ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

সুনামগঞ্জের প্রথম নারী এমবিবিএস, 'লেডি ডাক্তার' যুগের অবসান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৩২ এএম
সুনামগঞ্জের প্রথম নারী এমবিবিএস, 'লেডি ডাক্তার' যুগের অবসান
ডা. সালেহা খাতুন

‘লেডি ডাক্তার’খ‍্যাত সুনামগঞ্জের প্রথম নারী এমবিবিএস চিকিৎসক ও সিলেটের মাতৃমঙ্গল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাকালীন চিকিৎসক ডা. সালেহা খাতুন (৮৮) আর নেই। গত বুধবার রাতে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় নিজ বাসায় মারা যান তিনি। গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।

সিলেটের এই প্রবীণ নারী চিকিৎসকের জীবন অবসানের মধ্য দিয়ে একটি যুগের পরিসমাপ্তি ঘটল। তিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন পূর্ববঙ্গে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৬ নভেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমায় জন্ম নেন। তার বাবা ছিলেন একজন পাবলিক সার্ভেন্ট। ডা. সালেহা খাতুনের কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রাম সরকারি মেডিকেল হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ম্যাটার্নিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য দপ্তরে। তবে তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ কেটেছে সিলেটের মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল কমপ্লেক্সে (রেডক্রিসেন্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র)।

স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে নারী চিকিৎসকের স্বল্পতা যুগে সিলেট শহরে তিন-চারজন ‘লেডি ডাক্তার’ই ছিলেন সন্তানসম্ভবা মা ও নারী রোগীদের স্বস্তি ও নির্ভরতার স্থল। তার ছেলেমেয়েদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যেই যাপিত ছিল জীবনের অন্তিম বছরগুলো।

ডা. সালেহার স্বামী এ কে সামস ছিলেন স্বাধীনতাপূর্ব ষাটের দশকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ‍্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিআই, ইউকে) চিফ অ‍্যাডভাইজার ও ফরমার চেয়ারপারসন শাহগীর বখত তার বড় বোন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত তার চাচাতো ভাই।

সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:২০ পিএম
সিলেটে বন্যা: পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলাজুড়ে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন পানিবন্দি হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে সর্বশেষ এ তথ্য জানায় সিলেট জেলা প্রশাসন।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলেটের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সিলেটের ছয়টি উপজেলায় তিনটি নদীর পানি ছয় পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এদিকে আজ সিলেট বিভাগে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সতর্কবার্তায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটে আজ সকাল থেকে ভারি ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা আরও পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) মধ্যরাতে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, এ সময় পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর ২১টি ওয়ার্ড ও জেলার ১২৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার এক হাজার ৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

অপরদিকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়িতে। অনেকেই সড়কের পাশে ট্রাক, পিকআপে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খুবই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

এই বন্যা পরিস্থিতিতে আজ সিলেটে আসছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুল ইসলাম। তিনি দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরীর মিরাবাজারে কিশোরী মোহন বালক উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হন। সেই বন্যা সড়ক, মহাসড়ক, ঘরবাড়ির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবার বন্যা আক্রান্ত হলেন সিলেটবাসী।

শাকিলা ববি/অমিয়/

মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
মৌলভীবাজার পৌরশহরে সৈয়ারপুর এলাকার পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যা দেখা দিচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সদরসহ সাতটি উপজেলা গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। পানিবন্দি অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।

বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়ি ডুবে গেছে। ফলে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ও ফহেতপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়াও কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় কুশিয়ার নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকায় ভারি বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ধলাই নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমা ৩৪ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় মনু নদের পানি ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বন্যায় ইতোমধ্যে উপজেলার ৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুড়ীতে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈম জানান, উপজেলার ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, রাজনগরে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্তা নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার সদরসহ রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যাকবলিতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তিনি বলেন, জেলার বন্যাকবলিত উপজেলার ইউএনওদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

পুলক পুরকায়স্থ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দিল স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দিল স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২০২৪ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে তরুণদের সংগঠন স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। 

রবিবার (১৬ জুন) সকাল ১০টায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ইমনের সভাপতিত্বে আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাহফুজুর রহহমান মিতা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন আবুল কাসেম হায়দার কলেজের অধ্যক্ষ মো. হানিফ, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম মোহাম্মদ, লেখক ও প্রাবন্ধিক কবি কাজী শামসুল আহ্সান খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ নোমান, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উপদেষ্টা মাঈন উদ্দীন ভূঁইয়া, স্বর্ণদ্বীপ হাসপাতালের ম্যানেজার আকবর হোসেন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান তানিন, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ওসমান গণি প্রমূখ।

এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, ‘মেধাবীরাই আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ক্ষেত্রে যেভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছ, তার সঙ্গে যদি নৈতিকতার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জন করতে না পার, তাহলে এ মেধা দেশ ও জাতির কল্যাণে লাগানো যাবে না।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান বলেন, স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের চমৎকার অনুষ্ঠানের মূল কৃতিত্ব ফেয়ার পলি লিমিটেডের। দেশের এই ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমাদের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে অর্থায়ন করেছেন।

আলোচনা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন।

অমিয়/

গায়েহলুদ শেষে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:২৯ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০২:২৯ পিএম
গায়েহলুদ শেষে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের
নিহত নাছির ভূইয়া ও মুকসেদ গাজী

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গায়েহলুদ শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বেসনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে হয়। 

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের হাসান ভূইয়ার ছেলে নাছির ভূইয়া (২৫) ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের দ্বীন ইসলামের ছেলে মুকসেদ গাজী (২৬)। নিহত দুজন সম্পর্কে বিয়াই।

এ দুর্ঘটনায় আহত সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

নিহত মুকসেদের ভাই জমসেদ গাজী জানান, রাতে সদর উপজেলার শিলই এলাকায় একটি গায়ে হলুদ শেষ দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জন ঘুরতে বের হয়। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল যাওয়ার পথে বেসনাল এলাকায় পৌঁছালে মুকসেদ ও সোহাগকে নিয়ে চালকের আসনে থাকা নাছির মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় মোটরসাইকেলটি দ্রুত গতিতে পাশের দেওয়াল ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুকসেদের। অন্য দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় নাছিরের।

গুরুতর আহত সোহাগকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

দিঘীরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আনসার জানান, নিহতদের মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মঈনুদ্দিন/অমিয়/

শেরপুরে হুহু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
শেরপুরে হুহু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
ছবি: খবরের কাগজ

হুহু করে বাড়ছে শেরপুরের মহারশী, সোমেশ্বরী, ভোগাই, চেল্লাখালী, মৃগী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। তবে এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, টানা দুইদিনে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রতিটি খাল-বিল ও জলাশয় কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে, এখনো পানি লোকালয়ে না আসলেও চলমান বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শেরপুর সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সোমবার (১৭ জুন) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে শেরপুরসহ আশেপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। 

বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অরক্ষিত এই বাঁধ ভেঙে উপজেলা সদর বাজারসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে, মৃগী নদীর পানি বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় কলাচাষি ও মাছচাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর নিম্নাঞ্চলে ধীর গতিতে উঠতে শুরু করেছে পাহাড়ি ঢলের পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘জেলার প্রায় সবগুলো নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।’

শাকিল মুরাদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/