চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আকতার বায়েজিদ থানার ওসি, দুই এসআই ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিজের ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ আনেন।
ইতোমধ্যে এই অভিযোগে ৬ জনকে আসামি করে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলাও করেছেন। মামলাটি গত ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা হলেও প্রকাশ্যে আসে রবিবার (২৬ জানুয়ারি)।
মামলায় আসামিরা হলেন, বায়েজিদ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান (৪৬), উপ-পুলিশ পরিদর্শক জগৎজ্যাতি দাস (৪১), মনিরুল ইসলাম (৪০), বায়েজিদ থানার পুকুরপাড় খন্দকার পাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে সরোয়ার প্রকাশ বাবলা (৩৫), হাটহাজারী থানার পশ্চিম কোয়াইশ এলাকার মাহবুবুল আলমের ছেলে জাবেদ প্রকাশ ভাগিনা জাবেদ (৩১), চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার আনিকা ইসলাম মনি (৩০)।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৫ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৪টায় মো. সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করতে বায়েজিদ থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় যায়। এসময় তাদের সঙ্গে আইন বহির্ভূতভাবে ১০ মামলার পলাতক আসামি সন্ত্রাসী জাবেদ প্রকাশ ভাগিনা জাবেদ বাদীর ঘরে প্রবেশ করে এবং বাদী শারমিন আকতারকে পুলিশের সামনেই মারধরে করে। এসময় কোনো মহিলা কনস্টেবল ছাড়াই সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিনকে আটক করা হয়। এসময় এসআই মনিরুল ইসলাম মামলার জব্দ তালিকা করার সময় বাদীর একটি আইফোন, একটি স্যামসাং ফোন ও পাসপোর্ট জব্দ করে কিন্তু তা জব্দ তালিকায় উল্লেখ করেনি। এসময় আসামিরা শারমিনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তলপেটে লাথি দেয়। এ মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর ১৫(১)/ ১৫(৩)/ ১৫(৪) অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, থানার ওসি শারমিনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং পুলিশের উপ পরিদর্শক জগৎজ্যোতি দাস বাদীকে তলপেটে লাথি মারেন। এতে বাদীর ৩ মাসের অন্তসত্বা মহিলা হওয়ায় নির্যাতনের একপর্যায়ে তার যৌনাঙ্গ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে বিনা চিকিৎসায় থানা হেফাজতে নিয়ে যান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাদীকে আদালতে উপস্থাপন করার বিধান আইনে উল্লেখ থাকলেও পুলিশ তা না করে বাদীকে দুই দিন থানায় অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়। ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় অর্থাৎ আটকের দীর্ঘ ৩৯ ঘণ্টা পর বিনা চিকিৎসায় তাকে বায়েজিদ থানার ১৩ (১২)২৪, জি আর নং-৪৭৩/২৪ মামলা মূলে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী শারমিন আকতারের বলেন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ৮ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিন দেন। জামিন পেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন তার গর্ভের শিশুর ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গেছে। শারমিনের অভিযোগ, পুলিশী নির্যাতনে তার গর্ভে থাকা শিশু মারা গেছেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক খবরের কাগজকে বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দাখিল করি। আদালত মামলাটি কখন করে বাদীর জবানবন্দি নিয়েছেন এবং আদেশের জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
জানতে চাইলে বায়েজিদ থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই। বক্তব্য হচ্ছে, যারা খুনি, যারা খুন করবে, অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করবে, সন্ত্রাস করবে তাদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নাই। তাদের বেলায় কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। আমি আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করিনা।
মনির/মাহফুজ