আমরা প্রায়ই মধ্যযুগের বিভিন্ন নির্মম শাস্তির কথা শুনে থাকি। বিভিন্ন দেশের ইতিহাসের নির্মম শাস্তির ঘটনা এখন ইতিহাস হলেও এর নির্মমতার নিদর্শন রয়ে গেছে এখনো। তেমনি এক নিদর্শন স্কোল্ডস ব্রিডল। মধ্যযুগে ইউরোপে ‘অতিরিক্ত’ কথা বলা নারীদের জন্য এ শাস্তি ছিল।
তাছাড়া পুরুষদেরও এ শাস্তি দেওয়া হতো। স্কোল্ডস ব্রিডল মূলত এক ধরনের লোহার মুখোশ। যা মাথার চারপাশে আটকানো থাকত। গলায় এবং মাথায় ঝুলন্ত ঘণ্টা থাকত এবং ধারালো লোহার দাঁতের মতো অংশ মুখের সামনে থাকত। যাতে শাস্তিভোগকারী ব্যক্তি কথা বলতে না পারে। এই অংশটি জিহ্বার সঙ্গে আটকানো থাকত।
মধ্যযুগে পঞ্চদশ শতকের দিকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্কোল্ডস ব্রিডল ব্যবহারের প্রথা চালু হয়। এ ধরনের যন্ত্রগুলো ইতিহাসে ‘গসিপ’ বা ‘কটূক্তি’ করার জন্য শাস্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ মুখোশকে তিরস্কারের লাগাম, কখনো কখনো ডাইনির লাগাম, পরচর্চার লাগাম হিসেবেও ডাকা হতো। এ মুখোশ পরিধানকারীর জন্য অনেক অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত লালা এবং মুখে ক্লান্তি। তাছাড়া অতিরিক্ত অপমানের জন্য, শাস্তিভোগকারী ব্যক্তিকে রাস্তায় ঘোরাতে এর সঙ্গে ঘণ্টাও ঝোলানো হতো। এরপর পরিধানকারীকে একটি রশি দিয়ে বেঁধে শহর ঘুরে দেখানো হতো। লিঙ্গ অনুসারে এ শাস্তির পার্থক্য ছিল, পুরুষদের সাধারণত কারাগারে পাঠানো হতো, অন্যদিকে নারীদের প্রকাশ্যে মুখোশ পরিয়ে প্যারেড করানো হতো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুখোশ স্পাইকসহ পরানো হতো, যা জিহ্বাকে আটকিয়ে রাখত।
.jpg)
স্কোল্ডস ব্রিডল শাস্তি দেওয়া হতো তিরস্কারকারী পরচর্চাকারী, অভদ্র, বিরক্তিকর বা মাতাল বলে বিবেচিত নারীদের ওপর এ যন্ত্রণা চাপিয়ে দিত। এছাড়া দাঙ্গাবাজ বা ঝামেলাপূর্ণ বলে মনে করা নারীদের মুখে এ মুখোশ পরানো হতো। তাই একে তিরস্কারের লাগামও বলা হতো। পুরুষদের ক্ষেত্রেও নিন্দা করা. গির্জার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে এ শাস্তি দেওয়া হতো। তাছাড়া বন্দিদের ক্ষেত্রেও এ শাস্তি ব্যবহার করা হতো। শাস্তিভোগকারী ব্যক্তিকে জনসাধারণের সামনে অপমান করা হতো এবং রাস্তায় ঘোরানো হতো। তাকে তিরস্কার করা হতো। কখনো কখনো রাস্তায় ঘোরানোর পর ব্যক্তিকে ক্রুশে ঝুলিয়ে রাখা হতো। শাস্তিভোগকারী ব্যক্তির পক্ষে কথা বলা, জিহ্বা নাড়ানো বা খাওয়া অসম্ভব ছিল। যখন সে জিহ্বা নাড়ানোর চেষ্টা করত তখন মুখোশের স্পাইকের আঘাত লাগত। ফলে জিহ্বায় ক্ষত বা ছিদ্র তৈরি হতো। পঞ্চদশ শতকের দিকে শুরু হওয়া এ লোহার মুখোশের শাস্তি প্রায় অষ্টদশ শতক পর্যন্ত চালু ছিল ইউরোপে।
মধ্যযুগীয় এ নির্মম শাস্তির ইতিহাস যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডেই বেশি পাওয়া যায়। বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনায় এ শাস্তির কথা উল্লেখ হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জাদুঘরে স্কোল্ডস ব্রিডল বা লোহার মুখোশ সংরক্ষিত আছে। লন্ডনের জাদুঘর, স্কটল্যান্ডের জাদুঘরে এ মুখোশ সংরক্ষিত আছে। একে নিপীড়ন ও অবিচারের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
তারেক/
.jpg)