কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক নাদিম মিয়ার (২৬) বাড়িতে ১৭ অক্টোবর থেকে অবস্থান নিয়েছেন প্রেমিকা আফরিন বেগম (১৮)। আর প্রেমিকা আসার খবরে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন প্রেমিক।
ঘটনাটি ভৈরব শহরের চণ্ডিবের উত্তরকান্দা পাড়ার।
নাদিম মিয়া ওই এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে। আফরিন বেগমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মাইজপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর ধরে নাদিমের সঙ্গে অফরিনের প্রেমের সম্পর্ক। হঠাৎ নাদিম যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নাদিমের পরিবার বিয়ের আশ্বাস দিয়েও টালবাহানা শুরু করলে আফরিন এই সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, ‘একটি অবিবাহিত মেয়ে অনেক দিন ধরে ছেলের বাড়িতে আছে। এটা কোনো স্বাভাবিক বিষয় না। আমরা সামাজিকভাবে এটি সমাধান করতে পারিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া জানান, ‘ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) স্যার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিষয়টির সমাধান করতে। ইউএনও স্যার তাদেরকে ২৩ অক্টোবর দুপুর ১২টার মধ্যে বিয়ে দিয়ে দিতে বলেছিলেন। আমি স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে যাই; কিন্তু ছেলের পরিবার প্রথম দিকে বিয়ের সম্মতি দিলেও এখন হঠাৎ করে অসম্মতি জানাচ্ছে এবং আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিজেই আতঙ্কে রয়েছি।’
নাদিম মিয়ার বাবা শাহজাহান মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে দুই মাস ধরে ছেলের যোগাযোগ নেই। মেয়েটি পরিকল্পিতভাবে় আমাদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। মেয়ের পরিবার আমার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছে। স্থানীয় দুষ্কৃতকারী আমার জমি কেড়ে নিতে মেয়েটিকে এখানে পাঠিয়েছে।’
মেয়ের বাবা আলমগীর মিয়া বলেন, ‘আমি নিরুপায়। কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। কোনো সমাধান না পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এখন ছেলের বাবা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।’
এ বিষয়ে নাদিমকে একাধিকবার কল করলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, ‘আমি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় মেয়ের বাবাকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে বলেছি।’
সুমন বিশ্বাস/অমিয়/