বাস্তবে তেমন আলোচনা না থাকলেও টাইম ট্র্যাভেল মেশিন নিয়ে হলিউড এবং বলিউডে অনেক সিনেমা তৈরি হয়েছে। এই টাইম ট্র্যাভেল মেশিনে চড়ে কখনো সময়ের পেছনে যাওয়া যায় আবার কখনো ভবিষ্যতে সফর করা যায়। কিন্তু বাস্তবেও রয়েছে এমন একটি টাইম ট্র্যাভেল মেশিন।
শুনতে অবাস্তব মনে হলেও এটা চরম বাস্তব। এই দেশটিতে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া স্থানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের গভীরতম এবং দীর্ঘতম গুহার অবস্থান এখানেই। আবার বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থানও এই অঞ্চলেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ এই দেশ। দেশটির নাম ইথিওপিয়া।
দেশটিতে এখন ক্যালেন্ডারের পাতা ২০১৮ সালেই চলছে। অথচ বিশ্ববাসী ২০২৪ সালকে বিদায় জানিয়ে ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণভাবে ২০২৫ সালকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে চললেও দেশটি চলছে তার আপন গতিতে। অন্যান্য দেশের তুলনায় ৭ বছর পিছিয়ে আছে ইথিওপিয়া। দেশটির ক্যালেন্ডারে ১২ নয়, ১৩ মাস রয়েছে। সেখানকার ক্যালেন্ডার বাকি বিশ্বের থেকে সাত বছর তিন মাস পিছিয়ে।
এখানে শেষ মাসকে বলা হয় পাইগুম, যা মাত্র পাঁচ বা ছয় দিনের। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শেষ মাসটিতে কয়েকটি দিন জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যে দিনগুলো কোনো কারণে বছরের গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
ইথিওপিয়া এখনো তার প্রাচীন ক্যালেন্ডার ব্যবহার করছে। বলা হয়, এই ক্যালেন্ডার ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দে রোমান চার্চ দ্বারা সংশোধন করা হয়েছিল।
এখানে বছর শুরু হয় ১১ সেপ্টেম্বর বা ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেগরিয়ান লিপ ইয়ারে। যিশুর জন্মের ঘোষণার তারিখ নির্ধারণে বিকল্প গণনার কারণে গ্রেগরিয়ান বছরের থেকে এটি সাত থেকে আট বছর পিছিয়ে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে। ইথিওপিয়া তার নিজস্ব ক্যালেন্ডার সিস্টেম অনুসরণ করে। ইথিওপিয়া ক্যালেন্ডারটি কপ্টিক মিসরীয় ক্যালেন্ডারের অনুরূপ, কারণ উভয়েরই ১৩ মাস রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি ৩০ তারিখ এবং বছরের শেষে একটি আন্তকালীন মাস যা গ্রিক ভাষায় ‘ভুলে যাওয়া দিন’ বলে। এই শেষ মাসে একটি অধিবর্ষে পাঁচ দিন বা ছয় দিন থাকে। ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডারটিও মিসরীয় কপ্টিক ক্যালেন্ডারের অনুরূপ। কারণ উভয়েরই একটি বছর রয়েছে ৩৬৫ দিন এবং একটি অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন, যা প্রতি চতুর্থ বছরে হয়। এখানকার অর্থোডক্স তেওয়াহেডো চার্চে ইথিওপিয়া ক্যালেন্ডার প্রথম তার শিকড় খুঁজে পেয়েছিল।
যদিও ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার কপটিক এবং জুলিয়ান উভয় ক্যালেন্ডার থেকে আলাদা; কপটিক এবং ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে পার্থক্য ২৭৬ বছর। ইথিওপিয়া একমাত্র আফ্রিকান জাতি যারা তার নিজস্ব ক্যালেন্ডার সিস্টেম ব্যবহার করে।
ক্যালেন্ডারের পিছিয়ে পড়ার কারণে এই দেশে আসা পর্যটকদের কোনো অসুবিধা হয় না। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এখানকার আফার অঞ্চলকে সবচেয়ে প্রাচীন বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, মানুষ এখানে প্রথম বসবাস শুরু করেছিল। এখানে খননকালে ৩.২ মিলিয়ন বছরের পুরনো একটি হোমিনিড কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল।
তারেক
.jpg)