ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে। বেঁচে থাকলে খুশি হতো। কিন্তু নিজের ফল দেখে যেতে পারল না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! সারা জীবন এই কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে। রেজাল্টের খবর পেয়ে আনন্দের বদলে অন্তরটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে খবরের কাগজকে কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত শেখ শাহরিয়ারের বাবা শেখ আবদুল মতিন।
তিনি বর্তমানে তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে শেখ মুনতাহিনাকে নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমড়াশাসন উত্তরপাড়া গ্রামে।
পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে শাহরিয়ার ছিলেন বড়। তিনি সিলেটের ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত রেজাল্টে শাহরিয়ার পেয়েছেন জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩। এ খবরে উচ্ছ্বাসের বদলে বিষাদের ছায়া পড়ে তার পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে।
শাহরিয়ারের বাবা শেখ আবদুল মতিন বলেন, ‘ছেলে আমার আগে দুনিয়া থেকে বিদায় নিল। যখন এ কথা মনে হয়, চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। আমার বংশের প্রদীপ নিভে গেছে। ছেলে হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’
ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘শাহরিয়ার মেধাবী ছাত্র ছিল। সে পাঁচটি পরীক্ষা দিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকার পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেটা বাতিল হয়ে যায়। বাতিল পরীক্ষার ফল এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিষয় ম্যাপিং করে প্রকাশ করা হয়। এতে শাহরিয়ার মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু ফল আসার আগেই সে নিহত হয়।’
শাহরিয়ারের স্বজনরা জানান, বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি ঢাকার কুড়িল কুড়াতলী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ১০ জুলাই ঢাকায় মায়ের কাছে চলে যান শাহরিয়ার। পরে মিরপুর-২ নম্বরে খালার বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। পরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে খালাতো ভাইসহ গুলিবিদ্ধ হন শাহরিয়ার। তার ডান চোখের পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে মস্তিষ্ক ছেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিন সাত্তার বলেন, ‘শাহরিয়ারের রেজাল্ট দেখেছি। শুনেছি তার পরিবারের লোকজন ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছেন।’