ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন সোনারগাঁয় মেঘনা টোলপ্লাজায় লরির ধাক্কায় আহত ৬ খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় ফরিদপুরে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ
Nagad desktop

হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারির অভিযোগে এক স্পাইওয়্যার নির্মাতাকে বড় অঙ্কের জরিমানা

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৫, ১২:১২ পিএম
হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারির অভিযোগে এক স্পাইওয়্যার নির্মাতাকে বড় অঙ্কের জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। এর ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলায় বড় জয় পেয়েছে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়্যারের নির্মাতা এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর জন্য ১৬ দশমিক ৭ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক জুরি আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মেটা এই জয় পেয়েছে।

২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে মেটা। অভিযোগে বলা হয়, এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে অন্তত ২০টি দেশের ১ হাজার ৪০০ জন সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

মেটা আরও জানিয়েছে, ‘অত্যন্ত অত্যাধুনিক সাইবার হামলার মাধ্যমে ভিডিও কলের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানো হয়েছে। এমনকি কল রিসিভ না করলেও ডিভাইস সংক্রমিত হয়েছিল।’

মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছর বিচারক রায় দেন, এনএসও গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। গত মঙ্গলবার এনএসও গ্রুপ মেটাকে ঠিক কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে, তা নির্ধারণের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী জুরি বিচারের পর এই রায় ঘোষণা হয়। জুরি বোর্ড মেটাকে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৯ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপের গ্লোবাল কমিউনিকেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্ল উগ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই রায় সাইবার হামলায় জড়িত অবৈধ শিল্পের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এটি আমাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’

‘সাইবার ইন্টেলিজেন্স’ ফার্ম হিসেবে দাবি করা এনএসও গ্রুপ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফোন নম্বরে পেগাসাস ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, পেগাসাসের কারণে হোয়াটসঅ্যাপের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এনএসও গ্রুপের মুখপাত্র গিল লেইনার বলেন, ‘এই রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ মাত্র। আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিল করব।’ তিনি আরও দাবি করেন, এনএসও গ্রুপের প্রযুক্তি অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অনুমোদিত সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।

কার্ল উগ বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে এখনো অনেক পথ বাকি রয়েছে। আমরা এই অর্থ ডিজিটাল অধিকারে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে অনুদান হিসেবে দিতে চাই। পাশাপাশি এনএসও গ্রুপ যাতে ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি থেকে বিরত থাকে, সে জন্য একটি কোর্ট অর্ডার পাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’

/আবরার জাহিন

আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রযুক্তি মেলায় বেশ কয়েকটি নতুন উইন্ডোজ ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে আসুস। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন একটি কনভার্টিবল মডেল, বিজনেস ল্যাপটপ এবং তিনটি ভিন্ন প্রসেসরের জেনবুক ১৪ মডেল। নতুন এই কম্পিউটারগুলো পেশাদার কাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে গ্রাহকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আসুস এক্সপার্টবুক বি৫ ফ্লিপ জি২’। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন এই ল্যাপটপটি ট্যাবলেট, টেন্ট এবং ডিসপ্লে মোডে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ওজন ২.৯ পাউন্ড। এতে দুটি ক্যামেরা এবং একটি এমপিপি ২.০ স্টাইলাস পেন রয়েছে, যা ল্যাপটপের ভেতরেই চার্জ করা যায়। মাত্র ১৫ সেকেন্ড চার্জে পেনটি ৬০ মিনিট ব্যবহার করা সম্ভব। এটি ইন্টেল কোর ৭ প্রসেসর, ১৮ টপস এনপিইউ, ৩২ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজসমৃদ্ধ। ল্যাপটপটিতে দ্রুত চার্জিং সুবিধাসহ সারা দিন চলার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ রয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এটি বাজারে আসবে।

এ ছাড়া আসুস মিলিটারি-গ্রেড সুরক্ষাসম্পন্ন ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি সাইজের ‘এক্সপার্টবুক পি৫’ এবং ‘পিএম৫’ মডেলের ল্যাপটপ এনেছে। এগুলো ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ এবং এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। মেলায় স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ও ২০ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপসমৃদ্ধ ‘ভিভোবুক এস১৪ ফ্লিপ’ এবং ‘এস১৬ ফ্লিপ’ মডেলের ল্যাপটপও প্রদর্শন করা হয়।

আসুস জেনবুক ১৪ মডেলটি তিনটি ভিন্ন প্রসেসর ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরযুক্ত মডেলটি সবচেয়ে হালকা, যার ওজন মাত্র ২.৪৩ পাউন্ড। 

এতে রয়েছে ৮ কোরের প্রসেসর এবং ৪৫ টপস ক্ষমতাসম্পন্ন এনপিইউ। অন্য দুটি মডেল ইন্টেল ও এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। এএমডি মডেলটিতে ২৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ওএলইডি ডিসপ্লে রয়েছে। অন্যদিকে ইন্টেল মডেলটিতে সর্বোচ্চ ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ওএলইডি ডিসপ্লে এবং থান্ডারবোল্ট ৪ পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এই জেনবুক মডেলগুলোর দাম ও বাজারে কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ
ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নতুন একটি চিপ উন্মোচন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ নামের এই পিসি চিপটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্ভাবন এআই ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াকে বদলে দেবে।

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং এই চিপের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে তিন বছরের যৌথ প্রচেষ্টায় এআই যুগের উপযোগী কম্পিউটার তৈরি করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিপটি তাইওয়ানের আরেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মিডিয়াটেকের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের নিজস্ব মেমোরি ব্যবহার করে এআই এজেন্ট চালাতে পারবে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিল শাহ বলেন, এই চিপ প্রচলিত কম্পিউটারকে একটি সত্যিকারের কাজের এআই কম্পিউটারে রূপান্তর করবে।

পিসি চিপের পাশাপাশি এনভিডিয়া তাদের নতুন ‘ভেরা’ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়া প্রধান জানান, ভেরা সিপিইউ মূলত এআই এজেন্টের কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার শুরু করেছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয়সংক্রান্ত এক সভায় হুয়াং বলেন, নতুন ভেরা প্রসেসরের মাধ্যমে এনভিডিয়া নতুন করে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে। এটি তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হবে।

এআই প্রযুক্তির কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কাকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেনসেন হুয়াং। তিনি যুক্তি দেন যে, এই প্রযুক্তি কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া হুয়াং দেশটিকে এআই বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে প্রতিবছর ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের দুই সপ্তাহ পর তাইপেইতে তিনি এই বক্তব্য দেন।

র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোয়ে মানুষের পাশাপাশি র‌্যাম্পে হেঁটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির এমন এক ভবিষ্যতের আভাস পাওয়া গেল, যেখানে রোবট শুধু কাজের সরঞ্জাম নয়, বরং সংস্কৃতিরও অংশ হবে।

‘ম্যাক৩৩: ফিজিক্যাল এআই ফ্যাশন শো’ নামের এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন। সিউলের নবনির্মিত ‘গ্যালাক্সি রোবট পার্ক’-এ এই জমকালো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ও রোবটের একসঙ্গে বসবাসের ধারণা থেকে এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়।

ফ্যাশন শোতে মানুষের মতো দেখতে রোবটগুলো ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক পরে মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাটওয়াক করে। শুধু তা-ই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা নিখুঁতভাবে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবিও তুলেছে। সাধারণত রোবটকে বিভিন্ন কারখানা, গবেষণাগার বা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখা যায়। তবে এই প্রথমবারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনোদনের মাধ্যমে রোবটকে একদম ভিন্নরূপে উপস্থাপন করা হলো।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন মূলত উন্নত প্রযুক্তি ও বিনোদনকে একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে। কোরিয়ান পপ তারকা জি-ড্রাগনের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যবস্থাপনাও করে এই প্রতিষ্ঠানটি। আগামী দিনে রোবট কনসার্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহার করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া তার মধ্যে অন্যতম। দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে ১ হাজারেরও বেশি শিল্প-রোবট রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা রোবটকে শুধু কলকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। যদিও রোবটের ভারসাম্য ও মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সিউলের এই ফ্যাশন শো প্রমাণ করে যে মানুষের একচেটিয়া জায়গাগুলোতেও এখন রোবট নিজের স্থান করে নিচ্ছে।

/আবরার জাহিন

এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ
ছবি: সিএনএন থেকে

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন গুগল তাদের দীর্ঘদিনের আইকনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার করছে। এর প্রধান কারণ হলো, ব্যবহারকারীদের দিন দিন বাড়তে থাকা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ অনুরোধ। 

গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মানুষ এখন এমন সব কঠিন প্রশ্ন করছে যার কোনো নির্দিষ্ট বা সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটের কোথাও এককভাবে নেই। এই নতুন চাহিদা মেটাতে গুগল এখন কাস্টম ভিজ্যুয়াল, ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্রাফিক্স ও সরাসরি সার্চ পেজের মধ্যেই মিনি-অ্যাপ চালানোর মতো ফিচার নিয়ে কাজ করছে। এটি গুগলের গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সার্চ ইঞ্জিনের সবচেয়ে বড় আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন আর আগের মতো সংক্ষিপ্ত বা সাধারণ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে কিছু খুঁজছে না। তারা এখন চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপগুলোর আদলে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সার্চ করতে শুরু করেছে। আগে মানুষ দুই থেকে তিনটি শব্দের মাধ্যমে কোনো কিছু খুঁজত। এখন ৫ থেকে ১০, এমনকি ১১ শব্দের দীর্ঘ বাক্যে পরিণত হয়েছে অনুরোধ।

এসইও ও মার্কেটিং-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেমরাস তাদের বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইন্টারনেটে কথোপকথনের ভঙ্গিতে খোঁজার হার ৫ শতাংশ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এখনো অনেকে তিন শব্দের প্রথাগত পদ্ধতিতে সার্চ করছেন। অবশ্য দীর্ঘ বাক্যের সার্চের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

গুগল ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সেমরাস প্রায় এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। 

সেখানে দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটির রেফারেল ট্রাফিকের ২০ শতাংশ সরাসরি গুগলে যায়। মানুষ সাধারণত সরাসরি কোনো তথ্য জানতে বা লেনদেনের প্রয়োজনে এখনো গুগল ব্যবহার করে। 

অন্যদিকে দীর্ঘ কোনো তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরি করা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে জটিল তুলনা করা অথবা কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরির জন্য মানুষ চ্যাটজিপিটির মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। গুগল তাদের সার্চ বক্স বড় করছে, যেন ব্যবহারকারীরা আরও বেশি টেক্সট লিখতে পারেন। 

এর পাশাপাশি ছবি, ফাইল বা ব্রাউজার ট্যাব যুক্ত করে খোঁজার কাজকে আরও সহজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছবি তুলে বা ফোনের স্ক্রিনে কোনো কিছু বৃত্ত দিয়ে মার্ক করে খোঁজার প্রবণতা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এআই মোডে বা কথোপকথনমূলক সার্চের হার প্রতি প্রান্তিকে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

এআইয়ের প্রভাব কেবল সার্চ ইঞ্জিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই। এটি সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আইতানা লোপেজের মতো এআই তৈরি ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রভাবশালী চরিত্ররা এখন বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। 

লোপেজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি গ্ল্যামারাস ইভেন্টে যাচ্ছেন, জিমে শরীরচর্চা করছেন বা বিউটি টিপস দিচ্ছেন। তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ ছুঁইছুঁই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, লোপেজ কোনো বাস্তব মানুষ নন। তিনি পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। 

বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে এই এআই চরিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। কারণ এই ডিজিটাল চরিত্রগুলো মানুষের চেয়ে অনেক সস্তা। যেকোনো নির্দিষ্ট প্রচারের জন্য এদের সহজেই প্রয়োজনমতো রূপান্তর করা যায়। 

বিলিয়ন ডলার বয় নামের একটি সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ৮০ শতাংশ বিপণনকারী এখন এআই-তৈরি কন্টেন্টের পেছনে তাদের বাজেট বাড়িয়েছেন।

অনলাইন কেনাকাটার জগতেও এআই এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল বা খুচরা কেনাকাটার সাইটগুলোতে এআই পরিষেবার মাধ্যমে আসা ট্রাফিক প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বেড়েছে। গুগল এই সপ্তাহে একটি বিশেষ ‘ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন আলাদা দোকানের পণ্য একটিমাত্র কার্টে যুক্ত করতে পারবেন। 

অন্যদিকে অ্যামাজন তাদের ‘রুফাস’ নামক শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টকে ‘অ্যালেক্সা ফর শপিং’ টুলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে ক্রেতারা সার্চ বারেই এআইকে পণ্যের গুণমান যাচাই বা দামের ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারছেন। মেটা এবং ওপেনএআইও পিছিয়ে নেই, তারাও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শপিং টুল যুক্ত করছে।

এআইয়ের এই দ্রুত বিস্তার মানুষের মনে একধরনের উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মানুষের চাকরি কমে যাওয়া, তথ্যের নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। তবে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অধ্যাপক জোসেফ টুরো মনে করেন, এআই এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দেওয়া সরাসরি উত্তরের কারণে অনেক সময় মানুষ মূল ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করছে না। এতে ওয়েবসাইটে সরাসরি ট্রাফিক কমলেও এসইও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, ট্রাফিক কমলেও যারা ওয়েবসাইটে আসছেন, তারা অনেক বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আসছেন। ফলে কেনাকাটা সম্পন্ন করা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার হার আগের চেয়ে বেড়েছে। 

এআই বর্তমান ইন্টারনেটের রূপরেখাকে এমনভাবে পরিবর্তন করছে যে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ডিজিটাল পৃথিবীতে রূপ নিতে পারে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সূত্র: সিএনএন

পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্ক কি পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনীতির স্বপ্ন থেকে সরে আসছেন? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া স্পেসএক্সের একটি নথি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এমনটাই ধারণা করছেন।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক অতীতে তার ‘মাস্টার প্ল্যান’-এ জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন। সেখানে খনিজ জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র এখন ভিন্ন। মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য এখন দেদারসে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করছে। এমনকি আরও ২৮০ কোটি ডলারের গ্যাস টারবাইন কেনার পরিকল্পনা করছে তারা। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিয়ে সাম্রাজ্য গড়া একজন উদ্যোক্তার জন্য এটি একটি বড় নীতিবদল।

অবশ্য মাস্ক তার এক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারে বেশ পটু। স্পেসএক্স টেসলা থেকে সাইবারট্রাক কিনেছে এবং এক্সএআই কিনেছে গ্রিড-সংলগ্ন ব্যাটারি ব্যবস্থা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, এক্সএআই টেসলা থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সৌর প্যানেল কেনেনি।

স্পেসএক্সের নথিতে সৌরবিদ্যুতের উল্লেখ থাকলেও তা মূলত মহাকাশকেন্দ্রিক। মাস্ক এবং সিলিকন ভ্যালির অন্য শীর্ষ কর্তারা এখন মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী। সেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ার কারণে পৃথিবীর চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে মাস্ক এখন মহাকাশে বড় সার্ভার স্টেশন বসানোর কথা ভাবছেন।

তবে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। মহাকাশে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ হবে অনেক বেশি। তা ছাড়া মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে চিপ সুরক্ষা নিশ্চিত করাও বেশ ব্যয়বহুল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো মাত্র ৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অথচ মাস্কের ধারণা, ভবিষ্যতে এআইয়ের জন্য প্রতিবছর টেরাওয়াট-স্কেলের বিদ্যুৎ লাগবে, যা পৃথিবীতে জোগানো অসম্ভব।

অনেকের মতে, মহাকাশে যাওয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন পৃথিবীর সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনাকে আড়াল করছে। নক্ষত্র ছোঁয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি পৃথিবীতে জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন করার যে প্রতিশ্রুতি মাস্ক তিন বছর আগে দিয়েছিলেন, তা এক্সএআইয়ের ডেটা সেন্টার থেকে শুরু হতে পারত। সূত্র: টেকক্রাঞ্চ