চায়ের রাজ্যে মৌলভীবাজার। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীববৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সেই কবেই। প্রতিবছর ঈদ কিংবা সরকারি ছুটিতে তাদের পদচারণা যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
প্রতিদিনের একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলতে প্রকৃতির মাঝেই সুন্দরভাবে কয়েকটা দিন কাটিয়ে দেওয়া-এমনটাও থাকে অনেকের উদ্দেশ্য। তাইতো ইট পাথরের শহর ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে প্রশান্তি খুঁজছেন তারা।
ঈদের চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ও পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার চায়ের দোকান, ছোট বড় রেস্টুরেন্টে ভীড় দেখা যায়।
দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: খবরের কাগজ
এছাড়াও বধ্যভূমি ৭১, চা কন্যার ভাস্কর্য, ভাড়াউড়া চা বাগান, বিটিআরআই রাধানগর, মনিপুরী পাড়ায় পর্যটকরা ভীড় করেছেন। শ্রীমঙ্গল শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের। তাছাড়া চাঁদের গাড়িখ্যাত জীপগাড়িগুলো নিয়ে পর্যটকদের উল্লাস করতেও দেখা গেছে।
এদিকে বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫ শত ৩৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
শ্রীমঙ্গলে ঘুড়তে আসা সামিয়া রহমান নামের একজন পর্যটক বলেন, চা বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম চা বাগানে আসা। যেদিকে যাচ্ছি ভালো লাগছে। এখানে এসে ভালো সময় কাটলো।
ছবি: খবরের কাগজ
পারভেজ ও জাহেদ নামের আরও দু’জন পর্যটক বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আনারস খাচ্ছি, চা বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেক কিছু দেখার আছে শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার চামুং রেস্টুরেন্টের পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ঈদ উপলক্ষে স্থানীয়দের ভিড় ছিল দুইদিন। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটকরা আসছেন। আশা করছি এই ঈদের ছুটিতে ভালো বেচাকেনা হবে। ঈদের ৪র্থ দিনেও প্রচুর পর্যটক এসেছে বলেও জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর এন্ড ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, ঈদের চতুর্থ দিন শহরের কিছু হোটেল ছাড়াও ছোট বড় সব রিসোর্টেই বুকিং।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানান, এ ঈদে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। তবে ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সবময়েই বেশি হয়ে থাকে।
তিনি জানান, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫ শত ৩৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থান নজরদারিতে রাখছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারেন আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।
জানা গেছে, পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলা কমলগঞ্জ। এ উপজেলায় রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, প্রাণ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ আদমপুর বনবিট। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোনো ভ্রমণপিপাসুদের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে প্রকৃতির অপার মহিমায়।
পাশাপাশি মণিপুরি, খাসিয়া, গারোসহ শত নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সবাইকে আকর্ষণ করে, বিশেষ করে মণিপুরি শাড়িসহ তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো নজরকাড়ে এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুদের।
পুলক পুরকায়স্থ/মাহফুজ