চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) অপারেশনের চুক্তি হচ্ছে সৌদি কোম্পানি রেডসি গেটওয়ের সঙ্গে। আগামী ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ চুক্তি সম্পাদন হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সাইনিং মানি হিসেবে বন্দরকে ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে রেডসি গেটওয়ে।
চুক্তি অনুযায়ী, অপারেশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২২ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
এ চুক্তির মাধ্যমে পতেঙ্গায় নবনির্মিত কনটেইনার টার্মিনালে অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সৌদি কোম্পানি রেডসি গেটওয়ে টার্মিনালকে। এ কাজ করতে সাইনিংয়ে ২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হওয়ার কথা ছিল আগে থেকেই। সব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী মার্চ মাস থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল কাজ শুরু করবে রেডসি গেটওয়ে। বন্দর থেকে ইক্যুইপমেন্ট ভাড়া নিয়ে আপাতত অপারেশনাল কাজ চালু করবে সৌদি এই কোম্পানি।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘রেডসি গেটওয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে পিসিটি। আগামী ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।’
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০ মিলিয়ন ডলারের বাইরেও বার্ষিক আড়াই লাখ ডলার দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া হ্যান্ডলিং করা প্রতিটি কনটেইনারের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট ফি দেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রতি কনটেইনারে কত টাকা দেবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সঙ্গে। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে এই ফি।
গত ২৯ অক্টোবর সৌদি প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। এই প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এবার তাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন হচ্ছে। নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে আগামী মার্চ মাস থেকে চালু হবে চট্টগ্রাম বন্দরে নবনির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। তবে এ ক্ষেত্রে বন্দর থেকে কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে কাজ চালাতে পারে কোম্পানিটি।
জানা গেছে, ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকায় নির্মিত এই টার্মিনালে একই সঙ্গে ২০০ মিটার দীর্ঘ ১০ মিটার ড্রাফটের তিনটি কনটেইনার ও একটি তেলবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে এবং সাড়ে ৪ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে এ জেটিতে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথরিটি পদ্ধতিতে অপারেশনের কাজ করবে আরএসজিটি। এ প্রকল্পে ৫৮৩ মিটারের কনটেইনার টার্মিনালে তিনটি জেটি, ২০৪ মিটারের ডলফিন জেটি, ৮০ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার চারলেন রাস্তা রয়েছে। পিসিটি পুরোপুরি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়বে বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস।
বন্দর কর্তৃপক্ষ গঠিত কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক কমডোর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই চুক্তি হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে রেডসি গেটওয়ে টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বার্ষিক আড়াই লাখ ডলার দেবে। এর বাইরে প্রতি কনটেইনারে একটি ফি আমাদের দিতে হবে। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে এ ফির পরিমাণ। চট্টগ্রাম বন্দর ও রেডসি গেটওয়ে টার্মিনাল এ দুপক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি হচ্ছে।’
আবদুস সাত্তার/পপি/অমিয়/