট থেকে। এরপর ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইক বন্ধ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে অটোরিকশার আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়। এ আদেশের সংশোধন চেয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আপিল বিভাগে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি শেষে মহাসড়কে সব ধরনের থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। 

আদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা সর্বত্র বন্ধের আদেশ বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। আদেশের ফলে ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার গ্রামাঞ্চলের সাধারণ রাস্তায় চলাচলের সুযোগ পায়। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে সব মহাসড়কে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কয়েক দফা বিজ্ঞপ্তি জারি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। 

বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে সড়কে আজও কোনো শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে রিটের শুনানিতে অংশগ্রহণকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, বিদ্যুতের অপচয় রোধসহ বিভিন্ন কারণে ওই রিট দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শুনেছি নির্দেশনার আলোকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তদারকির প্রয়োজন, যা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।’

রিটকারীর আইনজীবী আতিক তৌহিদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনো অবস্থাতেই দেশের কোথাও চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের কোনো যানবাহন দেশের কোনো মহাসড়কে উঠতে পারবে না। কিন্তু অদ্যাবধি এ রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ রায় বাস্তবায়ন না করায় মূলত সর্বোচ্চ আদালতকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।’

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ চেয়ে ২০২১ সালে ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেডের সভাপতি কাজী জসিমুল ইসলাম। এতে শিল্পসচিব, সড়ক পরিবহনসচিব, পরিবেশসচিবসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছিল। রিটে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং এ ধরনের যানবাহনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এ জন্য বিদ্যুৎ খাত থেকে সরকার প্রয়োজনীয় রাজস্ব হারাচ্ছে। এগুলো পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। রুট পারমিট ছাড়াই রাস্তায় বেপরোয়া চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনা বেড়েছে। মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাই এ ধরনের যানবাহন বন্ধ করা জরুরি। 

রিটের শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর এক আদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। শুনানিতে রিটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আতিক তৌহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের সব মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এসব নির্দেশনার আলোকে প্রথম দিকে পুলিশি তৎপরতায় মহাসড়কে এসব যান চলাচল কমে গিয়েছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমতে থাকে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়ক আবার তিন চাকার গাড়ির দখলে চলে যায়। এর ফলে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার আবার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

>ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন গলার কাঁটা

দুবাইতে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা করেছে এনবিআর

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:১০ পিএম
দুবাইতে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা করেছে এনবিআর
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এবং হুন্ডিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক শহর দুবাই, শারজাহ এবং আজমানে অর্থ পাচার করেছেন বাংলাদেশের শতাধিক ব্যবসায়ী। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এসব ব্যবসায়ীর নামের তালিকা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) টাস্কফোর্স কমিটি। এ তালিকায় আরও আছেন শিল্পী, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাবেক ও বর্তমান সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকে। এনবিআর সূত্রে এসব জানা যায়।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আইনের আওতায় আনতে আরও বিস্তারিত তদন্তে নামছে এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষভাবে এসব এলাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল শহরে বাংলাদেশ থেকে কে বা কারা অর্থ পাচার করে অবৈধভাবে সম্পদ করেছে বা ব্যবসা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ পাচার এবং পাচারকৃত অর্থ থেকে রাজস্ব আদায়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি। এ কমিটির সুপারিশে এনবিআর থেকে এই টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে তদন্তে নেমেছে। এ কমিটিতে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ট্রান্সফার প্রাইজিং সেলের একাধিক কর্মকর্তা আছেন। তদন্তের প্রয়োজনে এনবিআরের এ কমিটির সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ওই সব শহরেও যাবেন। তদন্তের কাজে যদি প্রয়োজন হয় তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ওই দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়া হবে। ইউএইর রাজস্ব প্রশাসন এবং ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহায়তা নেওয়া হবে।

দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম, তদন্ত প্রতিবেদন ও রিপোর্ট এবং এনবিআর টাস্কফোর্সের কর্মকর্তাদের সংগৃহীত তথ্যের সমন্বয়ে এ বিষয়ে এনবিআর প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অর্থ পাচার করে বাংলাদেশিরা নিজস্ব ভিলা, ফ্ল্যাট, ছোট হোটেল, তারকা হোটেল, জমি, বাণিজ্যিক স্থাপনা, দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন। অনেকে ইউএইর কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ ‘পাম জুমেইরা’, জুমেইরা, সিলিকন ওয়েসিস, এমিরেটস হিল, দুবাই মেরিনা ও বিজনেস বের মতো অভিজাত এলাকাগুলোতেও নিজস্ব বাড়ি ও তারকা হোটেল গড়ে তুলেছেন। এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী নিজেদের আড়ালে রেখেছেন।

এনবিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যরা বছরে একাধিকবার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ বা আজমানে গিয়েছেন। অনেকে আবার অন্য দেশ হয়েও সেখানে গিয়েছেন। ওই সব শহরে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাঠিয়ে বিনিয়োগের জন্য এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে কোন পথে অর্থ পাঠিয়ে এসব করা হয়েছে, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে। এসব ব্যক্তির বেশির ভাগ বাংলাদেশের পরিবর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, আলবেনিয়া, সাইপ্রাস, মিসর, ব্রাজিল, সিয়েরা লিওনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইউএইর আবুধাবি, বাণিজ্যিক শহর দুবাই ও শারজাহতে বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি। এনবিআরের এ তালিকায় অনেক আবাসন ব্যবসায়ী আছেন। বাংলাদেশের অনেক আবাসন ব্যবসায়ী এসব শহরে আবাসন ব্যবসা করছেন। বাংলাদেশে বসেই ওই সব শহরে ফ্ল্যাট, বাড়ি বা জমি কেনা যায়। উচ্চমূল্যের এসব সম্পদ বাংলাদেশের অনেকেই কিনেছেন। এ ক্ষেত্রে ওই আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ক্রেতার সব তথ্য গোপন রেখেছে। বাংলাদেশ থেকে হন্ডিতে পাঠিয়ে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। দুবাইয়ে তিন-চার কক্ষের ফ্ল্যাট কিনতে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ লাখ দিরহাম। টাকার বিনিময় মূল্য হিসেবে ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোর চেয়ে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মূল্য কিছুটা কম হয়। চাকরির জন্য দুবাইয়ে আসা অনেক বাংলাদেশি ফ্ল্যাট কিনেছেন। অন্য দেশে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশিও দুবাইয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ ছাড়া ফ্ল্যাট কিনে কিছু লাভ রেখে আবারও বিক্রি করছেন, এমন অনেক ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তারাও আছেন। তবে নথিপত্রে তারা অন্য নাম ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ আরব আমিরাতে অবস্থান করলেও বেশির ভাগই দেশে থাকেন। তারা মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে থাকছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ব্যবসায়ী আমদানি-রপ্তানির আড়ালেও অর্থ পাচার করেছেন। অনেকে ওই সব শহরে সন্তান পড়িয়ে থাকেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন এবং খাওয়া ও থাকার খরচ প্রকৃত হিসাবের চেয়ে বেশি পাঠিয়েও অর্থ পাচার করছেন। বাংলাদেশিদের নিজেদের হোটেলগুলোতে হুন্ডিতে দেশ থেকে টাকা আনার ব্যবস্থা করা আছে। এখানে এসব বাংলাদেশির দোকান আছে। দোকান কেনার অর্থ দেশ থেকে নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ দোকানে সোনা বেচাকেনা হয়। এ ছাড়া পোশাক, প্রসাধনী, জুয়েলারি, প্রসাধনী, জুতা, স্যান্ডেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্রেরও দোকান আছে। এসব দোকানের কর্মচারীরা অধিকাংশই বাংলাদেশের। এসব কর্মচারী বাংলাদেশ থেকে দোকানের মালিকদের বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে কাজ করতে গিয়েছেন। এদের বেতনের অর্থও দেশে হুন্ডিতে পাঠানো হয়। বাংলাদেশিদের বিলাসবহুল হোটেলে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধনী ব্যক্তিরা থাকেন। এখান থেকে আয় ভালো, যা এসব শহরেই ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়েছে। 

এনবিআর থেকে টাস্কফোর্স কমিটি চূড়ান্ত তদন্তকালে এসব পাচারকারীর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত হলে তা দেশে ফেরত আনতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ থেকে হিসাব কষে রাজস্ব আদায় করা হবে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআর কঠোর থেকে তদন্ত করলে পাচারকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। পাচারকারীদের রিটার্নে বিদেশে পাঠানো অর্থের বিষয়ে কিছু জানিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা শাখারও সহায়তা নিতে হবে।’

বাংলাদেশের অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর একটি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান খবরের কাগজকে বলছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে অর্থ বেশি পাচার হয়েছে তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো আছে। এসব জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে অর্থের উৎস নিয়ে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয় না। তাই বাংলাদেশ থেকে এখানে অর্থ পাচার বাড়ছে। এদের আইনের আওতায় নিয়ে গেলে পাচার কমবে।’