১৫ বছরের রুমা আক্তার রোকেয়া রাজধানীর একটি বাসায় কাজ করতেন। পাঁচ বছর আগে একদিন একা রাস্তায় বের হওয়ার পর সেই বাসাটি আর খুঁজে পায়নি। খুঁজে পায়নি তার মাকেও।
একদিন পুলিশ তাকে ঢাকার অপরাজেয় বাংলাদেশের শেল্টার হোমে দিয়ে যায়। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। শুধু রোকেয়া না, শেল্টার হোমে থাকা প্রিয়া, ফাতেমাসহ ২৭টি শিশুর ঈদ কাটবে মা-বাবার ভালোবাসা ছাড়াই। তাদের ঈদের আনন্দ সীমিত, অন্য সব শিশুদের মতো তাদের জুটে না নতুন পোশাক ও মুখরোচক খাবার। কেউ যদি উপহার দেয় তবেই পোশাক পায় তারা, অন্যথায় অন্য দশটি দিনের মতোই হয় তাদের ঈদের দিন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের জেলরোড়ের আনসার ক্লাব ভবনে অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) অপরাজেয় বাংলাদেশের আদ্রিতা শেল্টার হোমে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শেল্টার হোমের দেওয়ালে শিশুদের আঁকা বিভিন্ন দৃশ্য, ফুল, ফলের ছবি শোভা পাচ্ছে।
রোকেয়ার মতোই প্রিয়ার গল্প। কীভাবে হারিয়ে গেছে তাও তার জানা নেই। নগরের একটি থানা থেকে তাকে পুলিশ অপরাজেয় বাংলাদেশে দিয়ে যায়। প্রিয়া নামটাও শেল্টার হোমের লোকজনেরই দেওয়া। বাকপ্রতিবন্ধী রাসেল ২০২২ সালে শেল্টার হোমে আসেন। শরীফও ২০২২ সালে হারিয়ে গেছে নাকি তার আগে তা জানে না। বন্দর থানা থেকে তাকে সেখানে দিয়ে যায় পুলিশ।
মিরাজ নামে একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ৬ বছর বয়স থেকে তিনি অপরাজেয় বাংলাদেশে বড় হয়েছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে।
অপরাজেয় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জোনের ইনচার্জ জিনাত আরা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রথমেই একজন শিশুকে মোটিভভেশনাল কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করি সে কোনো ঠিকানা বলতে পারছে কি না। বলতে পারলে সেখানের গণমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবা, থানার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি।
এ ছাড়াও শিশু হেল্প লাইন ১০৯ এবং ওই স্থানের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুর পরিবারকে খুঁজে বের করি। আর ঠিকানা বলতে না পারলে এখানে রেখে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে বড় করি। তাদের দেখাশোনার জন্য ২ জন শিক্ষক, হাউস মাদার আছেন। বর্তমানে শেল্টার হোমটিতে ২৭ জন শিশু আছে। এর মধ্যে ১১ জন মেয়ে। আর ১৬ জন ছেলে। তন্মধ্যে আবার ৪ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী। আসছে ঈদে কোনো ব্যক্তি এখনো ঈদের পোশাক দেয়নি। ঈদের দিন আমরা নিজ উদ্যোগে সেমাই, নুডলস, হালিমসহ নানা ধরনের খাবার তৈরি করি। এ ছাড়াও তাদের নিয়ে নগরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে নিয়ে যাই।’