ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দামের সঙ্গে কমেছে খাবারের মান

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
দামের সঙ্গে কমেছে খাবারের মান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। খবরের কাগজ

ক্যাম্পাসের খাবারের মান ও দাম নিয়ে দীর্ঘ দিনের অসন্তোষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের। এরপর ক্যাম্পাসে খাবারের মান বৃদ্ধি ও দাম কমানোর লক্ষ্যে গত ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং দোকান মালিক সমিতির নেতারা। পরের দিন ২২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের প্রধান শামীম হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে খাবারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাম কম রাখলেও পরিমাণ ও মান কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকানিদের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ আবার একই খাবার বিক্রি করছেন ভিন্ন দামে। এ ছাড়া দোকানভেদে আলাদা মূল্য তালিকা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসের সকল দোকানে একই মূল্যে খাবার বিক্রি হবে। সে অনুযায়ী নতুন মূল্য তালিকা হিসাবে ভাত ১২ টাকা (প্রতি প্লেট), খিচুড়ি ২০ টাকা, ডিম (ভাজি ও রান্না) ১৫ টাকা, মুরগি বয়লার (২ পিস) ৩০ টাকা, মুরগি সোনালি ৭০ টাকা, রুই-কাতল মাছ (প্রতি পিস) ৩০ টাকা, গরুর মাংস ১০০ টাকা। এ ছাড়া সিঙাড়া, পুড়ি, পিঁয়াজু, চপ ও পরোটা ৬ টাকা এবং দুধ চা ১০ টাকা, লাল চা ৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে খাবারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গেই খাবারের মান ও পরিমাণও কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকানিদের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, খাবারের দাম কমানোর সঙ্গে গুণগতমান ও পরিমাণ দুটোই কমিয়েছেন দোকানিরা। অন্যদিকে দোকানিরা বলছেন, নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে তারা লোকসানের সম্মুখীন হন। তাই বাধ্য হয়েই খাবারের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে খাবারের মান এবং মূল্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা দেখে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন মানসম্মত খাবার খেতে পারব, পাশাপাশি মূল্য হ্রাস করায় আমাদের অর্থ সাশ্রয়ও হবে। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো কমে গেছে খাবারের মান। আগের তুলনায় পরিমাণও কমে গেছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

খাবারের মান ও পরিমাণ কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানি সুরুজ মিয়া বলেন, ‘জিনিসপত্রের অনেক দাম। তাই প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হলে পরিমাণ একটু কমাতেই হয়। তবে আমরা খাবারের মান কমাইনি।’ 

এক ক্যাম্পাসে দুই ধরনের দাম নির্ধারণ  
গত ২২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের প্রধান মো. শামীম হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের দোকানগুলোর জন্য নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এ মূল্য তালিকা মেনে নেয়নি সিলসিলা রেস্তোরাঁ। তারা আগের মূল্যেই বিক্রি করে তাদের খাবার। পরে একই মাসের ২৫ তারিখে সিলসিলার জন্য আলাদা বর্ধিত দাম নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আলাদা দাম নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের প্রধান মো. শামীম হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর জন্য ও স্থায়ী দোকানগুলোর জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করেছি। তাই এ রকম হয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাবারের নিম্নমানের কথা আমরা প্রায়ই শুনতে পাই। এজন্য আমরা প্রশাসন থেকেও তদারকি করি। ১ কেজি চালে ১০ প্লেট ভাত বিক্রির নিয়ম করে দিয়েছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভাত কম দেওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাই কিছু দিনের মধ্যে ভাত পরিমাপক পাত্র প্রত্যেক দোকানে সরবারাহ করব আমরা। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০৫ এএম
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন। এ সমাবর্তনে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামের ২৮৬১ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া অনন্য মেধাবী চারজন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় স্বর্ণ পদক।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে এমফিল এবং পিএইচডি গবেষণার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, সরকার পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মতো দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন এমন মানে উত্তীর্ণ হয়েছে যে তাদের আরও উচ্চতর গবেষণা অর্থাৎ এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রির অনুমতি দেওয়ার সময় এসেছে। একইসাথে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধ, দক্ষতা এবং জ্ঞানের সমন্বয়ে এমন গ্রাজুয়েট তৈরি করতে হবে যেন তারা সারা পৃথিবীর যে কোন জায়গায় কাজ করার সামর্থ্য রাখে। পাশাপাশি সরকার আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানান শিক্ষামন্ত্রী।  

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা জার্মানির কুহনে লজিস্টিকস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাককিনন বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা না থাকলেও অনেক বেশি ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে বাংলাদেশ। তাই সমস্যা ও সংকট মোকাবেলার জন্যই সাপ্লাই চেইন বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা রাখে এমন যোগ্য গ্র‍্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবন ও প্রয়োগ, রোবোটিক্সের ব্যবহার, ব্লক চেইন, মেশিন লার্নিং পৃথিবীকে নিয়ে যাচ্ছে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে। অচিরেই আমরা এসব বিষয়ে পাঠ্যক্রম চালু করবো। আর এভাবেই ২০৩০ সালের মধ্যে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিকে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, আজকের বিশ্বে কাজ করতে সমস্যা সমাধান, সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবনী ক্ষমতার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাই পরিবর্তিত প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে চলতে নিজেকে আপডেট রাখা, পাশাপাশি দেশ ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের দিকেও নজর দিতে গ্রাজুয়েটদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান বলেন, আমরা শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যে ভারসম্য আনার চেস্টা করছি। আমরা ইন্ড্রাস্টি যে ধরনের গ্রাজুয়েট চায় সে ধরনের শিক্ষাক্রম চালু করেছি। পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া নতুন জ্ঞানও শিক্ষাক্রমে যুক্ত করছি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপার্সন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্রাজুয়েট ও তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। শিক্ষাজীবন শেষে যথাসময়ে সনদ হাতে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি    

ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফের যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৮ পিএম
ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফের যৌন হয়রানির অভিযোগ
ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদ। ছবি : সংগৃহীত

নিজ বিভাগের পর এবার রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় বুধবার ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দেন ওই নারী। যার একটি কপি খবরের কাগজের হাতেও এসেছে।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক নাদির জুনাইদ ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে পাঠদান করাতেন। ভুক্তভোগী শ্রেণিপ্রতিনিধি (সিআর) হওয়াতে তারা মেসেঞ্জারে/হোয়াটস অ্যাপে নানা ধরনের কথোপকথন করতেন। একপর্যায়ে অধ্যাপক নাদির জুনাইদ অশ্লীল কথোপকথন, পোশাক পরিচ্ছদ, বিয়ের প্রলোভনে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই নারী। এ ছাড়া ক্লাসের অন্য মেয়েদেরও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজনের কাছ থেকে অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছে। এই সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মূলত উপাচার্য বরাবর দেওয়া হয় এবং প্রক্টরের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়। আমি সেই অনুলিপিটা পেয়েছি।’ 

এর আগে, গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) ১২তম ব্যাচের স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষার সমন্বিত কোর্সে (লিখিত ও মৌখিক) কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তুলে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে ২৮ জন শিক্ষার্থী উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের নম্বর কম দিয়েছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাদির জুনাইদ।

এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। যদিও অধ্যাপক নাদির জুনাইদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। বিভাগের পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং ১১ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় ডেপুটি রেজিস্টার (প্রশাসন-১) জিএম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত পাঠানো এক চিঠিতে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে। এরপর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশ দেওয়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাসে ফেরেন শিক্ষার্থীরা।

সিকৃবিতে শিক্ষকের গবেষণাপত্র থেকে শিক্ষার্থীর চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
সিকৃবিতে শিক্ষকের গবেষণাপত্র থেকে শিক্ষার্থীর চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির (তস্কর) মাধ্যমে গবেষণাপত্র প্রকাশের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য জীববিদ্যা ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন। 

অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই শিক্ষার্থী ড. শামীমা নাসরিনের একটি প্রজেক্টে কাজ করেছেন। 

এ বিষয়ে ড. শামীমা নাসরিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমার এক সহকর্মীর কাছে একটি গবেষণাপত্র রিভিউ করার জন্য পাঠানো হয়। আমি পেপারটি চেক করে দেখি আমার একটি প্রজেক্টের আন্ডারে পূর্বে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রের আইডিয়ার সঙ্গে এই গবেষণাপত্রের কাজ মিলে যাচ্ছে। পাশাপাশি এখানের পাঁচজন গবেষকের মধ্যে দুইজন (মো. জোবায়ের রহমান রনি ও রাসেল মিয়া) আমার পূর্ববর্তী প্রজেক্টে আমার সুপারভিশনে কাজও করেছেন। সেই পেপারটির সঙ্গে এই পেপারের অনেকটাই মিলে যায়। তারা কোন ল্যাবরেটরিতে এই ডাটাগুলা নিয়ে কাজ করেছে, তারও কোনো উল্লেখ নেই। সেই সঙ্গে এই গবেষণার ফান্ডিংয়ে একটা বিশাল গলদ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি তারা সবাই ২০১৯ সালে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপপ্রাপ্ত। ওই সময়টাতেই জোবায়ের ও রাসেল আমার সঙ্গে কাজ করেছিল। তাদের এই গবেষণাটির ডাটাগুলোও যে ম্যানুপুলেটেড, এতেও কোনো সন্দেহ নেই।’

শামীমা নাসরিন আরও বলেন, ‘তাদের নৈতিকতার অবক্ষয়ে আমি মর্মাহত। তারা যদি প্রমাণ করতে পারে তাদের গবেষণাপত্র সঠিক, আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব। কারণ আমি কোনো পক্ষ না। আমি তাদের শিক্ষক। আমি বিষয়টা চেপে যেতে পারতাম, কিন্তু করিনি তাদের ও আগামীর গবেষকদের ভবিষ্যতের জন্য। এদের সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী এতে কোনো দ্বিমত নেই আমার। কিছুদিন পর হয়তো তারা দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে যাবে। তাই আমি চাই না আমার শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে এমন নীতিবিবর্জিত কাজ লালন করুক। তারা যদি তাদের ভুল বোঝে, তা হলে সেটাও অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় হবে। এ ধরনের কাজ করতে আগামীর শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হবে।’

এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সিস্টেমের পরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমরা মৌখিকভাবে অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিনের থেকে ওনার একটি গবেষণাপত্র থেকে চৌর্যবৃত্তির একটি অভিযোগ শুনেছি। তবে ছুটির দিন থাকায় তিনি অফিসিয়ালি অভিযোগ জানাতে পারেননি। উনি অফিসিয়ালি অভিযোগ জানালে আমরা রিসার্চ সিস্টেম থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের এমন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আল মামুন Q2 জার্নালে প্রকাশ হতে যাওয়া ওনার দুটি গবেষণা কাজ উইথড্র করে নিয়েছেন। যেখানে মো. জোবায়ের রহমান রনি ও রাসেল মিয়া নামের অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী তার দলের সদস্য ছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘এমন সদস্যদের নিয়ে আমি কোনো পেপার পাবলিশ করতে চাই না, যারা নৈতিকভাবে এতটাই পিছিয়ে আছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান গবেষক মো. জোবায়ের রহমান রনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখানে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পেপারটিতে কোনো চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নেইনি। এখানের ডাটাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আমাদের দলের গবেষকরা মিলেই করেছি। আমাদের সুপারভিশনে ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমাদের কোনো ডাটাই ম্যানুপুলেটেড নয়। আর এই ডাটা নিয়ে কাজ করতে কোনো ল্যাবরেটরিরও প্রয়োজন হয় না। তাই ল্যাবের কথা এখানে উল্লেখ নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ড. শামীমা ম্যামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। তিনি আমাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বললে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আমরা চাই আমাদের পক্ষ হতে ম্যামকে সম্পূর্ণ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝাতে। তবে আমরা আমাদের অনুষদের ডিন স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি অনুষদের সব শিক্ষককে নিয়ে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি জরুরি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সেখানে আমাদের গবেষণার অথেনটিসিটি প্রমাণ করতে পারব।’

শাকিলা ববি/সাদিয়া নাহার/

ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা
ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেমো রকেট বানানোর ওপর কর্মশালা এবং প্রথমবারের মতো ওয়াটার রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) স্পেসভার্স ১.০ উৎসবে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মহাকাশ ও মহাকাশ অর্থনীতি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আয়োজন ছিল ওই উৎসবে। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্পেসভার্স ১.০ উৎসবের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘খুদে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। যে জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজস্ব উদ্ভাবন রয়েছে, সে জাতিই বিশ্বে সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা মৌলিক গবেষণা ও নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করবে, সেটিই প্রত্যাশা রাখি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সভাপতি মোহাইমিনুল হক মীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ উদ্দীন ভূঁইয়া নবীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইটি সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কাজী মোহাইমিন আস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম
শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
ছবি : খবরের কাগজ

বয়স যতই হোক, প্রিয় ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের সংস্পর্শ যেন সবাইকে সেই শিক্ষার্থীজীবনে ফিরে নিয়ে যায়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই চিত্রই ফুটে উঠেছিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় পুনর্মিলনীতে। 

এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। দলে দলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমিয়েছেন আড্ডা, করেছেন স্মৃতিচারণ, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী-সন্তানরাও। 

শুধু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয় বিভিন্ন দেশ থেকেও এই পুনর্মিলনীতে ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের টানে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তনরা।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি বিল্ডিংয়ের সামনে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) দুই দিনের এই মিলনমেলাকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। 

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং সব শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। 

দ্বিতীয় দিন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সবশেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও ভয়েজ অব মাইলসের কনসার্টের মাধ্যমে শেষ হয় মিলনমেলা।

অর্থনীতি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন খুশবু বলেন, ‘আমাদের এই পুনর্মিলনীতে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য অ্যালামনাই অংশ নিয়েছেন। আমাদের এ মিলনমেলায় সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শাবিপ্রবি অর্থনীতি সমিতির সকল সদস্যদের।

এ ছাড়াও যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে পুনর্মিলনী সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

পুনর্মিলন উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাকিম বলেন, ‘অনেকদিন পর আমার সিনিয়র, সহপাঠী, জুনিয়র এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আমার অনেক পুরনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। যা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

পুনর্মিলনীকে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন বলে মনে করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘এই পুনর্মিলন বিভাগ ও শিক্ষার্থী সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান চাকরির বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এখান থেকে পড়ালেখা শেষে কর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। তারা এখান থেকে বের হয়ে যদি জানতে পারে সিনিয়ররা কে কোথায় আছেন তাহলে তারা তাদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং সাহায্য চাইতে পারে। এই পরিচয়টা ঘটানোর জন্য পুণর্মিলন আয়োজন করা দরকার’

ইসফাক আলী/অমিয়/