সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিসিবির সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। উদ্যোগ নিলেন গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের। দায়িত্ব দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটায় বিসিবির পরিচালক হওয়া নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে। তিনি গঠনতন্ত্র কাটা-ছেঁড়া করতে গিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে হাত দিলেন। ক্লাব কোটার সংগঠকদের আধিপত্য কমাতে চান! যেখানে ১২ জন পরিচালক ছিলেন, সেখানে ৪ জন করার প্রস্তাব দেন! এতে করে ফুঁসে উঠেন ক্লাব সংগঠকরা। ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে তারা নামেন আন্দোলনে। হোটেল পূর্বাণীতে সংবাদ সম্মেলন করেন। ঘোষণা আসে প্রস্তাবিত খসড়া গঠনতন্ত্র বাতিল না করা হলে তারা ঢাকার লিগ বর্জন করবেন। এতে টনক নড়ে বিসিবির।
সভাপতি ফারুক আহমেদ প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র স্থাগিতসহ গঠনতন্ত্র কমিটিও স্থগিত করেন। এই আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন ক্লাব ক্রিকেটের অতি পরিচিত মুখ তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। ক্লাবের সংগঠকদের একত্রিত করা, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা, উপস্থাপন করা সবই তিনি করেন।
ক্লাব ক্রিকেটে যখনই কোনো দুর্যোগ আসে, সমস্যায় পড়ে, তখনই এগিয়ে আসেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিসিবির নির্বাচনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপের কারণে বিএনপির ঘরনার ক্রীড়া সংগঠকরা নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে মেনে নিতে পারেননি নির্বাচন বর্জনকারী সংগঠকরা। নামেন আন্দোলনে। এখানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। এবার ঘোষণা আসে বুলবুলের নেতৃত্বে তারা সিসিডিএমের কোনো লিগে অংশগ্রহণ করবেন না। ৭৬টি ক্লাবের মাঝে ৪৪টি ক্লাবই এক ছাতার নিচে দাঁড়ায়। যথারীতি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা, সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা, এসব কাজে তিনিই ভূমিকা রাখেন। বুলবুলের কমিটির বিরুদ্ধে তারা বেশ কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সব সংবাদ সম্মেলনে বুলবুলের কমিটির বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতি তুলে ধরা হয়। যা বেকায়দায় ফেলে বুলবুলের কমিটিকে। বিএনপি সরকার গঠনের পর বুলবুলের কমিটি ভেঙে দিয়ে সরকার বিসিবিতে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। ৩ মাস মেয়াদের অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন দিয়েছে ৭ জুন। সেই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পরিচালক পদে লড়াই করছেন পোড় খাওয়া ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু।
বিসিবিতে সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু প্রথমবার নির্বাচন করাটা অনেকের কাছে অবাক করার মতোই! কারণ তিনি ক্রিকেট পাড়ায় অতি পরিচিত মুখ। অনেকে যেখানে ক্রিকেটের সঙ্গে কোনো রকম পূর্ব সম্পৃক্ততা ছাড়াই সরাসরি বিসিবির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, সেখানে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার পর নির্বাচন করছেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। এখানেই ব্যতিক্রম তিনি। অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে তবেই লড়ছেন বিসিবির নির্বাচনে। বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই তিনি দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়ে ৬ বছর পর তিনি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বড় পদ পাওয়ার পর তার দায়িত্বও বেড়ে যায়। ক্লাবটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্রত হন। সেখানে সফলও হন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেয়। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ক্লাবেরই কাউন্সিলর হয়ে বিসিবিতে পরিচালক পদে নির্বাচন করছেন।
সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু ১৯৯২ সালে ক্লাব সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ১৯৯৬ সালে বিসিবির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে দায়িত্ব পালন করেন সিকিউরিটি কমিটির সদস্য হিসেবে। এরপর দায়িত্ব পালন করেন গ্রাউন্ডস কমিটিতে। তার সাংগঠনিক বিচক্ষণতার কারণে ২০০২-০৩ সালে তাকে লজিস্টিক অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির প্রথমে সদস্যসচিব, পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্লাব সংগঠক হিসেবে তিনি ২০০৫ সালে প্রথম বিসিবির কাউন্সিলর হন।
পর্যায়ক্রমে ২০০৮, ২০১৩, ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও কাউন্সিলর মনোনীত হন। দীর্ঘ পথ যাত্রায় নিজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে আরও ব্যাপকভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য নির্বাচন করছেন পরিচালক পদে। নির্বাচিত হলে তিনি সার্বিকভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান।
তিনি বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় থেকে আমি ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত। নিজের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার আমি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই। সার্বিকভাবে দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে চাই। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে জেলা পর্যায়ে লিগ নিয়মিত আয়োজনের বিকল্প নেই। এই লিগ যাতে নিয়মিত হয়, এ নিয়ে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেব। দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তৃণমূলের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতেই হবে।’
সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু কাউন্সিলরদেরও যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে চান। তিনি বলেন, ‘বিসিবির কাউন্সিলর হওয়া খুবই গর্বের বিষয়। এই কাউন্সিলররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রিকেটের জন্য কাজ করে যান। আমি তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের জন্যও কাজ করে যাব।