ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

গুচ্ছ ভর্তির আবেদন ৩ লাখ ছাড়িয়েছে, পছন্দের শীর্ষে জবি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৯ পিএম
গুচ্ছ ভর্তির আবেদন ৩ লাখ ছাড়িয়েছে, পছন্দের শীর্ষে জবি
ফাইল ফটো

দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। এবার মোট তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৬টি আবেদন জমা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে শীর্ষে রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

শনিবার (২ মার্চ) এসব তথ্য জানিয়েছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার।

উপাচার্য অধ্যাপক নাছিম আখতার জানান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হয়েছে। এবার মোট তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৭০ হাজার ৫৯৯টি, মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে ৯৪ হাজার ৬৩১টি ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ‘সি’ ইউনিটে ৪০ হাজার ১১৬টি আবেদন জমা পড়েছে। 

তিনি আরও জানান, ‘আবেদনকারীদের মধ্যে শুধুমাত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র হিসেবে পছন্দ করেছেন ৯০ হাজার ৮৪১ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৫৩ হাজার ৮৩২ জন, ‘বি’ ইউনিটে ১৯ হাজার ৭৭০ জন, ‘সি’ ইউনিটে ১৭ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। যা মোট আবেদনকারীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ।’

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা এক মিনিট থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে ভর্তির আবেদন চলাকালীন কারিগরি ত্রুটির কারণে একদিন আবেদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ভর্তিচ্ছুদের সুবিধার্থে আবেদনের সময়সীমা একদিন বাড়ানো হয়।

এদিকে গুচ্ছ ভর্তিতে প্রাথমিক আবেদনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে ভর্তি কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত সমন্বিত ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘এবছর আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। নতুন করে এখন আর আবেদনের সময় বাড়ানো হবে না। এখন আমরা পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করবো।’

আগামী ২৭ এপ্রিল শনিবার (এ ইউনিট-বিজ্ঞান), ৩ মে শুক্রবার (বি ইউনিট-মানবিক) এবং ১০ মে শুক্রবার (সি ইউনিট-বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টা থেকে ১টা এবং অন্য দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ঠিক করা হয়। তন্মধ্যে শিক্ষার্থীদের যেকোনো একটি কেন্দ্র নির্বাচন করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করতে পারবে না বলেও কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ভর্তি পরীক্ষার সকল তথ্য গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে (https://gstadmission.ac.bd) পাওয়া যাবে।

এর আগে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তিনটি ইউনিটে সর্বমোট তিন লাখ তিন হাজার ২৩১টি আবেদন জমা পড়ে।

গুচ্ছভুক্ত ২৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুলনা), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (দিনাজপুর), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (টাঙ্গাইল), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোয়াখালী), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুমিল্লা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যশোর), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবনা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (বরিশাল), রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাঙ্গামাটি), রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (সিরাজগঞ্জ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (গাজীপুর), শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় (নেত্রকোনা), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পটুয়াখালী), কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কিশোরগঞ্জ) এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁদপুর), সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুনামগঞ্জ) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পিরোজপুর)

মুজাহিদ বিল্লাহ/জোবাইদা/অমিয়/

জবিতে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
জবিতে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সহকারী ইমাম শেখ মো. সালাহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র পেশ ইমাম ও খতিব মো. ছালাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, এবার ছুটিতে থাকায় সহকারী ইমাম নামাজ পড়াবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী যারা আছেন তারা নামাজ পড়তে আসেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা থাকবেন কি-না বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। কিন্তু গত বছর কোষাধ্যক্ষ ঈদের জামাত এখানে আদায় করেছিলেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুজাহিদ/সালমান/

হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী রাব্বী

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী রাব্বী
ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বী। ছবি : সংগৃহীত

হলে সিট ফেরত পাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বী। তার সিট বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। রাব্বীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৮ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে হলে রাব্বীর সিট ফেরত পেতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। শুনানিতে রাব্বীর পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। 

বুয়েটে গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় দফা দাবিতে পরদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বন্ধ থাকে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও বহিরাগত কিছু নেতা-কর্মী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান। ক্যাম্পাসে ‘বহিরাগতদের’ প্রবেশ ও রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন; যিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তাই তাকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তার সহযোগীদেরও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বীর হলের সিট বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। গত ৩০ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বুয়েট প্রশাসন।

ছাত্রলীগের পক্ষে রিট করে হাইকোর্টের নির্দেশে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফেরানো হয়। এরপর হলের সিট বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন রাব্বী। রিটের শুনানি শেষে রাব্বীর পক্ষে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট। 

ঢাবিতে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, বুয়েটে সোয়া ৭টায়

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৯ পিএম
ঢাবিতে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, বুয়েটে সোয়া ৭টায়
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

সোমবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় দুটির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ঢাবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন প্রধান খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদ এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় ঈদের পৃথক দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খোলা মাঠে নামাজের জামাতের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ জারি করলে কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে খেলার মাঠের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বলা হয়, প্রথম জামাত বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত বকসি বাজার বায়তুস সালাম মসজিদে সকাল ৮টায় এবং আজাদ আবাসিক এলাকা মসজিদে সকাল ৮টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাতে আসতে অনুরোধ করা হয়। 

আরিফ/সালমান/

সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে  রাবিতে ইফতার

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৭ পিএম
সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে  রাবিতে ইফতার

মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাস এলে সবাই রোজা রাখার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দৈনন্দিন কার্যাবলির সময়সূচির মধ্যেও পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ মাসে বিকেল থেকেই ইফতারের জন্য বিভিন্ন আয়োজন শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরাও বিকেল থেকে ঠিক একই আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে শহরে বা গ্রামের নিজ বাড়িতে ইফতারের যে আয়োজন করা হয় তার থেকে ক্যাম্পাসের আয়োজন কিছুটা ভিন্ন।

বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করলেও ক্যাম্পাসে এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের মানুষ। এখানে একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্প্রীতির বন্ধনে সম্পর্ক হয়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের। কিন্তু এই সম্প্রীতির বন্ধনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি। এ কারণে সবাই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিতে পারছেন না। কেউ কেউ খরচ বহন করতে না পেরে ইফতার করছেন মসজিদেও।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, শহিদ হবিবুর রহমান হল মাঠ, শেখ রাসেল মাঠ, জুবেরি মাঠ, সাবাস বাংলাদেশ মাঠ, শাহ্ মখদুম হল মাঠসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গ্যালারি কক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন, বিভাগ, ব্যাচ ও বন্ধুদের ইফতার। জানা যায়, প্রত্যেকটি হলের কক্ষ ও ছাদেও মিলেমিশে ইফতার করেন শিক্ষার্থীরা। মেয়েরাও সিনিয়র-জুনিয়র মিলে নিজ নিজ হলে ইফতার করেন। এদিকে মেসে ও বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। বিকাল হলেই তারা ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতারির এমন চিত্র জানান দেয় শিক্ষার্থীদের  সম্প্রীতি ও বন্ধনের কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান, একসঙ্গে ইফতার করার অনেক আনন্দ থাকলেও বিপত্তি বাধে ইফতারসামগ্রী কিনতে গিয়ে। আকাশছোঁয়া দামে মনমতো কিছুই কিনতে পারেন না তারা। শুধু মুড়ি, ছোলা, জিলাপি, পিঁয়াজুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের।

বন্ধুদের সঙ্গে শহিদ মিনার চত্বরে ইফতার করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করলে রোজার মাসে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে না পারার অপূর্ণতা আর থাকে না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে ইফতার করলে মনে হয় পরিবারের সঙ্গেই আছি। তবে সবকিছুর দাম বেশি হওয়ার কারণে আশানুরূপ ইফতার করতে পারি না।

ইফতারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। নাম না প্রকাশ করে আরেক শিক্ষার্থী জানান, আমার বন্ধুবান্ধবরা একসঙ্গে ইফতার করলেও তাদের সঙ্গে আমি সবসময় থাকতে পারি না। যেখানে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে আমি প্রতি বেলার খাবার খাই, সেখানে ইফতার করতেই শতাধিক টাকা চলে যায়। তাই মাঝে মাঝে একাই হালকা খাবার দিয়ে ইফতারি করি অথবা আশপাশের মসজিদে চলে যাই।

ইফতারের নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন মেয়েরাও। বিকাল হলেই শুরু হয় তাদের প্রস্তুতি। ইফতার আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রিয়া বলেন, আশপাশের কক্ষের শিক্ষার্থী অথবা বান্ধবীদের সঙ্গে ইফতার করেন তিনি।

জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ার কারণে হলেই ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি তৈরি করেন তারা। সবসময় তাদের ফলমূল খাওয়া হয় না। তবে সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোড়দার করছেন।

কলি

স্মৃতিতে কমলা রঙের বাস

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ পিএম
স্মৃতিতে কমলা রঙের বাস

ভর্তির আগে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল, নীল, সাদা, কমলা ইত্যাদি রঙের বাসের প্রেমে পড়েন। তৈরি হয় বাসের প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা। তেমনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কমলা রঙের বাস, যাকে সবাই কমলা সুন্দরী বলে ডাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের চার বছর কাটে এই বাসের সঙ্গে। এই বাস ঘিরে তৈরি হয় তাদের কত স্মৃতি, গড়ে ওঠে সম্পর্ক, তৈরি হয় বন্ধুত্ব। ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসার বাসযাত্রার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনেক আবেগ, রোমাঞ্চগাথা স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবদারু কিংবা বিজয় সড়ক সংলগ্ন কৃষ্ণচূড়া রোডে চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায় কমলা রঙের বাসগুলো। সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের এই আনন্দ বলে দেয় কমলা সুন্দরী তাদের কত আপন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বাস পাঁচটি রুটে চলাচল করে। প্রতিটি রুটে বাসের রয়েছে আলাদা নাম ও নম্বর। নামগুলো হলো-একুশে, তিস্তা, শতরঞ্জি, শ্যামাসুন্দরী, জলেশ্বরী, পদ্মরাগ ও চর্যাপদ।

প্রায় সময়ই বেরোবির শিক্ষার্থীরা কমলা সুন্দরীতে বন্ধুবান্ধব মিলে শহরে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের  কেউ টিউশনি, কেনাকাটা, অন্যান্য  কাজের জন্য কমলা বাসে নানা গন্তব্যে ছোটেন। ওই সময় বাসে ওঠা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। কেউ আগে এসে ব্যাগ বা খাতা দিয়ে জায়গা ধরে রাখেন, আবার কেউ তার সহপাঠীর জন্য আগে থেকে বসে থাকেন। এসবের মধ্যেও যেন আলাদা  ভালো লাগা ও আনন্দ রয়েছে।

কমলা সুন্দরী শুধু শিক্ষার্থী বহন করে না। স্বপ্নও ফেরি করে বেড়ায়। যখন বাসগুলো রংপুর শহরের রাস্তাঘাটে চলাচল করে তখন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। সারা দিন ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্টের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ফেরার এক বিশ্বস্ত মাধ্যম কমলা সুন্দরী।

কলি