কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। তবে তাদের বিরুদ্ধে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীদের করা মন্তব্য সম্প্রতি অনলাইন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউসের এআই ও ক্রিপ্টোবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জেসন কোওন-এর মতো ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, এআই নিরাপত্তার প্রবক্তারা নিজেদের স্বার্থে বা নেপথ্যে থাকা বিলিয়নিয়ারদের প্রভাবে কাজ করছেন।
এআই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, এটি সিলিকন ভ্যালির সমালোচকদের ভয় দেখানোর সর্বশেষ প্রচেষ্টা। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি এআই নিরাপত্তা বিল নিয়ে কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম গুজব ছড়িয়েছিল। যেখানে বলা হয়, এই আইন পাস হলে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের জেলে যেতে হতে পারে। যদিও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন সেই গুজবকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেয়। শেষ পর্যন্ত গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বিলটিতে ভেটো দেন।
টেকক্রাঞ্চের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি অলাভজনক সংস্থার প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। কারণ, তারা প্রতিশোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এই বিতর্ক সিলিকন ভ্যালির দুটি পরস্পরবিরোধী লক্ষ্যকে সামনে এনেছে। একদিকে দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি করা, অন্যদিকে এটিকে বিশাল বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পর ডেভিড স্যাকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, অ্যানথ্রপিক মূলত নিজেদের স্বার্থে আইন পাস করাতে এবং ছোট স্টার্টআপগুলোকে চাপে ফেলতে ভয় ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, ওপেনএআই তাদের সমালোচনাকারী এআই নিরাপত্তাবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ‘এনকোড’-এর মতো প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। ওপেনএআইয়ের পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে যখন ইলন মাস্ক মামলা করেন, তখন বেশকিছু সংস্থা মাস্কের পক্ষে অবস্থান নেয়। জেসন কোওনের মতে, এই সংস্থাগুলোর পেছনে কারা অর্থায়ন করছে এবং তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ওপেনএআইয়ের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন তাদের এক কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির মিশন অ্যালাইনমেন্ট প্রধান জোশুয়া আকিয়াম এক্সে লিখেছেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বলছি, এটি ঠিক হচ্ছে না।’
এআই নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যালায়েন্স ফর সিকিউর এআই’-এর সিইও ব্রেন্ডন স্টেইনহাউসার বলেন, ‘ওপেনএআই সমালোচকদের চুপ করাতে ও ভয় দেখাতে চাইছে।’ বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে এআই শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে এর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান এআই নিয়ে উৎসাহিত হওয়ার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। প্রযুক্তিশিল্পের দ্রুত অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।